শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া কিশোরগঞ্জের নিখোঁজ দুই মাদ্রাসাছাত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া কিশোরগঞ্জের নিখোঁজ দুই মাদ্রাসাছাত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তর

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৩ জুন ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসাছাত্রকে উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

Manual6 Ad Code

পুলিশের তৎপরতা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ফলে শিশু দুজনকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Manual8 Ad Code

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলো কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার মধ্যম মাসিমপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও নাজরিন বেগমের ছেলে জুবাহিদ (মুবারক) (১০) এবং দক্ষিণ সরারচর গ্রামের ফালু মিয়া ও আমেনার ছেলে মোস্তাকিম (৮)। জুবাহিদ বাজিতপুরের আলী হোসেন দারুল উলুম মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির (নাজেরানা) এবং মোস্তাকিম প্রথম শ্রেণির (কায়দা) শিক্ষার্থী।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানায়, শিশু দুজনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজে কাজ শুরু করে পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের মাধ্যমে স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানের একপর্যায়ে শিশু দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের সদস্যদের শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য জানানো হয়।

সোমবার (২৩ জুন ২০২৬) ভোর ৪টা ১০ মিনিটে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর পিতা, নানা, চাচাসহ একাধিক স্বজন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হন। থানায় উপস্থিত হয়ে তারা শিশু দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে অফিসার ইনচার্জের সার্বিক নির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে ডিউটিরত কর্মকর্তা এএসআই দিদারুল হক প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শিশু দুজনকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

শিশুদের স্বজনরা দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানদের সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী জুবাহিদের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা সন্তানদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যেত। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

Manual2 Ad Code

সঙ্গে আসা অন্যান্য স্বজনরাও এএসআই দিদারুল হকের পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত যোগাযোগের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়েছে।

Manual8 Ad Code

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শিশু ও কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় ও আন্তঃজেলা সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচার এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শিশু দুজনের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন শুধু তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি ইতিবাচক উদাহরণ। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসায় তাদের নিজ এলাকাসহ সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ