একাদশ কংগ্রেস সামনে রেখে মৌলভীবাজারে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তুতি সভা

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬

একাদশ কংগ্রেস সামনে রেখে মৌলভীবাজারে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তুতি সভা

Manual2 Ad Code
  • নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি নুর আহমদ বকুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির একাদশ কংগ্রেস সফল করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, নতুন প্রাথমিক সদস্য অন্তর্ভুক্তি, পুরোনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে মৌলভীবাজারে জেলা শাখার এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেন, জনগণের ন্যূনতম নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড তাপস ঘোষ।

সভায় দলের সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কমরেড নুর আহমদ বকুল। এ সময় নতুন প্রাথমিক সদস্য অন্তর্ভুক্তি, পুরোনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্যদের মধ্য থেকে নতুন সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠেয় দলের একাদশ কংগ্রেস সফল করতে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সিকান্দার আলী, পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর নেতা কমরেড আব্দুল আহাদ মিনার, জেলা শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড আফরোজ আলী এবং জেলা শাখার সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমরেড সন্তোষ দে, কমরেড আবু সাইদ, কমরেড বাপ্পি দেসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুর আহমদ বকুল বলেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সন্ত্রাস, মব নৈরাজ্য, হত্যা, ধর্ষণ, বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি দখল এবং রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার মতো ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু নাগরিক নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করে না, বরং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাকেও বাধাগ্রস্ত করে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং সংবিধান স্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকেরা নিয়মিত কর প্রদান করেও প্রত্যাশিত সেবা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তাঁদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সংঘাতের দিকে না নিয়ে গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর চূড়ান্ত চাপ বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

নুর আহমদ বকুলের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে সচল রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রাখা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অযথা চাপে না পড়ে।

দ্রব্যমূল্য, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরে নুর আহমদ বকুল বলেন, এসব সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে সীমিত আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা এবং উৎপাদনব্যবস্থা সচল রাখার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে জনমনে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক সংকটকে কেবল বাজারদরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও মানুষের মৌলিক জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়। তিনি এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন শক্তি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বিশেষভাবে দক্ষিণপন্থী মৌলবাদী শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসব শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

নুর আহমদ বকুল বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধ ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় দমন-পীড়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্যোগ, আলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তাঁর মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে। তাই সংকট মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

‘অপারেশন দমন’ ও সাইবার আইন নিয়ে সমালোচনা

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় দমনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করে নুর আহমদ বকুল বলেন, স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের পথে অগ্রসর হয়ে ‘অপারেশন দমন’ কিংবা সাইবার আইনের নামে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে সরকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দমনমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, তবে সেই পদক্ষেপ অবশ্যই আইনানুগ হতে হবে এবং নাগরিক অধিকারকে সম্মান করতে হবে।

তাঁর বক্তব্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দমনমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Manual4 Ad Code

রাশেদ খান মেননসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন নুর আহমদ বকুল। একই সঙ্গে দলের নেতা কমরেড ফজলে হোসেন বাদশাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

Manual3 Ad Code

তিনি রাজনৈতিক বিরোধ ও মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সিকান্দার আলী বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধানে রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার তাগিদ

সভায় বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব নৈরাজ্য, হত্যা, ধর্ষণ, সম্পত্তি দখল, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে দলকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করলেই চলবে না; স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

Manual5 Ad Code

তাঁর বক্তব্যে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা ও গণতান্ত্রিক অধিকার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক ভূমিকা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

সভায় অন্যান্য বক্তারাও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, সদস্যপদ নবায়ন সম্পন্ন করা এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জানুয়ারিতে একাদশ কংগ্রেস, চলছে প্রস্তুতি

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির একাদশ কংগ্রেস আগামী ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সামনে রেখে দলের প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে সদস্যপদ নবায়ন, নতুন প্রাথমিক সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা শাখায় কংগ্রেসকেন্দ্রিক সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে তুলে ধরার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

Manual7 Ad Code

নেতারা মনে করেন, কংগ্রেস সফল করার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, দলের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি সরবরাহ এবং দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা, জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং আগামী কংগ্রেস সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ