বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

Manual1 Ad Code
  • জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক | চাঁদপুর, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ : জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই।

শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

Manual1 Ad Code

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বনানীতে নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রগতিশীল আন্দোলনের অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন

মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ৩২ বছর পত্রিকাটিতে স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে লেখালেখিতে যুক্ত হন। দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ ও দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় তাঁর নিয়মিত কলাম পাঠকমহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও এবং ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিনসহ যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা করেন।

সাংবাদিক সমাজের নেতৃত্বেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুইবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সিটিজেন টিভির চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযোদ্ধা থেকে সংসদ সদস্য

Manual4 Ad Code

মুহম্মদ শফিকুর রহমানের জীবন কেবল সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি সক্রিয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সংবাদ পরিবেশন, বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি ও কলাম রচনার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেন। সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন দেশের গণমাধ্যম এবং জনজীবনে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের বহু শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

মুহম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল।

তাঁরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক

বরেণ্য সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

Manual3 Ad Code

এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

মুহম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, কলমযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান সাংবাদিকতা এবং দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ