সার্কুলার ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ১৭ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

সার্কুলার ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ১৭ সেপ্টেম্বর

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | গান্ধীনগর, গুজরাট (ভারত), ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সামুদ্রিক দূষণ রোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সার্কুলার ব্লু ইকোনমি’ বা চক্রাকার নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে বিশ্ব সার্কুলার ইকোনমি ফোরাম (WCEF) ২০২৬-এর একটি বিশেষ অ্যাকসেলারেটর সেশনে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরে অনুষ্ঠিত হবে ‘এ সার্কুলার ব্লু ইকোনমি: বাংলাদেশ অ্যাজ আ সাউথ এশিয়ান পাইওনিয়ার’ শীর্ষক এই সেশন।

বিশ্ব সার্কুলার ইকোনমি ফোরাম ২০২৬ (WCEF 2026) ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

ফিনিশ ইনোভেশন ফান্ড সিত্রা এবং ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB) বিভিন্ন বৈশ্বিক ও স্থানীয় অংশীদারের সহযোগিতায় এবারের ফোরামের আয়োজন করছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু ঝুঁকি ও স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ—এই দুই ধরনের চাপের মুখে দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলীয় অর্থনীতিগুলোকে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণনির্ভর প্রচলিত অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে আরও টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সম্পদকে ঘিরে সার্কুলার ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে সেশনে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনায় ব্লু ইকোনমিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্লু ইকোনমি রিসার্চ ফান্ড এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথাও সেশনের প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরা হবে।

Manual5 Ad Code

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশের সার্কুলার ইকোনমি পোর্টফোলিওতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—চক্রাকার নীতিকাঠামো, যুব ও কর্মসংস্থান, সার্কুলার ভ্যালু চেইন, সবুজ ও চক্রাকার শহর এবং ব্লু ইকোনমি। ব্লু ইকোনমির আওতায় টেকসই অ্যাকুয়াকালচার, উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং, পরিবহন, জ্বালানি উৎপাদন এবং সামুদ্রিক জৈবসম্পদের মূল্য সংযোজনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

তবে সামুদ্রিক সম্পদের ওপর ভিত্তি করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার আগে সামুদ্রিক প্রতিবেশ ও মৎস্যসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে সেশনে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সার্কুলার ব্লু ইকোনমির সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সেশনে বাংলাদেশের সার্কুলার ব্লু ইকোনমিতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও কার্যকর নীতিকাঠামোর পাশাপাশি টেকসই অ্যাকুয়াকালচার, উপকূলীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সামুদ্রিক জৈবসম্পদের মূল্য সংযোজনের মতো খাত নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করা, ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স ও ব্লু কার্বন ব্যবস্থার সম্ভাবনা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবিকার সুযোগ তৈরির বিষয়েও মতবিনিময় হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গান্ধীনগরের গিফট সিটি ক্লাবের মোনেটা কনফারেন্স হলে সেশনটি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে এটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনলাইনেও উন্মুক্ত থাকবে।

সেশনের শুরুতে বাংলাদেশের সার্কুলার ইকোনমি পোর্টফোলিও এবং এর আওতায় ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থাপনা করবেন UNDP বাংলাদেশের গ্রিন গ্রোথ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ও পোর্টফোলিও লিড জ্যাকব ফিঙ্ক ফার্ডিনান্ড। এরপর বাংলাদেশের সার্কুলার ব্লু ইকোনমির নীতি, অর্থনীতি, সম্ভাবনা ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘Unlocking Bangladesh’s Circular Blue Economy: Mapping the Path Forward’ শীর্ষক উপস্থাপনা করবেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম।

পরে ‘Towards a Sustainable, Resilient and Inclusive Development of Marine and Coastal Natural Resources’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় নীতি ও সুশাসন, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, শিল্পের রূপান্তর ও ব্যবসায়িক মডেল, অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবিকা এবং সার্কুলার ফাইন্যান্সের মতো বিষয় প্রাধান্য পাবে।

Manual1 Ad Code

প্যানেল আলোচনায় থাকবেন ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্টের (NCSCM) বিজ্ঞানী ড. দীপনারায়ণ গাঙ্গুলি, বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের ডেল্টা উইং ও ব্লু ইকোনমি উইংয়ের প্রধান যুগ্ম সচিব ড. এস এম জোবায়দুল কবির, এম এস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভলিহুডস প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. এস. ভেলভিঝি এবং এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য ডেভেলপমঁ (AFD), ভারতের বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন অ্যান্ড ব্লু ইকোনমি বিভাগের লিড নিধি বাত্রা। প্যানেলটি সঞ্চালনা করবেন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের (IIX) সিনিয়র ডিরেক্টর, গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পার্টনারশিপস প্রিয়াঙ্ক তিওয়ারি।

সেশনের শেষ পর্যায়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সমাপনী বক্তব্য দেবেন UNDP ভারতের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড কেমিক্যালস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রজেক্ট স্পেশালিস্ট প্রতিভা শর্মা।

আয়োজকদের মতে, সেশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সার্কুলার ব্লু ইকোনমিতে নীতি, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কাঠামো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং দক্ষিণ এশিয়ার অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক সার্কুলার প্রযুক্তি, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সংযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমন্বয়ের সম্ভাব্য পথ নিয়েও আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা হবে।

???? Register for participation: https://t.ly/_gVFr
????Learn About the Event: https://t.ly/SPLkM

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ