সিলেট ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬
বিশ শতকের বৌদ্ধিক ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের চিন্তা ও কর্ম শুধু দর্শন বা সাহিত্যকে নয়, বরং সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের আত্মপরিচয় সম্পর্কে ধারণাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ফরাসি দার্শনিক, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সমাজচিন্তক এবং রাজনৈতিক কর্মী জঁ-পল সার্ত্র (Jean-Paul Sartre) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৯০৫ সালের ২১ জুন প্যারিসে জন্মগ্রহণকারী সার্ত্র ছিলেন অস্তিত্ববাদী দর্শনের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ, একই সঙ্গে আধুনিক বিশ্বসাহিত্যের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর দর্শন মানুষের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত দায়িত্ব, নৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক প্রতিশ্রুতির প্রশ্নকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
আজ, তাঁর জন্মের ১২১ বছর পূর্তিতে, সার্ত্রকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন দার্শনিক বা সাহিত্যিককে স্মরণ করা নয়; বরং এমন এক চিন্তানায়ককে পুনরাবিষ্কার করা, যিনি মানুষের স্বাধীন অস্তিত্বকে ইতিহাস, রাজনীতি এবং নৈতিকতার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন।
শৈশব, শিক্ষা ও বৌদ্ধিক বিকাশ
জঁ-পল সার্ত্রের জীবনের শুরু থেকেই বই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় সঙ্গী। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হওয়ার পর তিনি মাতামহ চার্লস শোয়াইটজারের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। শৈশবেই তাঁর মধ্যে পাঠাভ্যাসের এমন গভীরতা তৈরি হয় যে, তিনি পরিবারের বিশাল গ্রন্থাগারের অধিকাংশ বই পড়ে ফেলেন। সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন এবং বিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কৌতূহল ছিল অসাধারণ।
পরে তিনি ফ্রান্সের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান École Normale Supérieure-এ ভর্তি হন। এখানেই তাঁর বৌদ্ধিক বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়। হেগেল, কান্ট, হুসার্ল, হাইডেগার এবং কিয়ের্কেগার্ডের মতো দার্শনিকদের চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র দার্শনিক অবস্থান গড়ে তোলেন। একই সময়ে তাঁর পরিচয় হয় আরেক মহান চিন্তাবিদ ও লেখিকা সিমোন দ্য বোভোয়ার-এর সঙ্গে, যার সঙ্গে সার্ত্রের সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, বৌদ্ধিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অস্তিত্ববাদ: “অস্তিত্ব সারবস্তুর পূর্বে”
সার্ত্রের দর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো—“Existence precedes essence” বা “অস্তিত্ব সারবস্তুর পূর্বে”। এই ধারণা অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল ভিত্তি।
সার্ত্রের মতে, মানুষ পৃথিবীতে কোনো পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য বা প্রকৃতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। মানুষ প্রথমে অস্তিত্ব লাভ করে, তারপর নিজের সিদ্ধান্ত, কর্ম এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেকে নির্মাণ করে। অর্থাৎ মানুষ কী হবে, তা কোনো ঈশ্বর, ভাগ্য বা পূর্বনির্ধারিত প্রকৃতি ঠিক করে দেয় না; মানুষ নিজেই নিজের পরিচয় নির্মাণ করে।
এই দর্শন মানুষের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে এই স্বাধীনতা আনন্দের পাশাপাশি এক ধরনের ভারও সৃষ্টি করে। কারণ মানুষ তার সিদ্ধান্তের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী। সার্ত্রের বিখ্যাত উক্তি—
“Man is condemned to be free.”
“মানুষ স্বাধীন হতে বাধ্য।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ স্বাধীনতা এড়িয়ে যেতে পারে না। সে সিদ্ধান্ত নেবে, আর সেই সিদ্ধান্তের নৈতিক দায়িত্বও তাকে বহন করতে হবে।
“ব্যাড ফেইথ” বা আত্মপ্রবঞ্চনার ধারণা
সার্ত্রের দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো Bad Faith (Mauvaise Foi) বা আত্মপ্রবঞ্চনা।
অনেক সময় মানুষ নিজের স্বাধীনতা ও দায়িত্বকে অস্বীকার করে। সে নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়। সার্ত্র এটিকে আত্মপ্রবঞ্চনা হিসেবে দেখেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি বলে—“পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে”, “সমাজ আমাকে এমন করেছে”, অথবা “আমার কোনো বিকল্প ছিল না”—তাহলে সার্ত্রের মতে সে নিজের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করছে।
এই ধারণা আধুনিক মনোবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সাহিত্য ও দর্শনের অনন্য সংমিশ্রণ
সার্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি দর্শনকে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখেননি; সাহিত্যকে ব্যবহার করেছেন তাঁর দর্শনের পরীক্ষাগার হিসেবে।
১৯৩৮ সালে প্রকাশিত তাঁর উপন্যাস “Nausea” (La Nausée) আধুনিক সাহিত্যের এক মাইলফলক। এই উপন্যাসে মানুষের অস্তিত্বগত উদ্বেগ, বিচ্ছিন্নতা এবং অর্থহীনতার অনুভূতি অসাধারণ দক্ষতায় ফুটে উঠেছে।
তাঁর নাটক “No Exit” (Huis Clos) বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই নাটকের বিখ্যাত উক্তি—
“Hell is other people.”
“নরক হলো অন্য মানুষ।”
এই বাক্যটি প্রায়ই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সার্ত্র বলতে চেয়েছেন, অন্যের দৃষ্টির মধ্যে বন্দি হয়ে গেলে মানুষ নিজের স্বাধীনতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।
তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—
The Flies,
Dirty Hands,
The Age of Reason,
The Devil and the Good Lord,
The Condemned of Altona,
The Wall (গল্পসংকলন)।
এসব রচনায় দর্শন ও সাহিত্য এমনভাবে একীভূত হয়েছে, যা আধুনিক সাহিত্যে বিরল।
“Being and Nothingness”: এক যুগান্তকারী দার্শনিক গ্রন্থ
১৯৪৩ সালে প্রকাশিত “Being and Nothingness” (L’Être et le Néant) সার্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক গ্রন্থ।
এই বইয়ে তিনি চেতনা, স্বাধীনতা, আত্মপরিচয়, শূন্যতা এবং মানব অস্তিত্বের জটিল প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ শুধু যা আছে তা নয়; সে একই সঙ্গে যা হতে চায় তাও।
চেতনা সর্বদা নিজেকে অতিক্রম করতে চায়। এই কারণেই মানুষ কখনও সম্পূর্ণভাবে স্থির বা সমাপ্ত নয়। মানুষ একটি চলমান প্রকল্প—নিজেকে ক্রমাগত নির্মাণের প্রক্রিয়া।
এই ধারণা পরবর্তীকালে মনোবিজ্ঞান, সাহিত্যতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন এবং রাজনৈতিক দর্শনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
রাজনীতি ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি
সার্ত্র কেবল একজন অধ্যাপক বা লেখক ছিলেন না; তিনি ছিলেন সক্রিয় রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ফরাসি সেনাবাহিনীতে কাজ করেন এবং জার্মান বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হন। মুক্তি পাওয়ার পর নাৎসি-বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব কেবল চিন্তা করা নয়; অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াও তার কর্তব্য।
এই কারণে তিনি—
আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক দমননীতির বিরোধিতা করেন,
ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের সমালোচনা করেন,
বর্ণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন,
শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।
তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি—
“আমি মজলুমদের ঘৃণা করি যারা তাদের জালিমদের সম্মান করে।”
এই বক্তব্যে নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
মার্কসবাদ ও অস্তিত্ববাদ প্রশ্নে
সার্ত্রের রাজনৈতিক চিন্তায় মার্কসবাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। তবে তিনি কোনো মতাদর্শকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেননি।
তিনি মনে করতেন, মার্কসবাদ হচ্ছে সমাজ ও ইতিহাস বিশ্লেষণের শক্তিশালী পদ্ধতি। তবে তিনি এও মনে করতেন ব্যক্তির স্বাধীনতার প্রশ্নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া উচিত। অন্যদিকে অস্তিত্ববাদ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু সামাজিক কাঠামোর বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ।
এই দুই ধারার সমন্বয়ের চেষ্টা তিনি করেছেন “Critique of Dialectical Reason” গ্রন্থে।
এখানে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, মানুষ একই সঙ্গে স্বাধীন ব্যক্তি এবং সামাজিক-ঐতিহাসিক বাস্তবতার অংশ।
সিমোন দ্য বোভোয়ার ও বৌদ্ধিক অংশীদারিত্ব
সার্ত্রের জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সিমোন দ্য বোভোয়ারকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।
তাঁদের সম্পর্ক ছিল আধুনিক বৌদ্ধিক ইতিহাসের এক অনন্য উদাহরণ। প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির বাইরে থেকেও তাঁরা আজীবন একে অপরের চিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের সহযোগী ছিলেন।
নারীবাদী দর্শনের অন্যতম পথিকৃৎ বোভোয়ারের বিখ্যাত গ্রন্থ “The Second Sex”-এর পেছনেও সার্ত্রের বৌদ্ধিক প্রভাব ছিল, যদিও বোভোয়ার নিজস্ব স্বতন্ত্র চিন্তার জগৎ নির্মাণ করেছিলেন।
তাঁদের সম্পর্ক দেখিয়েছে যে বৌদ্ধিক স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মান একটি সম্পর্ককে কত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।
নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান: এক বিরল ঘটনা
১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন জঁ-পল সার্ত্র।
কিন্তু তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। সাহিত্য ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা।
সার্ত্রের যুক্তি ছিল, একজন লেখককে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার সঙ্গে নিজেকে স্থায়ীভাবে যুক্ত করা উচিত নয়। তিনি মনে করতেন, লেখকের স্বাধীনতা তার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
নোবেল প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তিনি নিজের দর্শন ও নীতির প্রতি অটল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
উত্তর-ঔপনিবেশিক চিন্তায় প্রভাব
সার্ত্রের প্রভাব ইউরোপের গণ্ডি ছাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় বিস্তৃত হয়।
বিশেষ করে ফ্রাঞ্জ ফ্যাননের মতো চিন্তাবিদদের ওপর তাঁর গভীর প্রভাব ছিল। ঔপনিবেশিক শোষণ, জাতিগত নিপীড়ন এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম নিয়ে ফ্যাননের চিন্তায় সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী মানবমুক্তির ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়।
তৃতীয় বিশ্বের মুক্তিসংগ্রাম এবং ঔপনিবেশিকতা-পরবর্তী রাষ্ট্রচিন্তায়ও তাঁর লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সাহিত্যতত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানে অবদান
সার্ত্র সাহিত্যকে কেবল নান্দনিক সৃষ্টিকর্ম হিসেবে দেখেননি। তিনি মনে করতেন, সাহিত্য সমাজ পরিবর্তনের একটি কার্যকর মাধ্যম।
তাঁর “What is Literature?” গ্রন্থে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, লেখকের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। সাহিত্য বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো শিল্প নয়; বরং সমাজের সঙ্গে সক্রিয় সংলাপ।
এই চিন্তা পরবর্তীকালে—
সাহিত্য সমালোচনা,
সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন,
সমাজবিজ্ঞান,
উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্ব,
সমালোচনামূলক তত্ত্ব
প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
বর্তমান সময়ে সার্ত্র কেন প্রাসঙ্গিক?
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে প্রযুক্তির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ভোগবাদ এবং পরিচয় সংকটের যুগে সার্ত্রের চিন্তা নতুন তাৎপর্য অর্জন করেছে।
আজ মানুষ প্রায়ই নিজের সিদ্ধান্তের দায় অন্যের ওপর চাপাতে চায়। সামাজিক কাঠামো, প্রযুক্তি বা রাজনৈতিক শক্তিকে দোষারোপ করে ব্যক্তিগত দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সার্ত্র আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন—
স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়, দায়িত্বও;
মানুষ নিজের পরিচয় নিজেই নির্মাণ করে;
নৈতিক সিদ্ধান্তের ভার অন্যের ওপর চাপানো যায় না;
অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা নিজেও একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে সার্ত্রের চিন্তা এখনও শক্তিশালী আলোচনার উৎস।
ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক জঁ-পল সার্ত্রের স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
আজও প্যারিস-আকাশ জুড়ে জ্বলে এক চিন্তার দীপ,
আজও মানব-অন্তর জাগে তারই উচ্চারিত নীড়-স্বরূপ।
আজও প্রশ্ন তোলে মানুষ—“আমি কে, কোথায় গন্তব্য?”
আজও সার্ত্রের উচ্চারণে কাঁপে অস্তিত্বের অধ্যায়।
সেই যে শতাব্দী পেরিয়ে এল এক অদম্য মন,
চিন্তার ভুবন ভেঙে গড়ে লিখল নতুন জীবন;
জন্ম নিল প্যারিস নগরে এক জুনের প্রভাতে,
নব শতকের অস্থির কালে, ভবিষ্যতের সাথে।
জঁ-পল চার্লস এইমার সার্ত্র—নামটি শুধু নাম নয়,
এটি যেন বিদ্রোহী মশাল, অবিনাশী সময়।
এটি যেন মানুষেরই মুখ, স্বাধীনতার গান,
এটি যেন প্রশ্নবিদ্ধ এক মহাবিশ্বের প্রাণ।
শৈশব তার কেটেছিল বইয়ের অসীম মহাসাগরে,
পিতামহের গ্রন্থভাণ্ডার খুলে দিয়েছিল দ্বারে।
পাতায় পাতায় খুঁজেছিল সে মানুষ হওয়ার মানে,
কোন্ রহস্যে জীবন জাগে, কোন্ অন্ধকার টানে।
নিঃসঙ্গ ঘরে শিশুটি তখন বইয়ের সাথে কথা কয়,
অক্ষরেরই অরণ্য পেরিয়ে চিন্তার পাখা মেলতে চায়।
কেউ শেখায়নি বাঁধা পথে মাথা নত করে চলা,
প্রশ্ন করার অধিকারই ছিল তার প্রথম বলা।
বিদ্যালয়ের মেধাবী সেই জেদি তরুণ প্রাণ,
বিতর্কে আর অধ্যয়নে গড়ে তোলে নিজ স্থান।
ব্যর্থতারও দেয়নি মানে শেষ অধ্যায়ের রূপ,
পুনরায় উঠে দাঁড়িয়ে লিখেছে সাফল্যের ধ্রুপদ।
ইকোল নরমাল সুপেরিয়র—বুদ্ধির দীপ্ত ক্ষেত্র,
সেখানে গিয়ে গড়ে ওঠে চিন্তার নতুন কেন্দ্র।
কান্ত, হেগেল, হাইডেগারের দর্শন তার সাথী,
হুসার্লেরও প্রপঞ্চপথে খুঁজে ফেরে গাঁথি।
এমন সময় জীবনে তার এলো এক আলোকধারা,
সিমোন দ্য বোভোয়ার যেন মুক্ত চিন্তার তারা।
প্রেম সেখানে শিকলহীন, সম্পর্ক মুক্ত বাতাস,
দুইটি প্রাণে জেগেছিল এক বৌদ্ধিক বিশ্বাস।
তারা শুধু প্রেমিক নয়, ছিল যুগল যোদ্ধা,
মানুষ যেন নিজের কাছে ফিরে আসে সদা।
কলম হাতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে সভ্যতাকে,
অন্ধ বিশ্বাস ভেঙে গড়েছে নতুন দিনের ডাকে।
অধ্যাপনার মঞ্চে দাঁড়ায় তরুণ দার্শনিক,
শ্রেণিকক্ষে উচ্চারিত হয় যুক্তির ভাষা ঠিক।
জ্ঞান মানে শুধু মুখস্থ নয়, নয় কর্তৃত্ব মানা,
জ্ঞান মানে প্রশ্নের ভেতর নতুন আলো আনা।
যুদ্ধ এল, পৃথিবী জুড়ে নামল কালো রাত,
মানুষ তখন মানুষখেকো উন্মাদ ইতিহাস।
সেনাবাহিনীর পোশাক পরে সার্ত্র গেল দূর,
দেখল কেমন ভেঙে পড়ে সভ্যতারই সুর।
নাৎসিদের বন্দিশিবির—লোহা, শৃঙ্খল, ক্ষুধা,
তবু তার মন হারায়নি স্বাধীনতার বোধ।
বন্দি জীবনেও লিখেছিল প্রথম নাট্যপাঠ,
অন্ধকারে জ্বালিয়েছিল মানবতার বাতি।
যে মানুষকে বন্দি করা যায়, চিন্তাকে কি যায়?
লোহার কপাট থামাতে পারে কল্পনারই নাও?
সার্ত্র জানত—স্বাধীনতা বাহুর শক্তি নয়,
স্বাধীনতা অন্তরজাগা অনমনীয় বোধময়।
যুদ্ধশেষে প্যারিস নগর উঠল নতুন ভোরে,
সার্ত্র তখন বলছে কথা মানবমুক্তির তরে।
বিশ্ববিদ্যালয়, সভা, মঞ্চে উচ্চারিত হয় বাণী—
“মানুষ নিজের সিদ্ধান্তে লেখে নিজের কাহিনি।”
“অস্তিত্ব আগে”—এই যে কথা যুগকে দিল নাড়া,
জন্মের আগে লেখা থাকে না ভাগ্যের কোনো ধারা।
মানুষ নিজেই নির্মাণ করে নিজের পরিচয়,
এই সত্যে জেগে ওঠে বহু নিভে যাওয়া হৃদয়।
স্বাধীনতার ভার যে কত, সে-ও শিখিয়েছে সে,
স্বাধীন মানে দায়িত্ব বহন নিজের কাঁধে যে।
অজুহাতের আড়াল ভেঙে দাঁড়াও নিজের পাশে,
নিজের কর্ম নিজেকেই একদিন ফিরে আসে।
‘বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস’ যেন দার্শনিক মহাকাব্য,
অস্তিত্বের গভীর খাদে নেমে যাওয়ার সাহসব্যঞ্জক।
শূন্যতারও আছে ভাষা, নীরবতার রূপ,
চেতনারও অন্তরালে জেগে থাকে অনুপম ধূপ।
মানুষ কেন ভান করে যায় নিজের সত্য লুকায়?
কেন সে মিথ্যা আশ্রয়ে জীবনটাকে শুকায়?
“ব্যাড ফেইথ”-এর ধারণাতে দেখিয়েছে পথ,
সত্য থেকে পলায়ন মানে আত্মপ্রতারণার রথ।
তবু সে শুধু দর্শন নয়, সাহিত্যেরও রাজা,
উপন্যাসে, নাটকে তার মানবযন্ত্রণা সাজা।
‘নজিয়া’তে যে বমিবমি অস্তিত্বের ঘোর,
সেখানে কেঁপে ওঠে পাঠক অজানা এক ভোর।
‘নো এক্সিট’-এর বন্ধ কক্ষে বিখ্যাত সেই বাণী—
“অন্যেরা নরক”—শুধু নয়, গভীর আত্মজ্ঞানই।
মানুষ মানুষকে দেখে যেমন, তেমনই গড়ে রূপ,
সমাজেরই আয়নাতে ধরা পড়ে ধূপ।
কলম তার ছিল না কভু ক্ষমতার দরবারি,
অন্যায় দেখলে জ্বলে উঠত প্রতিবাদের ভারী।
আলজেরিয়ার রক্তক্ষরণ, ভিয়েতনামের ক্ষত,
তার বিবেকে তুলেছিল অগ্নিসম আঘাত।
সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সে উচ্চারণ করেছে নাম,
মজলুমদের পাশে দাঁড়িয়ে করেছে সংগ্রাম।
বলেছিল—যে অত্যাচারী পায় সম্মানের স্থান,
সেখানে মানবমর্যাদা হারায় নিজের প্রাণ।
তাই তো শাসক ভয় পেয়েছে, কেঁপেছে ক্ষমতালোভ,
তার ঠিকানায় ছুড়ে দিয়েছে ঘৃণা আর ক্ষোভ।
তবু সে থামেনি কখনো, নত করেনি শির,
সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ঝড়ের মুখোমুখি স্থির।
নোবেল যখন এলো ডেকে বিশ্বসম্মান নিয়ে,
সার্ত্র তখন ফিরিয়ে দিল অবাক বিশ্বকে দিয়ে।
বলল—“লেখক প্রতিষ্ঠানের অলংকার হতে নয়,
স্বাধীন কণ্ঠ স্বাধীন থাক—এই আমার পরিচয়।”
কতজন পারে এমন করে সম্মান পায়ে ঠেলতে?
কতজন পারে খ্যাতির মুখে নীরব থাকতে বলতে?
সার্ত্র জানত—সত্যের কাছে পুরস্কার ক্ষণিক ধূলি,
চিন্তার চেয়ে বড় নয় কোনো পদক, কোনো তুলি।
তার চারপাশে জড়ো হয়েছিল নতুন প্রজন্ম বহু,
ফুকো, ফ্যানন, লেইং কিংবা সংগ্রামী মানুষের রাহু।
উপনিবেশের ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর অনেক প্রাণ,
তার লেখাতে খুঁজে পেয়েছে মুক্তির সম্ভাবন।
ফ্যাননের কণ্ঠে জেগে ওঠা ঔপনিবেশিক ক্ষোভ,
সার্ত্র যেন শুনেছিল আগেই ইতিহাসের রব।
শোষিত জনের আর্তনাদে দিয়েছিল সে সুর,
তাই তার বাণী আজও জাগে মহাদেশ পেরিয়ে দূর।
মানুষ যদি একা থাকে, তবু যেন না হারায়,
নিজের সাথে নিজের দেখা সবচেয়ে জরুরি হয়।
নিঃসঙ্গতা শত্রু নয়, যদি থাকে আত্মসঙ্গ,
সার্ত্র যেন শেখায় আজও অন্তরযাত্রার রঙ।
সে বলেছিল—জীবন শুরু হতাশার ওপারে,
অন্ধকারই শেষ কথা নয়, আলো থাকে দ্বারে।
পরাজয়ের ধুলো মেখে উঠে দাঁড়ায় যে প্রাণ,
তারই হাতে রচিত হয় আগামী দিনের গান।
আজকের এই পৃথিবীতে যখন ভয় চারিধার,
যখন মানুষ পরিচয়ের খাঁচায় হয় অসার,
যখন মিথ্যা প্রচারণায় ঢেকে যায় বিবেক,
সার্ত্র তখন দূর অতীত থেকে দেয় আহ্বান এক—
“নিজেকে চিনো, প্রশ্ন করো, স্বাধীন হও মন,
নিজের কর্ম নিজের হাতে গড়ো প্রতিক্ষণ।
দায়িত্বহীন স্বাধীনতা কেবলই মরীচিকা,
মানবতার গভীর শপথেই মুক্তির দিশা।”
তার মৃত্যু এলো অবশেষে প্যারিস নগর বুকে,
তবু কি মৃত্যু থামাতে পারে চিন্তার অগ্নিশিখে?
ফুসফুস ক্লান্ত, শরীর নত, থেমে গেল নিশ্বাস,
কিন্তু তার উচ্চারণে আজও জাগে ইতিহাস।
হাজার মানুষের মিছিল নেমে এসেছিল পথে,
বিদায় জানায় এক দার্শনিককে গভীর শ্রদ্ধাতে।
কারণ তিনি কেবল নন গ্রন্থাগারের নাম,
তিনি ছিলেন সংগ্রামী এক বিবেকেরই ধাম।
আজ একুশে জুনের প্রভাত আবার ফিরে আসে,
সার্ত্র যেন দাঁড়িয়ে থাকেন মানুষেরই পাশে।
স্বাধীনতার কঠিন মানে স্মরণ করিয়ে দেন,
মানুষ হওয়া সহজ নয়—তবু মানুষ হতেই হয়।
যতদিন অন্যায় থাকবে, থাকবে শোষণ-ভয়,
যতদিন প্রশ্ন জাগবে মনে—“আমি আসলে কে হই?”
যতদিন মুক্তচিন্তার দীপ জ্বলবে অবিরাম,
ততদিন সার্ত্র বেঁচে থাকবেন মানুষেরই নাম।
তিনি আছেন গ্রন্থের পাতায়, প্রতিবাদের মিছিলে,
আছেন ছাত্রের জিজ্ঞাসাতে, শ্রমিকের কপালে ঘামে।
আছেন কবির কলমে, আছেন বিপ্লবীর স্বপ্নে,
আছেন নিঃসঙ্গ মানুষের আত্মজিজ্ঞাসার গহ্বরে।
তাই আজ শ্রদ্ধা জানাই তাকে গভীর প্রণত মনে,
যিনি শিখিয়েছেন দাঁড়াতে সত্যেরই পক্ষে।
যিনি বলেছিলেন—মানুষ নিজেই নিজের আলো,
নিজের হাতে লিখতে হবে ভবিষ্যতের কালো-ভালো।
জঁ-পল সার্ত্র, তোমার নামে জাগুক নতুন শপথ,
মানুষ যেন মানুষ থাকে, না হয় কোনো রথ।
স্বাধীনতার দহনশিখা জ্বলুক প্রাণে প্রাণে,
তোমার চিন্তা পথ দেখাক আগামী কালের গানে।
তুমি আছো—
প্রশ্নে, প্রতিবাদে, প্রেমে, দর্শনে, সাহিত্যে;
তুমি আছো—
মানুষের অনন্ত স্বাধীনতার অভিযাত্রায়।
—(জঁ-পল সার্ত্র,— সৈয়দ আমিরুজ্জামান)
দার্শনিক ও সাহিত্যিক জঁ-পল সার্ত্রের কয়েকটি উক্তি:
♦একা থাকলে যদি আপনি নিঃসঙ্গ হন, তাহলে আপনি খারাপ সঙ্গতে আছেন।
♦জীবন হতাশার ওপারে শুরু হয়।
♦আমরা জানি না আমরা কী চাই এবং তবুও আমরা যা আছি তার জন্য আমরা দায়ী – এটাই সত্য।
♦যে ঈশ্বরের অস্তিত্বই নেই, আমি তাকে অস্বীকার করতে পারি না, যে আমার পুরো সত্ত্বা ঈশ্বরের জন্য আর্তনাদ করে আমি ভুলতে পারি না।
♦অসীম প্রসঙ্গবিন্দু ছাড়া কোনও সসীম বিন্দুর অর্থ নেই।
♦শুধুমাত্র আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিতেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ।
♦আমি যদি দার্শনিক হয়ে থাকি, যদি আমি এত আগ্রহের সাথে এই খ্যাতি খুঁজি যার জন্য আমি এখনও অপেক্ষা করছি, তবে এটি মূলত মহিলাদের প্রলুব্ধ করা।
♦সর্বোত্তম কাজ টি আপনার জন্য সর্বাপেক্ষা কঠিন নয়; আপনি যা করেন তা-ই সর্বোত্তম।
♦অভিনয় সুখী যন্ত্রণা।
♦যদি একটি জয়ের বিস্তারিত বলা হয়, তবে কেউ এটিকে পরাজয় থেকে আলাদা করতে পারে না।
♦একটি হেরে যাওয়া যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ যেখানে একদল মনে করে যে অন্যদল হেরে গেছে।
♦প্রতিশ্রুতি একটি কাজ, একটি শব্দ নয়।
♦কীভাবে বাঁচতে হয় তা ছাড়া সবকিছু খুঁজে বের করা হয়েছে।
♦মানুষ স্বাধীন হওয়ার জন্য নিন্দিত; কারণ একবার পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হলে, সে যা কিছু করে তার জন্য সে দায়ী।
♦প্রতিটি বিদ্যমান জিনিস অকারণে জন্মগ্রহণ করে, দুর্বলতা থেকে নিজেকে দীর্ঘায়িত করে এবং দৈবক্রমে মারা যায়।
♦যে মুহূর্তে আপনি অমর হওয়ার মায়া হারিয়ে ফেলেন সেই মুহুর্ত থেকেই জীবনের কোনও অর্থ নেই।
উপসংহার
জঁ-পল সার্ত্র ছিলেন একাধারে দার্শনিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবমুক্তির চিন্তক। তিনি মানুষের স্বাধীনতা ও দায়িত্বকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা আধুনিক চিন্তার ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। তাঁর রচনা শুধু দর্শনের পাঠ্য নয়; মানবজীবনের গভীর প্রশ্নগুলোর অনুসন্ধান।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে মানুষ পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যের বন্দি নয়; বরং নিজের সিদ্ধান্ত ও কর্মের মাধ্যমে নিজেকে নির্মাণ করে। তিনি দেখিয়েছেন, স্বাধীনতা কখনও সহজ নয়, কিন্তু মানব মর্যাদার ভিত্তি এই স্বাধীনতাই।
জন্মের এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর আজও জঁ-পল সার্ত্র বিশ্ববিবেকের এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। ব্যক্তি ও সমাজ, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব, চিন্তা ও কর্ম—এই দ্বন্দ্বময় বাস্তবতার মধ্যেই তাঁর দর্শন নতুন প্রজন্মকে প্রশ্ন করতে, ভাবতে এবং ন্যায়ভিত্তিক মানবিক সমাজ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার নির্বাচিত পথেই নিহিত।
#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি