সিলেট ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
মোবাইল জার্নালিজমে এক ডিভাইসেই সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারণায় একটি সংবাদ তৈরির পেছনে থাকত ক্যামেরাপারসন, রিপোর্টার, ভিডিও এডিটরসহ একাধিক মানুষের সমন্বিত কাজ। সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতো ভারী ক্যামেরা, আলাদা অডিও সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একটি আধুনিক স্মার্টফোনের মাধ্যমেই সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভিডিও ধারণ, অডিও রেকর্ড, সম্পাদনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ—অনেক কাজই করা সম্ভব হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছে মোবাইল জার্নালিজম বা মোজো (MoJo)। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ভিডিও কনটেন্টের বিস্তারের ফলে মোবাইল সাংবাদিকতার দক্ষতা এখন সাংবাদিকতা পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
মোবাইল জার্নালিজমের মূল ধারণা হলো—প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার মৌলিক দক্ষতাকে একটি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে একত্র করা। একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও ধারণ, সাক্ষাৎকার নেওয়া, প্রয়োজনীয় সম্পাদনা এবং দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে পারেন। ফলে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সময় ও সরঞ্জামনির্ভরতার কিছু সীমাবদ্ধতা কমে আসে।
তবে শুধু স্মার্টফোন হাতে থাকলেই ভালো মোবাইল সাংবাদিকতা করা যায় না। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, গল্প বলার কৌশল, ক্যামেরার ব্যবহার, শব্দ ধারণ, ভিডিও কম্পোজিশন, সম্পাদনা এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের সময়ে নিউজ ভেরিফিকেশন বা সংবাদ যাচাইয়ের দক্ষতা সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমন বাস্তবতার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইমার্জিং মিডিয়া (BIJEM)-এর উদ্যোগে ‘Multimedia & Mobile Journalism Course’-এর নতুন ব্যাচ শুরু হচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কোর্সটির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
কোর্সটির বিষয়বস্তুর মধ্যে মোবাইল সাংবাদিকতার পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, উপস্থাপনা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সংবাদ যাচাইয়ের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল সাংবাদিকতায় একজন সংবাদকর্মীকে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়। লিখিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ছবি, ভিডিও, অডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপযোগী কনটেন্ট তৈরির প্রয়োজনও বাড়ছে।
সাংবাদিকতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ইংরেজি দৈনিক দ ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের মতে, প্রযুক্তি সাংবাদিকতার কাজের ধরন বদলে দিলেও সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব বদলায়নি। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা, একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা এবং সংবাদে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ফলে মোবাইল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে সাংবাদিকতার নীতি ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু সেই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কখন ধারণ করা হয়েছে, ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী—এসব প্রশ্নের উত্তর যাচাই না করে কোনো কনটেন্টকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মোবাইল সাংবাদিকতার সঙ্গে সংবাদ যাচাইয়ের দক্ষতা যুক্ত হওয়া সময়ের প্রয়োজন।
মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় প্রেজেন্টেশন ও কমিউনিকেশন স্কিল-এর গুরুত্বও রয়েছে। ক্যামেরার সামনে তথ্য উপস্থাপন, সাক্ষাৎকারদাতার সঙ্গে যোগাযোগ, সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট ভাষায় তথ্য তুলে ধরা এবং ভিডিও প্রতিবেদনের জন্য উপযুক্ত স্টোরিটেলিং—এসব দক্ষতা একজন মোবাইল সাংবাদিকের কাজকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
মোবাইল সাংবাদিকতার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করার সক্ষমতা। প্রচলিত বড় প্রোডাকশন সেটআপের তুলনায় স্মার্টফোনভিত্তিক কাজ অনেক ক্ষেত্রে বেশি গতিশীল ও বহনযোগ্য। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা, আকস্মিক ঘটনা, তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার কিংবা দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা সহজে কাজ করার সুযোগ পান।
তবে এর পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। স্মার্টফোনের ক্যামেরা যত উন্নতই হোক, সব পরিস্থিতিতে পেশাদার ক্যামেরা বা বিশেষায়িত সরঞ্জামের বিকল্প নয়। কম আলো, অতিরিক্ত শব্দ, দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং, নির্দিষ্ট ধরনের সম্প্রচারমান বজায় রাখা কিংবা জটিল প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সাংবাদিকতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ইংরেজি দৈনিক দ ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের মতে, মোবাইল সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়; বরং প্রযুক্তিকে সাংবাদিকতার নীতিমালা ও দক্ষতার সঙ্গে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। একটি স্মার্টফোন একজন সাংবাদিককে দ্রুত কাজ করার সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু কোন তথ্য প্রকাশ করা হবে, কীভাবে তা যাচাই করা হবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে তা দর্শক বা পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা হবে—সেই সিদ্ধান্ত সাংবাদিককেই নিতে হয়।
ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণেও পরিবর্তন আসছে। প্রচলিত রিপোর্টিং ও লেখার দক্ষতার পাশাপাশি ভিডিও স্টোরিটেলিং, মোবাইল ভিডিওগ্রাফি, অডিও, এডিটিং, অন-ক্যামেরা প্রেজেন্টেশন এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো দক্ষতা নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে BIJEM-এর Multimedia & Mobile Journalism Course-এর নতুন ব্যাচের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ক্লাস হবে শুক্রবার ও শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে WhatsApp নম্বর 01711-750189 এবং বিশেষ প্রয়োজনে 01312341313 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
প্রযুক্তি সাংবাদিকতার হাতিয়ারকে ছোট ও সহজলভ্য করে তুলেছে। এখন একটি স্মার্টফোনের মধ্যেই ক্যামেরা, রেকর্ডার, এডিটিং প্ল্যাটফর্ম এবং প্রকাশনার নানা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় রূপ দিতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, যাচাই-বাছাইয়ের অভ্যাস এবং পেশাগত নৈতিকতা। ফলে মোবাইল সাংবাদিকতা শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নয়; এটি সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সাংবাদিকতার অভিযোজনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি