কর্পোরেট কৃষির আগ্রাসন ও উত্তরণের পথ

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬

কর্পোরেট কৃষির আগ্রাসন ও উত্তরণের পথ

Manual6 Ad Code

নজরুল ইসলাম হক্কানী |

বাংলাদেশের কৃষি নিয়ে আমরা সাধারণত উৎপাদন, ফলন, কৃষকের আয় কিংবা খাদ্য আমদানির হিসাবেই কথা বলি। কিন্তু কৃষির ভেতরে যে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম। প্রশ্নটি এখন শুধু কৃষক কত ধান ফলালেন বা কত দামে বিক্রি করলেন—তা নয়। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের কৃষি কার হাতে থাকবে? কৃষক কি তাঁর জমি, বীজ, উৎপাদন ও বাজার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি কৃষির প্রতিটি স্তর ধীরে ধীরে বড় পুঁজি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে?

এই প্রশ্নটি আজ বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন।

কৃষি এখন আর কেবল জমিতে ফসল ফলানোর বিষয় নয়। এটি বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, যন্ত্রপাতি, ঋণ, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার—একটি দীর্ঘ খাদ্যব্যবস্থার অংশ। এই পুরো ব্যবস্থায় যার নিয়ন্ত্রণ বেশি, খাদ্য ও কৃষির ওপর তার ক্ষমতাও বেশি।

বাংলাদেশে এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির সংকোচন, পানির সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারের অস্থিরতা। ফলে কৃষক একদিকে প্রকৃতির ঝুঁকি, অন্যদিকে বাজারের ঝুঁকি—দুইয়ের মধ্যে আটকে পড়ছেন।

কৃষক উৎপাদন করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন অন্যরা

বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যগুলোর একটি হলো—কৃষক উৎপাদন করেন, কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে তাঁর ক্ষমতা খুবই সীমিত।

ধান, সবজি, আলু, পেঁয়াজ কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় বাড়ছে। সার, বীজ, ডিজেল, বিদ্যুৎ, সেচ, শ্রম ও পরিবহন—সবকিছুর দাম বাড়ে। কিন্তু ফসল ওঠার পর কৃষক প্রায়ই বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে তাঁকে দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে হয়। তখন দাম কম থাকলেও বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

অন্যদিকে ভোক্তার বাজারে একই পণ্যের দাম অনেক বেশি। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার এই ব্যবধানই দেখিয়ে দেয় আমাদের খাদ্যবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা।

সমস্যা শুধু মধ্যস্বত্বভোগী নয়। আসল সমস্যা হলো—উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত কৃষকের সম্মিলিত দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। কৃষক বিচ্ছিন্ন, আর বাজার সংগঠিত।

এই পরিস্থিতিতে কৃষকের সামনে সমবায়ভিত্তিক সংগঠন ছাড়া শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করা কঠিন।

কর্পোরেট কৃষি কেন উদ্বেগের বিষয়

কর্পোরেট বিনিয়োগকে অন্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। আধুনিক কৃষির জন্য প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ দরকার। প্রশ্ন হলো—এই বিনিয়োগের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং এর সুফল কে পাবে?

Manual7 Ad Code

যদি বড় কোম্পানি কৃষিজমি, বীজ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার—সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে কৃষক ধীরে ধীরে স্বাধীন উৎপাদক থেকে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদকে পরিণত হতে পারেন।

চুক্তিভিত্তিক কৃষিতে কৃষক নির্দিষ্ট কোম্পানির শর্তে উৎপাদন করবেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি বাজারের নিশ্চয়তা দিতে পারে। কিন্তু চুক্তির শর্ত, মূল্য নির্ধারণ, মানদণ্ড, উপকরণ এবং প্রত্যাখ্যাত পণ্যের দায়—সবকিছুর ওপর যদি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাহলে কৃষকের স্বাধীনতা কোথায় থাকে?

আরও বড় প্রশ্ন কৃষিজমির বৃহৎ আকারে লিজ নিয়ে। জমির মালিকানা কৃষকের হাতে থাকলেও ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ যদি বৃহৎ পুঁজির হাতে চলে যায়, তাহলে কৃষির সামাজিক চরিত্র বদলে যেতে পারে।

Manual5 Ad Code

তাই কর্পোরেট বিনিয়োগকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে প্রয়োজন জনস্বার্থভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ। কৃষিজমি, পানি, বীজ ও খাদ্যব্যবস্থার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে যেতে দেওয়া উচিত নয়।

Manual4 Ad Code

খাদ্য সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

খাদ্যনিরাপত্তা এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব এক বিষয় নয়।

খাদ্যনিরাপত্তার অর্থ হতে পারে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু খাদ্য সার্বভৌমত্ব আরও বড় প্রশ্ন তোলে—খাদ্য কীভাবে উৎপাদিত হবে, কারা উৎপাদন করবে, কোন বীজ ব্যবহার হবে, জমি ও পানির ব্যবহার কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং উৎপাদক ও জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কতটা থাকবে।

একটি দেশ যদি খাদ্যের বড় অংশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক যুদ্ধ, জলবায়ু বিপর্যয়, সরবরাহ সংকট কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি তার খাদ্যব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

তাই খাদ্য সার্বভৌমত্বকে জাতীয় উন্নয়ননীতির কেন্দ্রে আনতে হবে।

জমি, পানি ও বীজ—কৃষির তিন স্তম্ভ

কৃষিকে বাঁচাতে হলে প্রথমে কৃষির ভিত্তি রক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে কৃষিজমি নানা কারণে ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কারণে উর্বর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমি রক্ষায় একটি শক্তিশালী আইন এবং তার কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

দ্বিতীয় বিষয় পানি। নদী, খাল, বিল ও জলাভূমি কৃষির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদী শুকিয়ে গেলে, খাল ভরাট হলে কিংবা জলাভূমি নষ্ট হলে কৃষির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। তিস্তা অববাহিকার বাস্তবতা আমাদের চোখের সামনে। নদীর পানিপ্রবাহ, সেচ, বন্যা, চর, ভাঙন ও কৃষি—সবকিছু পরস্পর সম্পর্কিত।

তাই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। নদী অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় কৃষিনীীতির অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত।

তৃতীয় বিষয় বীজ। বীজের ওপর কৃষকের ঐতিহাসিক অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। স্থানীয় ও দেশীয় বীজের বৈচিত্র্য রক্ষা, কৃষকের নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ এবং বীজের একচেটিয়া বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করতে হবে।

কৃষককে শুধু সুবিধাভোগী নয়, অংশীদার করতে হবে

Manual7 Ad Code

আমাদের কৃষিনীতি ও কৃষি কর্মসূচির বড় দুর্বলতা হলো কৃষককে প্রায়ই সুবিধাভোগী হিসেবে দেখা হয়। কৃষক ভর্তুকি পাবেন, ঋণ পাবেন, প্রশিক্ষণ পাবেন—কিন্তু নীতি নির্ধারণ করবেন অন্যরা।

এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

কৃষককে কৃষিনীতি প্রণয়নের অংশীদার করতে হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কারণ কৃষির বাস্তব সমস্যা কৃষকই সবচেয়ে ভালো জানেন।

একই সঙ্গে কৃষির সংজ্ঞাকেও সম্প্রসারিত করতে হবে। কৃষি মানে শুধু জমির মালিক কৃষক নয়। কৃষিশ্রমিক, বর্গাচাষি, জেলে, পশুপালক, দুগ্ধ উৎপাদক, ছোট পোল্ট্রি ও মাছচাষি, বনজীবী, নারী ও যুবসমাজ—সবাই খাদ্যব্যবস্থার অংশ।

সমবায় হতে পারে বিকল্প শক্তি

কর্পোরেট কৃষির সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হতে পারে শক্তিশালী সমবায়ী কৃষি অর্থনীতি।

একজন ক্ষুদ্র কৃষক একা আধুনিক কৃষিযন্ত্র কিনতে পারেন না, বড় গুদাম করতে পারেন না, পণ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারেন না এবং বড় বাজারে দর-কষাকষি করতে পারেন না। কিন্তু শত শত কৃষক একত্রিত হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

সমবায়ের মাধ্যমে কৃষক যৌথভাবে বীজ ও উপকরণ কিনতে পারেন, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেন, ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন, প্রক্রিয়াজাত করতে পারেন এবং সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।

প্রতিটি উপজেলায় কৃষক সমবায় বাজার, গুদাম ও হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা গেলে কৃষকের ‘ফসল উঠলেই বিক্রি করতে হবে’—এই বাধ্যবাধকতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

একই সঙ্গে কৃষক-ভোক্তা সরাসরি বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তাও তুলনামূলক ন্যায্য দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী ও ব্যক্তিমালিকানার সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামোর যে স্বীকৃতি রয়েছে, কৃষির নতুন বাস্তবতায় তার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করা দরকার।

কৃষির সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক

কৃষিকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।

মাটি, পানি, নদী, বন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত রাসায়নিক নির্ভরতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই কৃষিতে জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, কৃষিজীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণে সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রয়োজন নতুন কৃষক-জনগণের ঐক্য

বাংলার কৃষক সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘ। ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন, রংপুর কৃষক বিদ্রোহ, নীলবিদ্রোহ, পাবনা কৃষক আন্দোলন, হাজং ও টংক আন্দোলন এবং তেভাগা সংগ্রাম কৃষকের অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

আজকের সংকটের চরিত্র বদলেছে। তাই সংগ্রামের চরিত্রও বদলাতে হবে।

এখন কৃষকের দাবি শুধু উৎপাদিত পণ্যের দাম নয়। তাঁর দাবি জমির অধিকার, পানির অধিকার, বীজের অধিকার, ন্যায্যমূল্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উৎপাদনের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।

এই সংগ্রামে কৃষক একা থাকলে চলবে না। কৃষিশ্রমিক, জেলে, পশুপালক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী এবং ভোক্তাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

রাষ্ট্রের করণীয়

কৃষির এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে একটি সমন্বিত কৃষি ও খাদ্যনীতি গ্রহণ করতে হবে।

কৃষিজমি সুরক্ষা, বৃহৎ কৃষিজমি লিজের নিয়ন্ত্রণ, চুক্তিভিত্তিক কৃষির স্বচ্ছতা, কৃষকের বীজ অধিকার, উৎপাদন ব্যয়ভিত্তিক ন্যায্যমূল্য, কৃষি বীমা, কৃষক-ভোক্তা বাজার, সমবায়ী গুদাম ও হিমাগার, কৃষি গবেষণা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি—এসবকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ করতে হবে।

প্রয়োজনে জাতীয় কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এই কমিশনে কৃষক ও অন্যান্য উৎপাদকের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

কোন কৃষি চাই?

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সরল—আমরা কোন কৃষি চাই?

এমন কৃষি, যেখানে কৃষক শুধু শ্রম দেবেন, কিন্তু জমি, বীজ, উৎপাদন ও বাজারের সিদ্ধান্ত অন্যরা নেবেন?

নাকি এমন কৃষি, যেখানে কৃষক উৎপাদনের মর্যাদাপূর্ণ অংশীদার হবেন, সমবায়ের মাধ্যমে তাঁর অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে, বাজার হবে স্বচ্ছ ও ন্যায্য, খাদ্য হবে নিরাপদ এবং প্রকৃতি থাকবে সুরক্ষিত?

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিতে হবে।

কর্পোরেট কৃষির বিরুদ্ধে শুধু স্লোগান দিয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিকল্প প্রতিষ্ঠান, বিকল্প বাজার এবং বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণ। প্রয়োজন সমবায়কে শক্তিশালী করা, কৃষকের সংগঠনকে গণতান্ত্রিক করা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিতে উৎপাদকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

কৃষির ভবিষ্যৎ কেবল কৃষকের ভবিষ্যৎ নয়। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

তাই কৃষিকে কর্পোরেট মুনাফার একটি খাতে পরিণত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা এবং কৃষককেন্দ্রিক, সমবায়ভিত্তিক, বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি অর্থনীতি গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি।

কৃষকের অধিকার, জনগণের খাদ্য অধিকার এবং প্রকৃতির অধিকার—এই তিনকে একসূত্রে যুক্ত করেই বাংলাদেশের কৃষির নতুন পথ নির্মাণ করতে হবে।