মণিপুরী সাহিত্য সংসদের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬

মণিপুরী সাহিত্য সংসদের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

Manual7 Ad Code
  • গুণীজন সম্মাননা পেলেন তিন বিশিষ্ট ব্যক্তি, ইয়াং ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড গৌরব সিংহ গগনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ০৩ আগস্ট ২০২৬ : বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ (বামসাস)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, চিকিৎসা ও সাহিত্য-গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে গুণীজন সম্মাননা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের জন্য একজন তরুণ খেলোয়াড়কে ‘ইয়াং ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

Manual3 Ad Code

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি, বাংলা একাডেমির ফেলো ও গবেষক-কবি এ কে শেরাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রমোদ রঞ্জন সিংহ এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বামসাসের সাধারণ সম্পাদক কবি নামব্রম শংকর এবং নীহার রঞ্জন শর্মা।

বক্তারা বলেন, একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণে গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রেরণা লাভ করে এবং জাতি তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারে।

তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে মণিপুরী সমাজের কৃতী ও গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদানের যে উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে, তা শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

এ বছর গুণীজন সম্মাননায় ভূষিত হন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব কোংখাম নীলমণি সিংহ, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অরুণ কুমার শর্মা এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক হাজি মো. আবদুস সামাদ।

Manual5 Ad Code

এ ছাড়া দেশের ব্যাডমিন্টনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিভাবান তরুণ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় গৌরব সিংহ গগনকে ‘ইয়াং ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

সংবর্ধিত গুণীজনরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জীবনের পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তাঁরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে মণিপুরী তরুণ সমাজের প্রতি শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাতি ও দেশ গঠনে অবদান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বামসাসের সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার সিংহ, ‘ভাস্কর’-এর সম্পাদক কবি পুলিন রায়, পাঙাল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি সাজ্জাদুল হক স্বপন, বাংলাদেশ মণিপুরী যুব সমিতির সভাপতি লোংজম নীহার সিংহ, কবি নুরুল হক, কবি শহিদুল ইসলাম লিটন, বামসাস কমলগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক কবি হামোম প্রবিত এবং ইতিহাস গবেষক মো. আসিফ আজহারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীজন ও অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাঁদের অভ্যর্থনা জানান কেএইচ সমেন্দ্র সিংহ, পি. মিনতী দেবী, কবি থোকচোম ওঙবী কৈনাহন দেবী, কবি রওশন আরা বাশি এবং অপর্ণা রানী সিনহা।

এ সময় সম্মাননাপ্রাপ্ত চারজনের সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন আহেন নামব্রম, নিরুপমা শর্মা রশ্মি, বিবেক আনন্দ সিংহ এবং মাইবম লৈনা।

Manual8 Ad Code

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের অনিয়মিত সাহিত্য সংকলন ‘মৈরা’-এর ৬৭তম বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সভাপতি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ দেশের মণিপুরী ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা এবং সৃজনশীল চর্চায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান সেই ধারাবাহিক প্রয়াসেরই একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুধীজনের উপস্থিতিতে মিলনায়তন ছিল প্রাণবন্ত।

Manual1 Ad Code