বন্দর বিদেশিদের হাতে, দেশ চুক্তির ফাঁদে; দেশ রক্ষার লড়াইয়ের ডাক

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

বন্দর বিদেশিদের হাতে, দেশ চুক্তির ফাঁদে; দেশ রক্ষার লড়াইয়ের ডাক

Manual5 Ad Code
  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমাবেশে ঘোষণা ও প্রস্তাবাবলী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ও চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় সমাবেশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।

সমাবেশ থেকে ঘোষণা ও প্রস্তাবাবলী উপস্থাপন করে নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসের কর্মসূচি দেওয়া হয়। ঘোষণা ও প্রস্তাবাবলী নিচে তুলে ধরা হলো।

ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের পরিণতিতে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ এক দুঃসময়ের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। দুঃশাসন, দুর্নীতি ও লুণ্ঠন, দেশি বিদেশি লুটপাটকারীদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেয়া, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে বন্দর, গ্যাস, খনিজ সম্পদ তুলে দেয়া ও মেগা লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের অভূতপূর্ব সংগ্রাম, জীবনদান এবং শ্রমিক কৃষকের লড়াই গণঅভ্যুত্থানকে অনিবার্য করে তুলেছিল। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করছে ফলে গণতান্ত্রিক সমাজের পরিবর্তে দেশের সামনে এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণহীন, দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া ফলে আইনশৃঙ্খলা বিপর্যস্ত, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আর কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম যেন সরকারের বিবেচনায় নেই, বেকার সমস্যা ভয়াবহ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নেই এই রকম পরিস্থিতিতে দেশের বন্দর, টার্মিনাল, বাণিজ্য নিয়ে যে অসম চুক্তির ফাঁদে দেশকে চিরস্থায়ীভাবে আটকে ফেলা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমরা লড়ছি।

সারাদেশে এই সর্বনাশা চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে আজ শহীদ মিনারে আমরা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত করছি। এই সমাবেশ থেকে আমি নিম্নোক্ত প্রস্তাব পাঠ করছি।

১) মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে গেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার সে চুক্তি বাতিল না করে তা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৮ হাজার কোটি টাকায় ২৫টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের চুক্তি করেছে। প্রতি টনে ৯ হাজার টাকা বেশি দাম দিয়ে প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম ১৫ বছর ধরে কিনতে হবে। ইতিমধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টন গম বেশি দামে কিনে আনা হয়েছে। বেশি দামে ১৩ বছরে ৭১ হাজার কোটি টাকার এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তুলা, সয়াবিন, রাসায়নিক, সামরিক সরঞ্জাম, মাছ, মাংস, ফল-মূলসহ কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য হবো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে। ওষুধের জেনেরিক পেটেন্টের মূল্য দিতে গিয়ে দেশের ওষুধশিল্প ধ্বংস হবে।

সর্বোপরি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের ওপর অবরোধ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেসব দেশের সঙ্গে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারব না। এর নমুনা দেখা গেছে সম্প্রতি জ্বালানি সংকটের সময়। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্পের অনুমতি চেয়েও পাওয়া যায়নি।

ফলে এ সর্বনাশা চুক্তির নাগপাশ থেকে বের হতে না পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ থেকে দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বনাশা দেশবিরোধী চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করার জন্য এই সমাবেশ দাবি জানাচ্ছে।

২) চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা

চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের প্রধান সমুদ্রবন্দর। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯৪ শতাংশের বেশি এ বন্দরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ বন্দরটি লাভজনক। শাসকদের কেউ এই বন্দরকে আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন বলে, কেউ বলে প্রবেশদ্বার, আবার কেউ বলে এই বন্দর বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড। কিন্তু শাসকদের সবাই লাইফলাইন, প্রবেশদ্বার ও হৃদপিণ্ডকে বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া।

Manual5 Ad Code

১৯৯৭-৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মার্কিন এসএসএ কোম্পানিকে কর্ণফুলীর মোহনায় কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ১৯৯ বছরের জন্য ইজারা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তখন বাম-প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তি এবং বন্দরশ্রমিকদের আন্দোলন ও আদালতের নির্দেশে সে চক্রান্ত প্রতিহত করা হয়েছিল। কিন্তু দেশি-বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠীর লোলুপ দৃষ্টি বন্দর থেকে দূর হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ২০২৩ সালে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার সৌদি কোম্পানি রেড সি গেটওয়েকে ইজারা দিয়েছে।

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তা পারেনি।

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও পতেঙ্গার অদূরে লালদিয়ার চরে নির্মীয়মাণ কন্টেইনার টার্মিনাল, ঢাকার কেরানিগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল ও এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছিল। জনগণের প্রতিরোধের মুখে তখন এনসিটি ইজারা দিতে না পারলেও লালদিয়ার চর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের (APM Terminals) কাছে ৩০ বছরের জন্য ইজারা চুক্তি করা হয়েছে।

পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (Pangaon ICT) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লজিস্টিকস ও শিপিং প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএ (Medlog SA)-এর কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চুক্তির শর্ত গোপন রেখে।

বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে জনমত উপেক্ষা করে গত ৮ অক্টোবর ’২৬ বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থে তৈরি এবং সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) সৌদি আরবের কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে কে দ্রুত ইজারা দেওয়ার জন্য নৌ মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।

এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিরোধিতা করলেও তার গৃহীত নীতি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচিত বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। ফলে দল আলাদা হলেও স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশে শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির সকল দলই সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু নীতি নিয়েই চলছে।

সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করার কথা। এমনকি গণঅভ্যুত্থানের পরে ২০২৫ সালে ঐকমত্য কমিশনের সভায় অঙ্গীকার করলেও ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে এসব আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে কোন আলোচনা করেনি।

সমাবেশ থেকে প্রস্তাব করা হচ্ছে যে, বাণিজ্য চুক্তিসহ বিদেশিদের সাথে করা সকল অসম, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

৩) ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার জন্য এশিয়া এনার্জি নামে একটি ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে অসম চুক্তি করা হয়েছিল।

২০০৬ সালে এক রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলন এবং তরিকুল, আমিন ও সালেকিনের জীবনদানের মাধ্যমে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে ফুলবাড়ীতে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্মুক্ত খনি করার পাঁয়তারা থেকে সরে এসে ছয় দফা চুক্তি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু ২০ বছরেও সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি শাসক দলগুলো।

বর্তমান বিএনপি সরকার পুনরায় ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনি করার পাঁয়তারা করছে-যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশবিধ্বংসী এই উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি এ সমাবেশ আহবান জানাচ্ছে।

৪) সুন্দরবন ও আকরাম পয়েন্ট এলএনজি টার্মিনাল

বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস ও ঘুর্নিঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচানোর প্রাকৃতিক ঢাল।

শেখ হাসিনা সরকার জনমত উপেক্ষা করে সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপালে ভারতের এনটিপিসির সঙ্গে যৌথভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে সুন্দরবন ধ্বংসের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তখন বিএনপি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করেছিল।

কিন্তু এখন বিএনপি সরকার সুন্দরবনের একেবারে ভেতরে আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ওই স্থানও পরিদর্শন করে এসেছেন।

এটা একটি সর্বনাশা উদ্যোগ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। প্রাকৃতিক ঢাল, প্রাণ-প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। ফলে দেশ ধ্বংসের এইসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সমাবেশ সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে।

৫) সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও সৌদি প্রতিরক্ষা জোট

যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আজ গোটা দুনিয়ায় যুদ্ধ ও গণহত্যা চালিয়ে মানবসভ্যতা ধ্বংসের উন্মত্ত খেলায় মেতে উঠেছে।

মার্কিন মদদে ইসরায়েল ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির নেতাদের হত্যা করেছে এবং শিশু-নারীসহ সামরিক ও বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করে চলেছে।

Manual4 Ad Code

পাঁচ বছর ধরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় আঞ্চলিক যুদ্ধ ও খণ্ডযুদ্ধ চলছে। প্রতিনিয়ত যুদ্ধোন্মাদনা বাড়ছে।

বাংলাদেশ সৌদি আরবের সামরিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার জন্য অতিউৎসাহ প্রদর্শন করে সংবিধানে বর্ণিত জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি লঙ্ঘন করছে।

যুদ্ধবাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পোষ্য ইসরায়েলি জায়নবাদী সরকারের গণহত্যা, দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, লুণ্ঠন, যুদ্ধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিশ্ব মানবতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষের প্রতি এ সমাবেশ আহবান জানাচ্ছে।

৬) দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, খুন-ধর্ষণ, দুর্নীতি-লুটপাট, চাঁদাবাজী, উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতায় সমাবেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এসকল সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি সমাবেশ থেকে জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

আমাদের সমস্ত দাবির কেন্দ্রীভূত হিসেবে নিম্নোক্ত দফাসমূহ উল্লেখ করছি।

১। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি বাতিল

২। এনসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালসমূহ বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা চুক্তি বাতিল

৩। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি ও সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পাঁয়তারা বন্ধ

৪। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, লুণ্ঠন ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেয়া চলবে না।

উপরোক্ত দাবিসমূহের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমাবেশ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

এ লড়াই শুধু নির্দিষ্ট কোনো দলের বা জোটের নয়; এ লড়াই আমার, আপনার—সকল দেশপ্রেমিক জনগণের। এ লড়াই দেশ, জাতীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই।

Manual6 Ad Code

সমাবেশ আশা করে জনগণের তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দেশবিরোধী সকল অপতৎপরতা থেকে সরে আসতে বাধ্য করবো। আমাদের বর্তমানের লড়াই বাংলাদেশের জনগণকে ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে বিজয়ী হতেই হবে।

কর্মসূচি:

১) আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসব্যাপী সারাদেশে জেলা-উপজেলায়, গ্রামে গণসংযোগ, প্রচার অভিযান, সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা, হাটসভা ইত্যাদির মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি, বন্দর ইজারাসহ দেশবিরোধী সকল অপতৎপরতা সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলনে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২) নভেম্বর ও ডিসেম্বরে (ক) বন্দর ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে (খ) উন্মুক্ত খনি করার পাঁয়তারার বিরুদ্ধে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এবং সুন্দরবন ধ্বংসের পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে খুলনায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সুনির্দিষ্ট তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।

৩) উক্ত কর্মসূচি শেষে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৬ ঢাকায় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

উক্ত কর্মসূচি সফল করে দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল ও জাতীয় সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ