অনুবাদের নতুন বাস্তবতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনুবাদকের বিচারবোধ

প্রকাশিত: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

অনুবাদের নতুন বাস্তবতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনুবাদকের বিচারবোধ

Manual7 Ad Code

সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

সাহিত্য অনুবাদকে একসময় অনেকেই মূল সাহিত্যের তুলনায় গৌণ একটি সৃজনশীল কাজ হিসেবে দেখতেন। অনুবাদক যেন লেখকের ছায়াসঙ্গী—মূল রচনার ভাষা বদলে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনুবাদ সম্পর্কে সেই ধারণা বদলেছে। এখন অনুবাদকে কেবল এক ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় প্রতিস্থাপনের কাজ হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড। একটি সাহিত্যকর্মের ভাষা, সংস্কৃতি, রসবোধ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এবং লেখকের নিজস্ব শৈলী অন্য ভাষায় পুনর্নির্মাণ করা নিঃসন্দেহে সৃজনশীলতারই অংশ।

এই পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতায় অনুবাদ জগতে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শক্তি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। অনুবাদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা নয়; এটি বর্তমানের বাস্তবতা। যন্ত্রনির্ভর অনুবাদ থেকে শুরু করে জেনারেটিভ এআই—প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি অনুবাদ প্রক্রিয়াকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি সামনে এনেছে নতুন কিছু প্রশ্নও। বিশেষত সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি শুধু ‘এআই কতটা ভালো অনুবাদ করতে পারে’—এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এআই-সহায়িত অনুবাদে অনুবাদকের ভূমিকা কী হবে, সম্পাদকের দায়িত্ব কোথায়, এবং পাঠক কীভাবে জানবেন যে একটি অনুবাদ কতটা মানবনির্ভর আর কতটা যন্ত্রনির্ভর?

বিশিষ্ট লেখক, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ গোলাম হোসাইন (জি. এইচ.) হাবিবের আলোচনায় এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে এসেছে। তাঁর নিজের অনুবাদকর্মের পরিসরও এই আলোচনাকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। উমবের্তো একো, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, ইতালো কালভিনো ও আইজ্যাক আসিমভের মতো বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনা ও সাহিত্যতত্ত্ব বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। অনুবাদ সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও পেয়েছেন। ফলে এআই ও অনুবাদ নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের আলোচনা নয়; এটি একজন দীর্ঘদিনের অনুবাদক ও সাহিত্যকর্মীর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও।

শব্দান্তর নয়, অর্থ ও অভিজ্ঞতার পুনর্নির্মাণ

অনুবাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শব্দের অর্থ নয়, অর্থের ভেতরের অর্থকে ধারণ করা। একটি বাক্য অভিধান অনুসরণ করে অনুবাদ করা সম্ভব; কিন্তু সেই বাক্যের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ, ব্যঙ্গ, রসবোধ কিংবা চরিত্রের অন্তর্নিহিত অনুভূতি যথাযথভাবে অন্য ভাষায় পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি কঠিন।

ধরা যাক, কোনো উপন্যাসে একটি চরিত্র এমন একটি প্রবাদ ব্যবহার করল, যার আক্ষরিক অর্থ একরকম কিন্তু সাংস্কৃতিক অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি যন্ত্র আক্ষরিক অর্থ শনাক্ত করতে পারে, সম্ভাব্য সমার্থক বাক্যও দিতে পারে; কিন্তু কোন বাংলা অভিব্যক্তিটি সেই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্বাভাবিক, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন ভাষা ও সংস্কৃতির গভীর বোধ।

সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে এই মানবিক বিচারবোধই অনুবাদকের বড় শক্তি।

কারণ সাহিত্য শুধু তথ্য বহন করে না, অনুভূতিও বহন করে। একটি কবিতার ছন্দ, একটি উপন্যাসের বাক্যপ্রবাহ, একটি চরিত্রের কথার ভঙ্গি কিংবা লেখকের ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা—এসবের সবকিছুকে কেবল তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এগুলো সাহিত্যের নান্দনিক কাঠামোর অংশ।

এআই অনুবাদকের প্রতিদ্বন্দ্বী, নাকি সহকারী?

Manual3 Ad Code

এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে আতঙ্কের একটি বড় কারণ হলো—এটি দ্রুত অনুবাদ করতে পারে, বিপুল পরিমাণ লেখা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অনুবাদকের প্রয়োজন কি একদিন ফুরিয়ে যাবে?

সম্ভবত বাস্তব চিত্রটি এত সরল নয়।

Manual4 Ad Code

বরং এআই অনুবাদকের কাজের ধরন বদলে দিতে পারে। একজন অনুবাদককে হয়তো ভবিষ্যতে প্রতিটি বাক্যের প্রাথমিক অনুবাদ নিজ হাতে তৈরি করতে হবে না। এআই একটি খসড়া অনুবাদ তৈরি করতে পারে, কঠিন শব্দের সম্ভাব্য অর্থ দিতে পারে, দীর্ঘ টেক্সটের কাঠামো বিশ্লেষণ করতে পারে কিংবা একই অংশের একাধিক অনুবাদ-সম্ভাবনা হাজির করতে পারে। কিন্তু সেখানেই অনুবাদের কাজ শেষ হবে না। বরং শুরু হবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যাচাই, পরিমার্জন, পুনর্লিখন এবং সাহিত্যিক পুনর্নির্মাণ।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনুবাদক হয়তো শুধু ‘translator’ থাকবেন না; তিনি একই সঙ্গে হবেন সম্পাদক, ভাষাবিশেষজ্ঞ, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যাকার এবং এআই-উৎপাদিত পাঠের সমালোচক।

এখানে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা জরুরি: দ্রুত অনুবাদ আর ভালো অনুবাদ এক জিনিস নয়।

Manual7 Ad Code

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: স্বচ্ছতা

এআই-সহায়িত অনুবাদ যত বাড়বে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে স্বচ্ছতার প্রশ্ন। একটি অনুবাদ যদি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এআই ব্যবহার করে তৈরি হয়, পাঠকের কি তা জানার অধিকার আছে?

এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সাহিত্যকর্মের পাঠক শুধু অনুবাদিত ভাষার অর্থ গ্রহণ করেন না; তিনি অনুবাদকের একটি সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ওপরও আস্থা রাখেন। অনুবাদক কীভাবে মূল রচনার একটি শব্দের অর্থ নির্ধারণ করেছেন, কোন সাংস্কৃতিক উপমার কী প্রতিস্থাপন করেছেন, কোন বাক্যের ভঙ্গি কীভাবে পুনর্গঠন করেছেন—এসবের পেছনে থাকে তাঁর নিজস্ব সাহিত্যিক বিচার।

সুতরাং এআইয়ের ভূমিকা গোপন রেখে একটি অনুবাদকে পুরোপুরি মানবসৃষ্ট অনুবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা নৈতিকভাবেও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, সম্পাদক এবং অনুবাদকদের তাই এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োজন। কোথায় এআই ব্যবহার করা হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পাঠের দায়িত্ব কার—এসব বিষয়ে অন্তত একটি সাধারণ নীতিগত কাঠামো থাকা জরুরি।

এটি শুধু অনুবাদের ক্ষেত্রে নয়; সাংবাদিকতা, একাডেমিক লেখা, সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সম্পাদক কি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন?

এআইয়ের প্রসঙ্গে অনুবাদকের পাশাপাশি সম্পাদকের ভূমিকাও নতুন করে ভাবতে হবে।

এআই একটি অনুবাদ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই অনুবাদ নির্ভুল কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য মানুষের প্রয়োজন হবে। এমনকি ব্যাকরণগতভাবে একটি বাক্য নিখুঁত হলেও সেটি সাহিত্যিকভাবে ভুল হতে পারে। কোনো শব্দের অভিধানগত অর্থ সঠিক হলেও প্রসঙ্গের বিচারে সেটি ভুল নির্বাচন হতে পারে। একটি চরিত্রের ভাষা যদি তার সামাজিক অবস্থান, বয়স কিংবা মানসিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে অনুবাদটি ভাষাগতভাবে চমৎকার হলেও সাহিত্যিকভাবে ব্যর্থ হতে পারে।

এখানেই সম্পাদকের ভূমিকা।

Manual1 Ad Code

ভবিষ্যতে হয়তো এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হবে, যেখানে এআই-উৎপাদিত অনুবাদের পরিমাণ বাড়বে, কিন্তু সেই অনুবাদকে পাঠযোগ্য, প্রাসঙ্গিক ও সাহিত্যসম্মত করে তোলার জন্য দক্ষ সম্পাদকদের প্রয়োজন আরও বাড়বে।

অর্থাৎ প্রযুক্তি হয়তো অনুবাদ তৈরির গতি বাড়াবে; কিন্তু মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মানুষের কাঁধেই থাকবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন নীতিমালা

বাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদের প্রয়োজন আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্যও বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। এআই এই বিনিময়কে অনেক দ্রুত ও সহজ করে দিতে পারে।

কিন্তু সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে।

বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা, উপভাষা, সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে যান্ত্রিকভাবে অন্য ভাষায় রূপান্তর করলে অনুবাদ হয়তো ‘বোধ্য’ হবে, কিন্তু তার সাহিত্যিক স্বর হারিয়ে যেতে পারে। একইভাবে বিদেশি সাহিত্য বাংলায় আনার সময়ও কেবল আক্ষরিক অর্থ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন।

তাই বাংলাদেশে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, অনুবাদ সংগঠন ও সাহিত্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এআই-সহায়িত অনুবাদ নিয়ে আলোচনা শুরু করা। কী ধরনের ব্যবহারে এআই গ্রহণযোগ্য, কোথায় মানবসম্পাদনা বাধ্যতামূলক, এআই ব্যবহারের মাত্রা কীভাবে প্রকাশ করা হবে এবং অনুবাদের দায়ভার কে নেবেন—এসব বিষয়ে নীতিগত নির্দেশনা তৈরি করা দরকার।

প্রযুক্তি বদলাবে, মানুষের প্রয়োজন শেষ হবে না

প্রযুক্তির ইতিহাস আমাদের একটি বিষয় বারবার মনে করিয়ে দেয়—নতুন প্রযুক্তি অনেক কাজের ধরন বদলে দেয়, কিন্তু মানুষের প্রয়োজন সবসময় একইভাবে শেষ করে দেয় না। ছাপাখানা লেখকের প্রয়োজন শেষ করেনি, কম্পিউটার সম্পাদকের প্রয়োজন শেষ করেনি, অনলাইন প্রকাশনা সাংবাদিকতার প্রয়োজন শেষ করেনি। বরং কাজের প্রকৃতি বদলেছে।

এআইও সম্ভবত অনুবাদকের ক্ষেত্রে তেমনই একটি পরিবর্তন আনবে।

ভবিষ্যতের সবচেয়ে সফল অনুবাদক হয়তো তিনি নন, যিনি এআই ব্যবহার করেন না; আবার তিনিও নন, যিনি এআইয়ের তৈরি পাঠ হুবহু গ্রহণ করেন। সফল অনুবাদক সম্ভবত সেই ব্যক্তি, যিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন এবং একই সঙ্গে তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সতর্ক। যিনি জানেন কোথায় যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং কোথায় নিজের সাহিত্যিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

শেষ পর্যন্ত অনুবাদ হলো মানুষের ভাষা থেকে মানুষের ভাষায় যাওয়ার একটি সেতু। সেই সেতু নির্মাণে প্রযুক্তি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেতুটি কোথায় স্থাপন করা হবে, কোন পথ ধরে যাবে এবং তার ওপারে পৌঁছে পাঠক কী অনুভব করবেন—এই সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের।

সাহিত্যিক অনুবাদের ভবিষ্যৎ তাই মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াই নয়। বরং এটি মানুষ ও প্রযুক্তির সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি সময়। আর এই নতুন সময়ে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠবে তিনটি বিষয়—স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক বিচারবোধ।

কারণ একটি ভালো অনুবাদ শুধু ভাষা বদলায় না; একটি ভালো অনুবাদ এক সংস্কৃতির অনুভূতিকে আরেক সংস্কৃতির পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তোলে। সেই জীবন্ততার জায়গাটিই হয়তো ভবিষ্যতেও মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে থাকবে।
#

সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯
Bikash number : +8801716599589 (personal)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ