সাবেক স্পীকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

সাবেক স্পীকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬ : সাবেক স্পীকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল।

সাবেক স্পিকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল পালিত হবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে।

দেশের রাজনৈতিক, বিচারিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন মহল।

১৯৮৪ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকার গুলশানস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও অনুসারী রেখে যান। তাঁর কর্মময় জীবন আজও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান ১৯০২ সালের ১ জানুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার বাহেরচর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি মেধা ও মননশীলতার পরিচয় দেন। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ. উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি আরবিতে বি.এ. ও এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে আইন বিষয়ে বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯২৯ সালে তিনি বিচার বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে করতে তিনি সাব-জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ এবং জেলা জজ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, যা ছিল তাঁর বিচারিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

Manual5 Ad Code

১৯৬২ সালে বিচার বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন)-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে বরিশাল থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে একই বছরের ১২ জুন তিনি স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও মর্যাদার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর এই উদ্যোগ আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকায় তাঁর কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে তাঁর পুত্র সাবেক মন্ত্রী কমরেড রাশেদ খান মেননের বাসভবনে পরিবারের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুরে স্পিকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান পাঠাগারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান ছিলেন ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

জাতির এই বরেণ্য সন্তানকে স্মরণ করে সংশ্লিষ্ট মহল তাঁর আদর্শ ও কর্মধারাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শ্রদ্ধার আলোয় বিচারপতি জব্বার খান
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

ইতিহাসের পাতা জুড়ে নামটি দীপ্তিমান,
সততার এক প্রতীক—জব্বার খান মহান।
সময় পেরিয়ে আজও তিনি আলো হয়ে রয়,
ন্যায়ের পথে অবিচল এক অমর পরিচয়।

বরিশালের মাটির বুকে জন্ম যাঁর ধ্রুব,
সাধনার সেই শৈশব ছিল স্বপ্নময় সুব।
বাহেরচরের গ্রামজুড়ে জাগে স্মৃতির গান,
নির্ভীক এক আলোকপুরুষ—জব্বার খান।

শিক্ষার আলো হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলেন দূর,
ঢাকার পথে জ্ঞানের ডাকে হলেন তিনি সুর।
আরবির সেই বিদ্যাপীঠে অর্জন করলেন জ্যোতি,
জ্ঞানের সাথে গড়লেন তিনি নৈতিকতার সেতুতি।

আইনের পথে প্রথম ধাপে দৃঢ় পদচারণ,
ন্যায়ের বাণী হৃদয়ভরা, দৃপ্ত তাঁর মন।
সাব জজ থেকে জেলা জজ—দায়িত্বে অবিচল,
প্রতিটি রায়ে ছিল ন্যায়, সত্যে অবিকল।

হাইকোর্টের উচ্চ আসন পেলেন যবে তিনি,
ন্যায়ের মানদণ্ড যেন দাঁড়ালো ততদিনই।
বিচারপতির আসনে তিনি দৃষ্টান্ত এক মহান,
নির্ভীক কণ্ঠে সত্য বলেন—জব্বার খান।

অবসর নিলেন কর্মজীবন, থামেনি পথচলা,
রাজনীতির ময়দানে দিলেন নতুন জ্বালা।
মুসলিম লীগের পতাকাতলে জাগালেন নতুন প্রাণ,
নেতৃত্বে দৃঢ়, সাহসী তিনি—জব্বার খান।

Manual3 Ad Code

জাতীয় পরিষদের স্পিকারের আসনে যবে বসলেন,
সংবিধানের মর্যাদা তিনি হৃদয়ে ধারণ করলেন।
সংসদের প্রতিটি বাক্য, নিয়মের প্রতিটি ধারা,
শৃঙ্খলার মাঝে তিনি রাখলেন দৃঢ় কারা।

উনসত্তরের উত্তাল দিনে অবসর নিলেন শেষে,
তবু মানুষের কল্যাণে রইলেন তিনি দেশে।
বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা—গড়লেন যত স্থান,
মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ—জব্বার খান।

নিঃস্বার্থ সেই জীবনের নেই কোনো তুলনা,
সাদাসিধে চলাফেরা, গভীর তাঁর গুণনা।
ক্ষমতার মোহে নয়, ছিলেন আদর্শে মহান,
সততার এক উজ্জ্বল নাম—জব্বার খান।

আজকে তাঁর প্রয়াণ দিবস—স্মৃতির আবেশে,
ঢাকার আকাশ নীরব যেন শ্রদ্ধার পরশে।
কবরপানে ঝরে পড়ে ফাতেহার সেই গান,
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি—জব্বার খান।

পরিবারের মিলাদে ওঠে দোয়ার মৃদু সুর,
ভালোবাসার অশ্রুধারা ভিজে ওঠে নূর।
বরিশালের মাটিতেও জাগে স্মৃতির টান,
গ্রামজুড়ে উচ্চারিত হয়—জব্বার খান।

পাঠাগারের আলো জ্বলে, আলোচনা সভা,
নতুন প্রজন্ম শিখে নেয় তাঁর জীবনের ভাষা।
ন্যায় আর আদর্শ যেন চিরদিন অবিরাম,
তাঁর জীবন পথ দেখায়—প্রেরণার নাম।

ইতিহাসের প্রতিটি ক্ষণে থাকবেন তিনি জাগ্রত,
ন্যায়ের মশাল হাতে রেখে যাবেন পথ।
সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও মুছে না তাঁর দান,
অমর হয়ে থাকবেন চিরকাল—জব্বার খান।

Manual4 Ad Code

হে মহান, তোমার পথে আমরা হবো দৃঢ়,
সত্যের ডাকে রাখবো শপথ, করবো না বিভ্রান্ত।
ন্যায়ের পতাকা উঁচু রেখে গড়বো নতুন ভোর,
তোমার আদর্শে জাগুক আবার আলোর ঘোর।

Manual2 Ad Code

আজকের এই দিনে তাই নিবেদন শ্রদ্ধার্ঘ্য,
তোমার জীবন হোক আমাদের চিরন্তন শিক্ষা।
ইতিহাসের বুকে লেখা তোমার অবদান,
বাংলার গর্ব, বাংলার মান—জব্বার খান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ