আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে রূপপুর

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে রূপপুর

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। প্রকল্পের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় দ্রুত সমাধানে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Manual6 Ad Code

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রুশ রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। পরে এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, কেন্দ্রটি থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ইস্যু দ্রুত সমাধানে বিপুলসংখ্যক রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ জোরদারে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দুই দেশের আন্তসরকার কমিশনের বৈঠকে বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। মস্কোতে অনুষ্ঠেয় ব্যবসায়িক ফোরামে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি ‘বিজনেস টু বিজনেস’ (বিটুবি) বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক খাতের পাশাপাশি রাশিয়ায় বাংলাদেশি মানবসম্পদ রপ্তানির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দেশটিতে ভালো চাহিদা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য, জাহাজনির্মাণ ও সেবা খাতে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য রাশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে।

Manual4 Ad Code

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ