আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে পিএফজি’র মানববন্ধন

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২২

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে পিএফজি’র মানববন্ধন

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০২ অক্টোবর ২০২২ : সংঘাত নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ি এই শ্লোগান এবং “অহিংসার প্রথম নীতিই হলো সকল অমর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করা। নিস্ক্রিয় থেকে অহিংসা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।”- মহাত্মা গান্ধীর বাণীকে প্রতিপাদ্য করে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষ্যে শ্রীমঙ্গলে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুফ (পিএফজি)’র মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রবিবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১ ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) শ্রীমঙ্গল-এর উদ্যোগে ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার পাঠক ফোরাম আলোকিত বন্ধু ফোরামের সহযোগিতায় এ কর্মসুচি পালন করা হয়।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও পিএফজির সমন্বয়কারী সাংবাদিক সৈয়দ ছায়েদ আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান; পিএফজির সিনিয়র সদস্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব এলেমান কবীর, আইডিয়ার প্রকল্প কর্মকর্তা পংকজ ঘোষ দন্তিদার, টিআইবি শ্রীমঙ্গল এরিয়া কো-অডিনেটর পারভেজ কৈরী ও পিএফসির শ্রীমঙ্গলের অ্যাম্বাসেডর কাজী আছমা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেসি নেটওয়ার্কের শ্রীমঙ্গল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার কৈরী, পিএফসি সদস্য আনহারুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য মো: ফিরোজ মিয়া, সাংবাদিক ঝলক দত্ত, নূর মোহাহাম্মদ সাগর, মো: সুমন মিয়া, অরবিন্দু দেব, মানববাধিকার কর্মী শাহ মাসুদ আহমেদ, মো: ময়নুল ইসলাম আরিফ ও মো: আছকির মিয়াসহ পিএফজি সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, সংবাদকর্মী, ইয়েস সদস্য, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, মারামারি, অসহিষ্ণুতা ও রক্তপাত বন্ধে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে প্রতিবছর ২রা অক্টোবর বিশ্ব অহিংস দিবস পালন করা হয়।

Manual3 Ad Code

Manual5 Ad Code

মানববন্ধনে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ভারতের আনীত প্রস্তাবে সর্বসম্মতিক্রমে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবস ২ অক্টোবরকে `আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গান্ধীজীর অস্ত্র ছিল অসহযোগ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ। তিনি অহিংস ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের দ্বারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
তাঁর বিভিন্ন আন্দোলনের ভিত্তি ছিল অহিংসা। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, তাঁর আত্মত্যাগ, তাঁর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি অঙ্গীকার এই যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলে গেছেন, “Be the change you want to see in the world” অর্থাৎ আপনি নিজের সেই পরিবর্তন হোন যা আপনি সারাবিশ্বের সবার মধ্যে দেখতে চান।
অনেক মহান নেতা যেমন নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রথম প্রেসিডেন্ট আলবার্ট লুসিলি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের আন্দোলনকে পরিচালনা করতে অহিংস দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
ইতিহাসের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রামের অগ্রণী ভূমিকায় অভিভূত হয়ে মহাত্মা গান্ধী লিখেছিলেন ‘Chittagong to the fore’ অর্থাৎ সবার আগে চট্টগ্রাম। গান্ধীজী দুইবার চট্টগ্রাম আগমন করেন–৩১ আগস্ট, ১৯২১ ও ১২ মে ১৯২৫ সালে।
গান্ধীজী নোয়াখালিতে এসে প্রায় চার মাস অবস্থান করেন। তিনি সেখানে অসংখ্য গ্রাম সফর করেন।
তাঁর উপস্থিতি, শান্তির প্রচেষ্টা এবং উভয় সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর সম্প্রীতির বাণী বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। নোয়াখালীতে অবস্থিত গান্ধী আশ্রমের কথা সকলে অবশ্যই জেনে থাকবেন।
১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দিল্লীতে আততায়ীর গুলিতে গান্ধীজি মৃত্যবরণ করেন। গান্ধীজীর মৃত্যুর পর বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “Generations to come, it may well be, will scarce believe that such a man as this one ever in flesh and blood walked upon this Earth.”
গান্ধীজি অদ্বিতীয়, অপ্রতিরোধ্য এবং পথপ্রদর্শক। সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার জন্য গান্ধীবাদী দর্শন আজকের দিনেও খুবই প্রাসঙ্গিক।”

Manual8 Ad Code