নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার মালিকানা জনগণের হাতে রাখার আহ্বান

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার মালিকানা জনগণের হাতে রাখার আহ্বান

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে জনগণের মালিকানাধীন, বিকেন্দ্রীভূত ও ন্যায়ভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংহতি বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

Manual7 Ad Code

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনসহ ৩৫টি সংগঠন অংশ নেয়।

বদরুল আলম বলেন, জ্বালানি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন সরাসরি সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, খরা, নদীভাঙন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দেশের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখে পড়ছেন।

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, “এই সংকট তৈরিতে কৃষক-শ্রমিকের দায় প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির বড় বোঝা তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।”

কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসনির্ভর উন্নয়ন আর অব্যাহত রাখা যায় না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কার্বন নিঃসরণ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস, ভূমি দখল, মানুষের উচ্ছেদ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তর প্রয়োজন।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের নামে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার হাতে জ্বালানি ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। বদরুল আলম বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি তখনই প্রকৃত সমাধান হবে, যখন এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ জনগণের হাতে থাকবে।”

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ হতে হবে বিকেন্দ্রীভূত, গণমুখী ও পরিবেশবান্ধব। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের স্বার্থকে জ্বালানি নীতির কেন্দ্রে রাখতে হবে। তিনি শতভাগ জনগণের মালিকানাধীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

Manual8 Ad Code

বদরুল আলম আরও বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক, মৎস্যজীবী, নারী ও শ্রমজীবী মানুষ যাতে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পান, সেটিই জ্বালানি নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, কৃষকের জমি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী, কৃষক, যুব ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি বক্তব্য দেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার পক্ষে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোই এ প্রচারাভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ রূপান্তরকে জনগণকেন্দ্রিক, পরিবেশবান্ধব ও ন্যায়ভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলেছে, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের স্বার্থে নবায়নযোগ্য, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনগণের মালিকানাধীন জ্বালানি ব্যবস্থার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ