ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৬

ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু

Manual8 Ad Code
  • অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও ক্যাপসের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ : ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং জনসাধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য বায়ুমানের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর কারিগরি সহযোগিতায় অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ১৮ মাস মেয়াদি গবেষণা উদ্যোগ ‘ব্রিদিং ঢাকা: ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত হাইপারলোকাল PM₂.₅ পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণভিত্তিক বায়ুমান নীতি’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা আয়োজন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট (EPIC)-এর ‘এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটি অর্থায়ন করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ ভবনে এ উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির আরবান এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. এ. টি. এম. নুরুল আমিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ব্রিদিং ঢাকা’র মতো সমন্বিত উদ্যোগ বায়ুদূষণ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সরবরাহ করবে এবং ঢাকার বায়ুমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ইমতিয়াজ জামি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রকল্পের কারিগরি কাঠামো, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল মোতালিব প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে যন্ত্রপাতির যথাযথ ক্যালিব্রেশন, তথ্য সংগ্রহ-পরবর্তী উপাত্ত যাচাই এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

Manual6 Ad Code

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, “অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে, যাঁরা পরিবেশদূষণ ও এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতির ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছেন। ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কমিউনিটি পর্যায়ে বায়ুমানের তথ্য সংগ্রহ ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, নির্ভরযোগ্য তথ্য, জনসচেতনতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং আচরণগত পরিবর্তনই সুস্থ ও সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।”

বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. এ. টি. এম. নুরুল আমিন বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বৈজ্ঞানিকভাবে তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে অর্থবহ গবেষণা শুধু পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যকে কার্যকর নীতিমালায় রূপান্তর করতে হবে।”

ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, “‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত ও বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকায় আটটি PM₂.₅ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে যন্ত্রপাতির যথাযথ ক্যালিব্রেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরের রেফারেন্স মনিটরের সঙ্গে উপাত্তের তুলনামূলক যাচাই এবং কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংগৃহীত তথ্য গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য সর্বসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে উন্মুক্ত করা হবে।”

উদ্বোধনী সভা শেষে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা ও যৌথ কার্যক্রমের কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও ক্যাপসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ, সেন্সর স্থাপন ও ক্যালিব্রেশন, উপাত্তের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও যাচাই, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং গবেষণা কার্যক্রমে ক্যাপস কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও তাঁদের মূল্যবান মতামত, সুপারিশ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক বেগম শাহনাজ রহমান; একই বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজিনা আক্তার; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব তপন কুমার নাথ; বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী ও বিআরসিপি-১ প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন; বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সাফিউর রহমান; ক্যাপসের লিড রিসার্চার (দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন) মারজিয়াত রহমান; ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান খাদিজাতুল কুবরা সারা; গাউস পেয়ারী এবং ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের (WBB Trust) প্রতিনিধিবৃন্দ; ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ফারিহা সুলতানা অমি এবং ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের ইসলাম। বক্তারা প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় এবং বাস্তবসম্মত প্রশমন কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রকল্পের কার্যকারিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সমাপনী বক্তব্যে সভার সভাপতি ফরিদ আহমেদ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

Manual1 Ad Code

সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ন্যাশনাল কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (NACOM), এসআরসিএল (SRCL), ওসিএল (OCL), ডব্লিউবিবিটি (WBBT), বিভিন্ন যুব সংগঠন এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

Manual6 Ad Code

‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও ক্যাপসের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য এবং জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, উন্মুক্ত উপাত্ত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ