রপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন নয়ন সার্থক এক জীবনের অনুভূতি!

প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৩

রপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন নয়ন সার্থক এক জীবনের অনুভূতি!

Manual3 Ad Code

জাকির হোসেন |

অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্রপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাসে চাকুরীর সন্ধানে বার্মা যাওয়ার সময় গভীর সমুদ্রে জাহাজটি সাইক্লোনের কবলে পড়ে। জাহজের সমস্ত যাত্রী প্রানভয়ে কাতর। আর শ্রীকান্ত স্বচক্ষে সাইক্লোন দেখার জন্য ডেকের উপর দাড়িয়ে সমুদ্রের সেই ভয়াবহ রুপ পর্যবেক্ষণ করেন। ঝড় থামার পরে শ্রীকান্ত বললেন ভগবান এই চোখ দুটি তুমিই দিয়েছিলে আর আজ তুমি তা সার্থক করলে। এমনি এক সার্থক জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমার এই লেখা।
১৩ই আগষ্ট সকাল ১১টা। জননেতা রাশেদ খান মেনন, লুৎফুন্নেসা খান এম পি, আমি আমার সহধর্মিণী, তিন ছেলে প্রবেশ করলাম রপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাংলা কুঠিরে। আমাদেরকে স্বাগত জানালেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জনাব আশরাফুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস টুটুল। একটু নাস্তা শেষ করে আমরা রওনা হলাম মুল প্রকল্প পরিদর্শনে।

Manual1 Ad Code

গেট দিয়ে প্রবেশের পর আমাদের জন্য অপেক্ষামান গাড়িতে চড়ে রওনা হয়ে নামলাম রোশাটম অফিসে। আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানালেন রোশাটমের প্রধান প্রকৌশলী খুসলব ও তার দুই সহকর্মী। নিয়ে গেলেন দোতালায়। ওখানেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উনারা প্রকল্পের সামগ্রিক বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। মিঃ খুসলবের ধন্যবাদ জানানোর পরে জনাব আশরাফুল ইসলাম আমাদেরকে প্রকল্পের সামগ্রিক বিষয়টি ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখালেন। এরপর শুরু হল সরেজমিনে দেখার পালা।

Manual3 Ad Code

প্রথমে জেটিতে, তারপর বিদ্যুৎ সাপ্লায়ের ষ্টেশন, কুলিং স্টেশনে, টারবাইন সেন্টার, জ্বালানী রিজার্ভ সেন্টার, বর্জ্য সংরক্ষণ হাউজ। এরপর লিফটে নিয়ে গেল পারমানবিক চুল্লী স্হাপন কেন্দ্রে।
ভুমি থেকে ৭০ফিট নিচে এবং ভুমি থেকে আটতলা ভবন উচ্চতা সম্পন্ন স্হাপনার মধ্যে বসবে চুল্লী। ৬ফুট সিসার ঢালাই, তারপর কংক্রিটের দুই স্তর বিশিষ্ট ঢালাই সহ মোট তিন স্তর বিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর গর্ভে বসবে চুল্লী।
প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম জানালেন বর্তমান পৃথিবীর সবথেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে এই প্রকল্পে। মুল রিয়েক্টরের চারপাশ দিয়ে এমন প্রতিরক্ষা বেষ্টনী তৈরী করা হয়েছে যা সারে আট মাত্রার ভুমিকম্প প্রতিরোধক এবং একশত বিশ টন ওজনের বোমার আঘাত প্রতিরোধ করার সক্ষমতা রাখে। এমন প্রযুক্তি নির্ভর তৃতীয় প্রজন্মের পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পৃথিবীতে এই প্রথম।
তেরশত পঞ্চাশ টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটা ক্রেন দেখলাম যা পৃথিবীতে নাকি সাতটি আছে।

এক লাখ কুড়ি হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই প্রকল্পটি। যার এক লাখ কোটি টাকাই রাশিয়া সরকারের। আঠাশ বছরে এক টাকা কুড়ি পয়সা হারে বাৎসরিক সুদ সহ এই টাকা পরিষদ করতে হবে।
এই মহাযজ্ঞে তিন শিফটে ত্রিশ হাজার শ্রমিক কর্মচারী ও প্রকৌশলী নিয়োজিত আছে। সর্বশেষ সেমিনার কক্ষে গিয়ে হল আরেক অভিজ্ঞতা। রাশিয়া থেকে বার শত বাংলাদেশী প্রকৌশলীকে বিভিন্ন শাখায় স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদি ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে যারা রাশান কর্মকর্তারা চলে গেলে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা আমাদেরকে পরিচালনা ও ব্যবস্হপনা নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করল।

Manual3 Ad Code

দূর্ঘটনা দূর্ঘটনাই। কাউকে বলে আসেনা। নন্দলালের মত বসে থাকলে জীবন চলবেনা। আর আমরা যারা বেঁচে আছি তাকে কি বেঁচে থাকা বলে?
সকল আবিষ্কারকে ইতিবাচক হিসাবে দেখতে হবে। স্বল্প ভূখণ্ডের মালিক আমরা। এই সীমিত সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজন মিটাতে হবে।
ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। কৃতজ্ঞতা মাননীয় মন্ত্রী ইয়াফেজ উসমানকে, ধন্যবাদ আশরাফুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস টুটুলকে।
নয়ন সার্থক হল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ