আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ : আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সভায় খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে।

Manual4 Ad Code

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ কঠিন হচ্ছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক মূল্যায়নে প্রায় ২৬ কোটি মানুষের তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভোগার চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এসব এলাকার দরিদ্র পরিবার ও শিশুরা অপুষ্টির বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবস

১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।

Manual4 Ad Code

১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটির মাধ্যমে খাদ্যকে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজন নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা ও বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়।নতুন ভাষা শিখুন

Manual7 Ad Code

কেন পালন করা হয় দিবসটি

Manual4 Ad Code

বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেকের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এ পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদন টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।