হেলথ প্রমোশনে সমন্বিত উদ্যোগ: কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

হেলথ প্রমোশনে সমন্বিত উদ্যোগ: কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা, ২৫ জুন ২০২৬ : স্বাস্থ্য উন্নয়ন বা হেলথ প্রমোশনকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত সংলাপ এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) দুপুরে কুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন একটি সমন্বিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায়। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, সচেতনতা বৃদ্ধি, সক্রিয় জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যবান নগর ও জনপদ পরিকল্পনা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের স্বাস্থ্য অধিকার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা আনন্যা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষকে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তিনি বলেন, ব্যক্তি ও সমাজকে সুস্থ জীবনধারা অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান পরিবেশ গড়ে তোলা এবং নীতিগত পরিবর্তনের জন্যও কাজ করতে হয়। কুয়েটের সঙ্গে এ অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মনজুর মোর্শেদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী এবং সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ।

অধ্যাপক ড. মো. মনজুর মোর্শেদ বলেন, স্বাস্থ্য, নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাই স্বাস্থ্যবান সমাজ গঠনে আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিকার, তামাক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ নগর, সক্রিয় চলাচল এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে আসছে। কুয়েটের সঙ্গে এই সহযোগিতা সেই কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেবে।

অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন কেবল স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্ব নয়; এটি শিক্ষা, পরিবেশ, পরিকল্পনা এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবান ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার, প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমরান মিয়া, কুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। কুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থী সম্প্রতি ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টে সম্পন্ন করা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। তারা জানান, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য অধিকার, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, গবেষণা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাদের একাডেমিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সহায়তা করেছে।

পরে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় ভবিষ্যতে হেলথ প্রমোশন, গবেষণা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নীতিগত সংলাপ এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান নগর পরিকল্পনা, পরিবেশগত স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশেও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

Manual2 Ad Code

বক্তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে এ ধরনের অংশীদারিত্ব তরুণদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করবে। এর মাধ্যমে তারা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করবে না, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম মানবসম্পদ তৈরিতেও এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন কেবল রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের বিষয় নয়; বরং মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শিক্ষা, গবেষণা ও কমিউনিটি কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের এই যৌথ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন খাতে নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং একটি স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ