চলে গেলেন ‘কাঁচের পৃথিবী’ পরিচালক অমল রায় ঘটক

প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৬

চলে গেলেন ‘কাঁচের পৃথিবী’ পরিচালক অমল রায় ঘটক

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ : নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজস্ব নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার অমল রায় ঘটক। তার নির্মিত বেশ কয়েকটি সিনেমা সে সময় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

Manual2 Ad Code

সেই নির্মাতা আর নেই। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন ভাই ও বাচিকশিল্পী অলোক রায় ঘটক।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন অমল রায় ঘটক।

সম্প্রতি তার কেমোথেরাপিও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো এই নির্মাতাকে।

Manual5 Ad Code

নব্বইয়ের দশকে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমায় যখন অ্যাকশনধর্মী ছবির আধিপত্য, তখন ভিন্নধর্মী বিষয়বস্তু ও মননশীল গল্প নিয়ে কাজ করেছেন অমল রায় ঘটক।

Manual3 Ad Code

তার সিনেমায় পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি টেলিভিশনের অভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন।

তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘উজান’। এতে অভিনয় করেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী, রূপা গাঙ্গুলি ও দোলন রায়। লাবণী সরকার ও ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত ‘কাঁচের পৃথিবী’ও তার অন্যতম জনপ্রিয় কাজ। এ ছাড়া তাপস পাল ও ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত ‘দেবর’ এবং রঞ্জিত মল্লিক, রিনা চৌধুরী ও চুমকি চৌধুরী অভিনীত ‘শ্রীমান ভূতনাথ’ তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও বাংলা চলচ্চিত্রে অবদান রেখেছেন অমল রায় ঘটক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও রূপা গাঙ্গুলি অভিনীত ‘মানসী’ ছবির চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মুনমুন সেন, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পাল, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, স্মিতা ও কালী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত ‘ব্যবধান’ ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন তিনি। ছবিটির ‘কত না ভাগ্যে আমার এ জীবন পুণ্য হল’ গানটি আশা ভোঁসলের কণ্ঠে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

Manual1 Ad Code

নব্বইয়ের দশকে পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নিজস্ব ধারার নির্মাতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন অমল রায় ঘটক। পরিচালনা ও চিত্রনাট্যের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় রেখে গেছেন স্বতন্ত্র কাজের স্বাক্ষর। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ