সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬ বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬ বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে

Manual2 Ad Code
  • দুর্ঘটনায় পরিবারভিত্তিক নিহতের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ : সড়ক দুর্ঘটনায় একসাথে পুরো পরিবার নিহতের প্রবণতা বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স আরোহী এবং বাস যাত্রী হিসেবে একসাথে পুরো পরিবার অথবা এক পরিবারের অধিক সদস্য নিহতের প্রবণতা বাড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা যায়, গত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রেরণ করেন।

মোটরবাইক দুর্ঘটনা:

Manual5 Ad Code

মোটরবাইক আরোহী হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। অর্থাৎ ১৫৩টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং ১৫৯টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনা:

অটোরিকশা যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২১১টি। ৩ জন নিহতের ঘটনা ১১৮টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৯২টি, ৫জন নিহতের ঘটনা ৫৩টি, ৬ জন নিহতের ঘটনা ৩৮টি এবং ৭ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। মোট ৫২৫টি দুর্ঘটনায় ১৭২৮ জন নিহত হয়েছেন।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা:

Manual6 Ad Code

মাইক্রোবাসের আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ৪৬টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৩৯টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ২৮টি, ৬ জন নিহতের ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা ৪টি এবং ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১টি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা:

প্রাইভেটকার আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। ৩ জন নিহতের ঘটনা ৩১টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ২৪টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন।

Manual7 Ad Code

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা:

অ্যাম্বুলেন্স আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ১৫টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৯টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ৭টি, ৮ জন নিহতের ঘটনা ৩টি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত হয়েছেন।

বাস দুর্ঘটনা:

বাস যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ৯টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৬টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত।

পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনা:

পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১টি।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:

১. পরিবারের সবাই একসাথে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে;
২. মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল;
৩. অধিকাংশ মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা;
৪. মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অদক্ষতা ও বিশ্রামহীন ড্রাইভিং করা;
৫.মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো;
৬.ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।

সুপারিশ:

১. মোটরবাইক আরোহীদের ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার করা;
২. ট্রাফিক আইন মেনে মোটরযান চালানো;
৩. সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ করা;
৪. গ্রামীণ সড়ক মহাসড়কে সরাসরি সংযুক্ত না করে নিরাপদ রোড ডিজাইন তৈরি করা;
৫. সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল নজরদারি করা;
৬. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
৭. সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা-সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ :

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার এই চিত্র বাংলাদেশের সড়কে নিরাপত্তাহীনতা ও সীমাহীন অব্যবস্থার চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালনার প্রাথমিক শিক্ষা কোর্স (ব্যবহারিক সহ) চালু করাসহ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা,পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করা, সকল সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমানো, গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা, সড়ক, নৌ ও রেলপথে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাসহ
সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা যথাযথ বাস্তবায়নে নতুন নতুন কৌশল ও ডিজিটালাইজড উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বোপরি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাইজড করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রায় দুই বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে, তা বাস্তবায়ন জরুরি।
যাত্রী ও পথচারীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা ও বিধি-বিধান প্রতিপালনে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে আইন ও শৃঙ্খলা মানার সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ আইন প্রয়োগে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ, মালিক, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে সেল তৈরি করে এবং প্রতি বিভাগ ও জেলায় একইভাবে সেল গঠন করে নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এ সেলকে সর্বদাই সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব।”

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ