গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সাত্তারের দাফন

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৬

গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সাত্তারের দাফন

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা (উত্তর), ০৬ নভেম্বর ২০২৬ : কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সাত্তারের লাশ দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকায় মারা যান ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

Manual7 Ad Code

তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বার্ধক্যের শেষ দিনগুলো ঢাকায় ছেলের কাছে কাটাচ্ছিলেন।

মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনারের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ভাই শাহজাহান বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।’

Manual2 Ad Code

মহালক্ষীপাড়া গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত।
কিন্তু তাও করা হয়নি।’

Manual4 Ad Code

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, ‘আমি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাঁকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুরো এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম এবং পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন্নী ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ