বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—দেশ ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা, সমাজসেবক ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual1 Ad Code

দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এই নেতা তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষাবিস্তার ও জনহিতকর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ, খুলনা ও আশপাশের অঞ্চলে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯০৯ সালে গোপালগঞ্জের ধর্মরায়ের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুকুন্দলাল সরকার। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, সড়ক নির্মাণ ও খাল খননসহ নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মুকুন্দলাল সরকার। পাকিস্তান আমলেও ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রাখেন। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ‘ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস’-এর আওতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখে।

Manual7 Ad Code

রাজনৈতিক অঙ্গনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

Manual8 Ad Code

সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন মুকুন্দলাল সরকার। নিজের উদ্যোগে গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে অবদান রাখে।

তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক, গবেষক ও কবি ড. তপন বাগচী রচিত ‘গোপালগঞ্জের মুকুন্দলাল: জনপদের জননেতা’ গ্রন্থটি স্থানীয় পাঠক ও গবেষকদের মধ্যে সমাদৃত হয়েছে। গ্রন্থটিতে তাঁর জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক ভূমিকা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের নানা দিক উঠে এসেছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার ধানমন্ডিতে তাঁর কনিষ্ঠপুত্র, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক সিটি এডিটর অজিত কুমার সরকারের বাসভবনে স্মরণসভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বাসভবনটির ঠিকানা বাড়ি নম্বর ২৫, সড়ক নম্বর ৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

Manual2 Ad Code

এ ছাড়া গোপালগঞ্জের হাইশুর এলাকায় অবস্থিত একটি বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য খাবার পরিবেশন ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র, কলামলেখক ও এডুকেশন টুডে পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মনীন্দ্র নাথ সরকার; তৃতীয় পুত্র ও এম আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার সুভাষ সরকার; এবং কনিষ্ঠপুত্র অজিত কুমার সরকার প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় শুভানুধ্যায়ীদের স্মরণসভা ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ