বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি: মাসে ৩০ হাজার টাকা পাবেন ১০ গবেষক

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি: মাসে ৩০ হাজার টাকা পাবেন ১০ গবেষক

Manual4 Ad Code
  • এক বছরের জন্য মোট বরাদ্দ ৩৬ লাখ টাকা, আবেদন জমার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২৬ : বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে এক বছর মেয়াদি গবেষণাবৃত্তির জন্য গবেষণা-প্রস্তাব আহ্বান করেছে বাংলা একাডেমি।

এ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য ১০ জন গবেষককে বৃত্তি দেওয়া হবে। নির্বাচিত প্রত্যেক গবেষক মাসে ৩০ হাজার টাকা করে বছরে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাবেন। সে হিসাবে ১০ জন গবেষকের জন্য এক বছরে মোট বৃত্তির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬ লাখ টাকা।

বাংলা একাডেমির এ উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গবেষণাবৃত্তির আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, জেন্ডার কিংবা গবেষণার বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ফলে গবেষণায় আগ্রহী বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি তাঁদের নিজস্ব গবেষণা-প্রস্তাব নিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে গবেষণার প্রতি প্রকৃত আগ্রহ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রস্তুতি এবং গবেষণা সম্পন্ন করার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গবেষণাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ছকে। গবেষণা-প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে হবে।

এক বছর মেয়াদি গবেষণার সুযোগ

গবেষণাবৃত্তির আওতায় নির্বাচিত ১০ জন গবেষক ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকাজ পরিচালনার সুযোগ পাবেন। গবেষণার পুরো সময়ে প্রত্যেক গবেষকের জন্য একজন করে গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন। এর ফলে গবেষকেরা তাঁদের গবেষণার পরিকল্পনা, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, লেখার কাঠামো এবং গবেষণার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়কের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এক বছর মেয়াদি এ কর্মসূচিতে গবেষকদের নিয়মিত গবেষণাকাজ পরিচালনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু গবেষণা সম্পন্ন করাই নয়, গবেষণার ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেক গবেষককে গবেষণাকালীন স্বীকৃত জার্নালে অন্তত একটি গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ গবেষণার ফলাফলকে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক পরিসরে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতাও থাকছে। এর মাধ্যমে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বৃহত্তর পাঠকসমাজ ও গবেষকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

যোগ্যতা ও গবেষণার বিষয় উন্মুক্ত

গবেষণাবৃত্তির ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, জেন্ডার এবং গবেষণার বিষয় উন্মুক্ত রেখেছে। এ কারণে গবেষণায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য আবেদনের সুযোগটি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে যোগ্যতার শর্ত উন্মুক্ত থাকার অর্থ এই নয় যে গবেষণা-প্রস্তাবের মান বা গবেষণা সম্পন্ন করার সক্ষমতা গুরুত্বহীন। বরং নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সুস্পষ্ট গবেষণা-পরিকল্পনা, যথাযথ পদ্ধতি এবং প্রাসঙ্গিক সাহিত্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরতে হবে।

বাংলা একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বে প্রকাশিত প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্ম রয়েছে—এমন আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে যাঁরা আগে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন, কোনো স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশ করেছেন কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাঁদের জন্য এ অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।

Manual2 Ad Code

তবে পূর্বপ্রকাশিত গবেষণা না থাকলেই আবেদন করা যাবে না—এমন কোনো শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে গবেষণার প্রতি আগ্রহী নতুন আবেদনকারীরাও তাঁদের গবেষণা-প্রস্তাবের যথার্থতা ও সম্ভাব্য অবদান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন।

গবেষণা করতে হবে বাংলা ভাষায়

এ কর্মসূচির আওতায় প্রণীত গবেষণা বাংলা ভাষায় লিখতে হবে। ফলে গবেষণার বিষয় যে ক্ষেত্রেরই হোক না কেন, গবেষণার মূল প্রতিবেদন বাংলায় প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা-প্রস্তাব তৈরির সময় বিষয় নির্ধারণের পাশাপাশি বাংলায় তথ্য উপস্থাপন, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার ফলাফল সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ করার পরিকল্পনাও রাখতে হবে।

গবেষণার বিষয় নির্দিষ্ট করে না দেওয়ায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস, সমাজ-সংস্কৃতি, ভাষাবিজ্ঞান, পাণ্ডুলিপি, আঞ্চলিক ভাষা ও উপভাষা, অনুবাদ, প্রকাশনা, পাঠসংস্কৃতি কিংবা বাংলা ভাষার সমকালীন ব্যবহারসহ নানা ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণার প্রস্তাব তৈরি করা যেতে পারে। তবে এসব বিষয় সম্ভাব্য গবেষণাক্ষেত্রের উদাহরণমাত্র; বিজ্ঞপ্তিতে এগুলোকে নির্দিষ্ট বা অনুমোদিত বিষয়ের তালিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

গবেষণার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রস্তাবিত বিষয়টি যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট কি না, সেটি নিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে এক বছরের মধ্যে গবেষণা সম্পন্ন করা সম্ভব কি না এবং গবেষণাটি থেকে নতুন জ্ঞান বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পর্যবেক্ষণ পাওয়া যেতে পারে কি না।

Manual4 Ad Code

১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ শব্দের প্রস্তাব

গবেষণা-প্রস্তাবের শব্দসংখ্যা ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীকে কেবল গবেষণার শিরোনাম বা সংক্ষিপ্ত ধারণা জমা দিলে চলবে না; প্রস্তাবিত গবেষণার উদ্দেশ্য, যৌক্তিকতা, পদ্ধতি, সম্ভাব্য ফলাফল এবং মৌলিকত্বসহ বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

বাংলা একাডেমি নির্ধারিত প্রস্তাব প্রণয়ন-ছকে মোট ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Manual7 Ad Code

একবছর মেয়াদি গবেষণা-প্রস্তাব প্রণয়ন-ছক

১. গবেষণা শিরোনাম (Title of the Research) (স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট বা catchy হতে হবে)
২. ভূমিকা (Introduction)
৩. সমস্যার বিবরণ (Statement of the Problem)
৪. গবেষণার উদ্দেশ্য (Objectives of the Study) (সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে)
৫. অনুমিত সিদ্ধান্ত গঠন/গবেষণা প্রশ্ন (Formulation of Hypothesis/Research Questions)
৬. ধারণাগত কাঠামো বিনির্মাণ (Conceptual Framework) (গবেষণা শিরোনামে যে ধারণাগুলো ব্যবহার করা হবে তার স্পষ্ট সীমারেখা উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক)
৭. সাহিত্য পর্যালোচনা (Review of Literature)
৮. গবেষণার যৌক্তিকতা (Rationale of the Study)
৯. গবেষণার ক্ষেত্র (Scope of the Study)
১০. গবেষণা-পদ্ধতি (Methods of the study) (গবেষণার উদ্দেশ্য পরিপূরণে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকৃতি, ধরন, নমুনা, নমুনায়ন পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের উৎস, তথ্য সংগ্রহের টুলস এবং বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পদ্ধতি উল্লেখ করতে হবে)
১১. প্রত্যাশিত ফলাফল (Expected Output)
১২. সম্ভাব্য অধ্যায় কাঠামো (Tentative Chaptarization)
১৩. গবেষণার মৌলিকত্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা (Explanation about the originality of the research)
১৪. গ্রন্থপঞ্জি (Bibliography/References)

প্রস্তাবের প্রতিটি অংশের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। গবেষণার শিরোনাম হতে হবে স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভূমিকা অংশে গবেষণার পটভূমি তুলে ধরতে হবে। সমস্যার বিবরণে কোন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে কিংবা কোন জ্ঞানগত ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

গবেষণার উদ্দেশ্য এবং গবেষণা প্রশ্ন এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে পুরো গবেষণার লক্ষ্য পরিষ্কার থাকে। ধারণাগত কাঠামোয় শিরোনামে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর অর্থ ও সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগে কী ধরনের গবেষণা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত গবেষণাটি সেগুলোর তুলনায় কীভাবে আলাদা, তা সাহিত্য পর্যালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

গবেষণা-পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ অংশে গবেষণার প্রকৃতি ও ধরন, নমুনা, নমুনায়ন পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের উৎস, তথ্য সংগ্রহের উপকরণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পদ্ধতি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ গবেষণাটি কীভাবে সম্পন্ন হবে, তার একটি বাস্তবসম্মত ও অনুসরণযোগ্য পরিকল্পনা প্রস্তাবে থাকতে হবে।

এ ছাড়া গবেষণার সম্ভাব্য ফলাফল, অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস, গবেষণার মৌলিকত্ব এবং ব্যবহৃত তথ্যসূত্রও যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। আবেদনকারীরা বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্ধারিত ছক অনুসরণ করে প্রস্তাব তৈরি করতে পারবেন।

পূর্বপ্রকাশিত গবেষণার প্রমাণ জমা দিতে হবে

যেসব আবেদনকারীর আগে প্রবন্ধ বা গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, তাঁদের সেসব প্রকাশনার মূল কপি অথবা সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পত্রিকার নাম ও প্রকাশের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ শর্তের মাধ্যমে আবেদনকারীর পূর্ববর্তী গবেষণাকর্মের প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। যাঁদের গবেষণামূলক লেখালেখির অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের প্রকাশিত কাজের প্রাসঙ্গিকতা, মান এবং প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কও বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে আবেদনকারীর পূর্বে প্রকাশিত গবেষণা না থাকলে আবেদন করা যাবে না—বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পূর্বপ্রকাশিত প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্ম থাকা আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; এটিকে সবার জন্য আবশ্যিক যোগ্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আবেদন করা যাবে ই-মেইল, ডাক বা সরাসরি

গবেষণাবৃত্তির জন্য আবেদনপত্র ও গবেষণা-প্রস্তাব ই-মেইল, ডাক, কুরিয়ার কিংবা সরাসরি জমা দেওয়া যাবে। আবেদন করতে হবে বাংলা একাডেমির নির্ধারিত ছক অনুযায়ী। ছকটি বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নাম, যোগাযোগের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্যের কোনোটি অনুপস্থিত থাকলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা:

উপপরিচালক, গবেষণা উপবিভাগ,
বাংলা একাডেমি, ঢাকা-১০০০।

ই-মেইল: baresearchgrant@gmail.com

আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। গবেষণা-প্রস্তাব তৈরির সময় শব্দসংখ্যা, নির্ধারিত ছকের সব কটি অংশ এবং আবেদনকারীর যোগাযোগের তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন না

বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি ক্ষেত্রে আবেদন না করার নির্দেশনা রয়েছে। বাংলা একাডেমির এক বছর মেয়াদি গবেষণাবৃত্তির আওতায় ইতোমধ্যে যাঁরা গবেষণায় সম্পৃক্ত হয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

এ ছাড়া যাঁরা বাংলা একাডেমির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর সফলভাবে গবেষণাকাজ সম্পন্ন করতে পারেননি, তাঁরাও এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত গবেষণা-প্রস্তাবকদের জন্য একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে নির্বাচিত হওয়ার পর গবেষকদের কর্মশালায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

বৃত্তির অর্থ থেকে বিধি অনুযায়ী আয়কর কর্তন করা হবে। সে কারণে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বৃত্তির ঘোষিত অঙ্ক হলেও প্রযোজ্য আয়কর কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।

গবেষণার মানোন্নয়নে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ

বাংলা একাডেমির এ গবেষণাবৃত্তি গবেষণায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এক বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করার আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করছে। মাসিক বৃত্তির পাশাপাশি গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ, গবেষণাপত্র প্রকাশের শর্ত এবং নির্বাচিতদের জন্য কর্মশালার ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটিতে গবেষণার পরিকল্পনা থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Manual6 Ad Code

বিশেষ করে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেন্ডার ও গবেষণার বিষয় উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন পটভূমির আগ্রহী ব্যক্তিদের সামনে গবেষণার প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ থাকছে। একই সঙ্গে পূর্বপ্রকাশিত গবেষণাকর্ম থাকা আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার গুরুত্বও তুলে ধরে।

তবে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের মনে রাখতে হবে, বিষয় উন্মুক্ত থাকলেও গবেষণা-প্রস্তাবের কাঠামো, পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা, মৌলিকত্ব এবং এক বছরের মধ্যে গবেষণা সম্পন্ন করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর পূর্ববর্তী গবেষণা ও প্রকাশনা পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের প্রাপ্যতা যাচাই এবং গবেষণা-পদ্ধতি নির্ধারণ করে নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার জন্য ১০ জনকে নির্বাচনের এ উদ্যোগে আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য এখন প্রধান কাজ হলো নির্ধারিত ছকে একটি সুসংগঠিত, তথ্যনির্ভর ও মৌলিক গবেষণা-প্রস্তাব তৈরি করা এবং ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে তা বাংলা একাডেমিতে জমা দেওয়া।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ