ডিএনসিসির উদ্যোগে তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন সম্বলিত দোকান অপসারণ

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬

ডিএনসিসির উদ্যোগে তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন সম্বলিত দোকান অপসারণ

Manual1 Ad Code
  • ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৪ আগস্ট ২০২৬ : রাজধানীতে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) চলমান অভিযানে তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার বিস্তৃত চিত্র সামনে এসেছে। উচ্ছেদ হওয়া দোকানগুলোর একটি বড় অংশ তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছিল এবং সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে তামাক কোম্পানিগুলোর পয়েন্ট অব সেল (Point of Sale) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব দোকানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উপেক্ষা করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, খালি মোড়ক, ডিসপ্লে ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছিল। এর ফলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের তামাক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল, যা দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

Manual8 Ad Code

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ডিএনসিসির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্য রহমান বলেন, রাজধানীতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান শুধু অবৈধ স্থাপনা অপসারণেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলমান তামাক কোম্পানিগুলোর অবৈধ বিপণন কৌশলের বাস্তব চিত্রও প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করলেও তামাক কোম্পানিগুলো এখনও বিক্রয়স্থলকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশল নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধন করে আরও কঠোর বিধান যুক্ত করেছে। সংশোধিত আইনের ধারা ৫-এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

বিশেষ করে ধারা ৫(চ)-এ তামাকজাত দ্রব্যের ব্র্যান্ড, মোড়ক বা প্যাকেটের সাদৃশ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধারা ৫(ছ)-এ বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, কৌটা, খালি বা নমুনা মোড়ক প্রদর্শনসহ যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তামাক কোম্পানিগুলোর অন্যতম প্রধান বিপণন মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তামাকের পয়েন্ট অব সেল বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ফলে নতুন ধূমপায়ীর সংখ্যা কমেছে এবং তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট দোকান, ফুটপাতের অস্থায়ী স্টল এবং বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রকে বিজ্ঞাপনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। রঙিন ডিসপ্লে, ব্র্যান্ডেড সাইনবোর্ড, প্যাকেট প্রদর্শন এবং খালি মোড়ক ঝুলিয়ে রেখে তারা পরোক্ষভাবে বিজ্ঞাপন পরিচালনা করছে, যা আইন কার্যকর হওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংগঠনটির মতে, ডিএনসিসির সাম্প্রতিক অভিযান রাজধানীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ ধরনের অভিযান শুধু অবৈধ দোকান উচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ না রেখে তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাটার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগকে অনুসরণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজ নিজ এলাকায় একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা উচিত। এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন আরও জোরদার হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আগ্রাসী বিপণন থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, অবৈধ বিজ্ঞাপন বন্ধ এবং বিক্রয়স্থলভিত্তিক প্রচারণা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

তাদের মতে, ডিএনসিসির চলমান অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে রাজধানীতে তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।