ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার পরিহারের দাবি পরিবেশবাদীদের

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার পরিহারের দাবি পরিবেশবাদীদের

Manual5 Ad Code
  • বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ঢাকার সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে মাত্র ৫-৭% ব্যক্তিগত গাড়ি হলেও তারা প্রায় ৭০% সড়ক জায়গা দখল করে। গণপরিবহনে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯০%। বুয়েটের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার যানজটের কারণে বছরে প্রায় ৩-৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ অপচয় হয়। মাত্রাতিরিক্ত যান্ত্রিক যানের কারণে বাড়ছে বায়ুদূষণ, ফলে ঢাকায় প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সকাল ০৮টায়, ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কস্থ আবাহনী খেলার মাঠের সামনে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আয়োজক সংস্থাসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত “কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী” (Fewer cars, cooler cities’) শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

Manual5 Ad Code

প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মো মিঠুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, গ্রীন ভয়েজের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র সরকার, ডিজ্যাবিলিটি ডিফারেন্ট প্রোগ্রাম (ডিডিপি) এর সভাপতি জাকির হোসেন, সাইকেলার্স অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট সিফাত হারুন, সিডিপি’র রিসার্চ এন্ড ডেমোন্সট্রেশন কো-অর্ডিনেটর মেরিনা আক্তার বানু, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এম এ মান্নান মনির, রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহাজ্জত হোসেন, কচিকন্ঠ হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার শিমু, লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার পান্না, ছায়াতল বাংলাদেশ এর রেদোয়ান রাহাত, ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের হেড অফ এনভায়রনমেন্ট মুন্না, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, হেড অব প্রোগাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর পলিসি অফিসার তালুকদার রিফাত পাশা এবং নাগরিক ফোরামের মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিরোজ রহমান।

Manual7 Ad Code

বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের অভাবে ঢাকা মহানগরী ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। জনসংখ্যার আধিক্যের সাথে সাথে এ শহরে যাতায়াত চাহিদা ও যান্ত্রিক যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা পরিণত হয়েছে যানজটের শহরে। ঢাকা শহরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে সংঘটিত হয়। হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে অনেকেই হাঁটতে উৎসাহিত হবেন এবং দৈনন্দিন অনেক কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

বক্তারা আরো বলেন, সম্প্রতি জ্বালানী তেলের লিটার প্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় এবং পারিবারিক ব্যয়ের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। তাই জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহন, হাঁটা ও সাইকেল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো গেলে জ্বালানী সাশ্রয়, পারিবারিক পরিবহন ব্যয় হ্রাস, যানজট ও বায়ুদূষণ কমানো এবং নগরবাসীর জন্য আরও বাসযোগ্য ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

আয়োজন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে পথচারীদের হেঁটে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রশস্ত ও নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা; শহরের মাস্টারপ্ল্যানে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনকে প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে প্রাধান্য দেয়া; অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; প্রধান সড়কে সুরক্ষিত সাইকেল লেন, রুট নেটওয়ার্ক, সাইকেল পার্কিং হাব ও সাইকেল-শেয়ারিং প্রোগ্রাম চালু; স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া; হাঁটা, সাইকেল, বাস, রেল, নৌ-নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; নগর যাতায়াতে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণ; স্কুল-বাসা-বাজারসহ ব্যস্ত এলাকায় গতি সীমা প্রয়োগ; হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সুবিধা বিষয়ে প্রচারণা করা; ট্রাফিক নিয়মকানুন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি; পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

Manual7 Ad Code

আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ