পাখি ও ঔষধি গাছ সংরক্ষণে শিশুদের সচেতন করতে পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

পাখি ও ঔষধি গাছ সংরক্ষণে শিশুদের সচেতন করতে পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় শিশুদের সচেতন করে তুলতে রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোস্টার প্রদর্শনী ও পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual1 Ad Code

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলে ‘পাখি ও ঔষধি গাছ বাঁচাই, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট)। এতে প্রায় ১৫০ জন শিশু অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান মনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রধান কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।

Manual6 Ad Code

পোস্টার প্রদর্শনীতে স্থানীয় পাখি, ঔষধি গাছ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশবিষয়ক আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন আইডব্লিউবির সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা জাকারিয়া মোহাম্মদ।

আয়োজকেরা জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুরা প্লাস্টিক দূষণ, বন উজাড়, পাখি ও গাছের আবাসস্থল ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। একই সঙ্গে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের সচেতন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান মনির বলেন, “শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বুঝতে শেখে, তবে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে তাদের আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

বিশেষ অতিথি সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের পরিবেশ শিক্ষা দিতে পারলে তারা ভবিষ্যতে সচেতন নাগরিক হিসেবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারবে। কারণ পরিবেশ শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়, এটি একটি জীবনদর্শন।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পরিবেশ সুরক্ষায় শৈশব থেকেই শিশুদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, স্কুলের বাগানে কাজ করা, পাখি পর্যবেক্ষণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, কম্পোস্ট তৈরি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো হাতে-কলমে কার্যক্রম শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

তাঁদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষায় শুধু প্রযুক্তি ও নীতিমালা যথেষ্ট নয়; মানুষের দৈনন্দিন আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। এ পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে শৈশব থেকেই পরিবেশ শিক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশ শিক্ষা শিশুদের জ্ঞান, সচেতনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যবহারিক দক্ষতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।

Manual4 Ad Code

আয়োজক সংস্থা দুটি জানায়, পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাদের ভাষ্য, পরিবেশ শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, সময়ের অপরিহার্য দাবি। আজকের শিশুদের পরিবেশ সুরক্ষার জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারলে ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আইডব্লিউবি ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মকর্তারা এবং ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ