সিলেট ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬
যখন শক্তি দিয়ে পারা না-যায়,
তখন বুদ্ধি খাটাতে হয়।
ইমাম বাকির (আ.) যখন আবির্ভূত হন, তখন রাজনৈতিক ক্ষমতা নামধারী মুসলিম শাসকগোষ্ঠী উমাইয়াদের হাতে থাকলেও ধর্মীয় জ্ঞান, হাদিস, তাফসির ও ফিকহের চর্চা তাঁর মাধ্যমেই বিকশিত হচ্ছিল।
তিনি মদিনায় একটি জ্ঞানকেন্দ্র গড়ে তোলেন। তাঁর কাছে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। তিনি ইচ্ছে করলে কারবালার শত্রুদের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু, তিনি সেই ভুল করেননি। নানা হাসান (আ.)-কে বিষপ্রয়োগ, দাদা হোসাইন (আ.)-এর কল্লা মোবারক আলাদা করা, শিশু আলী আসগরের বুকে তীর বিদ্ধ করা এবং আহলে বাইতের বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শেষ করে দেয়াটা নিজ চোখে দেখেছিলেন। তিনিও তখন মাত্র চার বছরের শিশু। অসুস্থ পিতা জয়নুল আবেদীন (আ.)-কে গ্রেফতার করে তাঁর সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল, সবকিছুর স্বাক্ষী তিনি। তাঁর পিতা জয়নুল আবেদীন (আ.) বুঝতে পেরেছিলেন দুশমনদের সঙ্গে শক্তিতে পারা যাবে না। তাই তিনি জ্ঞান সাধনা করেন এবং পুত্রকেও সেইভাবে গড়ে তোলেন।
বাকির (আ.) যৌবনে পৌঁছামাত্রই পিতার জ্ঞান ও নিজের জ্ঞান ছড়াতে থাকেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে থাকেন—তথাকথিত আলেম-ওলামা টাইপ মুসলিম শাসকরা নবি পরিবারের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে। সাধারণ মানুষের মনেও উমাইয়া শাসকদের প্রতি ঘৃণা এবং নবি পরিবারের প্রতি প্রেম জন্ম নিতে থাকে। ধীরেধীরে বাকির (আ.) জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে থাকেন।
উমাইয়া খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিক একবার মক্কায় হজের সময় ইমাম বাকির (আ.)-এর জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করেন। কথিত আছে, তিনি ইমামের জ্ঞান ও মানুষের ভালোবাসা দেখে উদ্বিগ্ন হন। হিশাম বাকির (আ.)-কে প্রশ্ন করেন—কেন মানুষ আপনাদের এত সম্মান করে?
ইমাম বাকির (আ.) উত্তর দেন—আমরা রাসূলের পরিবার। আমরা মানুষের কাছে জ্ঞান, ন্যায় ও আল্লাহর স্মরণ পৌঁছে দিই। মানুষের হৃদয় সত্য ও জ্ঞানের দিকে আকৃষ্ট হয়।
ইমাম বাকির (আ.)-এর শিক্ষার একটি বড় দিক ছিল—বাহ্যিক ইবাদতের সঙ্গে অন্তরের পরিশুদ্ধতা। তাঁর কাছে আগত মানুষদের বলতেন—আমাদের অনুসারী সে নয়, যে শুধু আমাদের নাম গ্রহণ করে; বরং সে, যে আল্লাহকে ভয় করে, সত্য কথা বলে, আমানত রক্ষা করে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে। অর্থাৎ, তাঁর কাছে প্রকৃত অনুসারীর পরিচয় ছিল চরিত্র।
জনশ্রুতি আছে—তিনি মানুষের মনের প্রশ্ন আগে থেকেই বুঝতে পারতেন এবং উত্তর দিতেন। তিনি এমন কিছু তাফসির ও জ্ঞানের ব্যাখ্যা দিতেন যা সাধারণ আলেমদের কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল। তাঁর দোয়ার মাধ্যমে অসুস্থ মানুষের আরোগ্য লাভ করতো।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, উমাইয়া শাসকদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিষপ্রয়োগ করা হয়! ১১৪ হিজরিতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর শেষ সময় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে—তিনি তাঁর পরিবারকে ধৈর্য, আল্লাহর আনুগত্য এবং সত্যের পথে থাকার উপদেশ দেন।
তিনি যুদ্ধ না করেও বিজয়ী হয়েছিলেন। কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতিকে জ্ঞানের আন্দোলনে রূপান্তর করেছিলেন। কীভাবে ইমাম হুসাইন (আ.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছিলেন—সেই শিক্ষা মানুষকে দিয়েছিলেন তিনি। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) দোয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে যে শিক্ষা সংরক্ষণ করেছিলেন, ইমাম বাকির (আ.) সেটিকে আনুষ্ঠানিক জ্ঞান, শিক্ষা ও চিন্তার মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে দেন।
আর এভাবেই ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আহলে বাইত-এর দুশমনদের মুখোশ খুলে যায়।
#
শহিদুল শাহ্

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি