সিলেট ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্দোনেশিয়ার ব্রিন-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৬ : সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্লু ইকোনমি খাতে গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (ব্রিন)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও ইন্দোনেশীয় সামুদ্রিক অঞ্চলের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা সক্ষমতার সমন্বয়ে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (আইসিওজি) এবং ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি (ব্রিন)-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং ব্রিন-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর প্রধান অধ্যাপক ড. আ’আন ওয়াহিউদি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন অংশীদারিত্ব
চুক্তির আওতায় সমুদ্রবিজ্ঞান, গভীর সমুদ্র গবেষণা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ, ব্লু ইকোনমি উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আন্তর্জাতিক গবেষণা তহবিল সংগ্রহ, বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও কাজ করবে। ফলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে নতুন জ্ঞানভিত্তিক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ এবং উপকূলীয় ঝুঁকি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া উভয়ই সামুদ্রিক সম্পদনির্ভর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি দেশ। এ ধরনের সহযোগিতা শুধু গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং টেকসই উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিন-এর মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়ন কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অত্যাধুনিক গবেষণা, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনী জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে কৌশলগত গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্লু ইকোনমি একটি সম্ভাবনাময় খাত। বঙ্গোপসাগরের বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সমুদ্রভিত্তিক শিল্পের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রভিত্তিক গবেষণা, গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে দুই দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই সহযোগিতা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করবে।
শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন ধাপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এ সমঝোতা স্মারক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে সমুদ্র শাসন (Ocean Governance), উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক আইন, জলবায়ু কূটনীতি এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক গবেষণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
চুক্তির আওতায় যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ, একাডেমিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির, আইসিওজি’র ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড কাপুয়ানো, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দা রোযানা রশিদ এবং ব্রিন-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর গবেষক ও প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয় করেন আইসিওজি’র পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।
নতুন মাইলফলক
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; বরং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক গবেষণা ও জলবায়ু সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (আইসিওজি) সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি