ওয়ার্কার্স পার্টিকে পুনর্গঠিত ও বিকশিত করার আহ্বান নুর আহমদ বকুলের

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

ওয়ার্কার্স পার্টিকে পুনর্গঠিত ও বিকশিত করার আহ্বান নুর আহমদ বকুলের

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | চুয়াডাঙ্গা, ১২ আগস্ট ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেছেন, ভূরাজনৈতিক চাপ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তৎপরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ওয়ার্কার্স পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে।

একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামকে আরও বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “ভূরাজনৈতিক চাপে পড়ে বাংলাদেশের রাজনীতি বারবার অস্থির হয়ে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে সামরিক-অর্থনৈতিক চুক্তির অধীনস্থ করে নয়া উপনিবেশিক শক্তির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। এর ফলে জনগণ নতুন নতুন সংকটে নিপতিত হচ্ছেন।”

বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual2 Ad Code

চুয়াডাঙ্গায় পার্টির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম, আসন্ন পার্টি কংগ্রেসের প্রস্তুতি, সদস্যপদ নবায়ন এবং দলীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় নুর আহমদ বকুল আরও বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও দখলের প্রবণতা জনজীবনের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে ওয়ার্কার্স পার্টিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদী শক্তির মোকাবিলায় দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে জনগণতান্ত্রিক সংগ্রামকে বিকশিত করতে হবে।

Manual8 Ad Code

কংগ্রেস সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি

সভায় আসন্ন পার্টি কংগ্রেসকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দলীয় সদস্যদের আরও সক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শক্তি ও কার্যক্রমকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কংগ্রেস সফল করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

কংগ্রেসকে সামনে রেখে জেলার সাংগঠনিক প্রস্তুতি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে জেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার জন্য একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কংগ্রেসের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান।

তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ

সভায় দলীয় সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নেতারা মনে করেন, কেবল কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কর্মসূচি নয়, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে সংগঠনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা সম্ভব।

Manual7 Ad Code

এ সময় জেলার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নির্ধারিত কর্মসূচি যথাসময়ে বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলের সদস্যদের নিয়মিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সদস্যপদ নবায়ন ও লেভি পরিশোধ

বর্ধিত সভায় দলীয় সদস্যপদ নবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। জেলা কমিটির সদস্যদের নির্ধারিত সভ্য ফি ও লেভি পরিশোধের মাধ্যমে সদস্যপদ নবায়ন করা হয়।

নেতারা বলেন, সদস্যপদ নবায়ন শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নিয়মিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনের প্রতি সদস্যদের দায়িত্ববোধ জড়িত। সদস্যদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় যারা বক্তব্য দেন

কমরেড জামাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পার্টির মেহেরপুর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল মাবুদ এবং কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড হাফিজ সরকার।

জেলা নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন কমরেড রাজিয়া খাতুন লতা, কমরেড দিলুয়ারা খাতুনসহ অন্যরা।

বক্তারা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের জীবনযাত্রার সংকট এবং সংগঠনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আসন্ন পার্টি কংগ্রেসকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

নির্ধারিত রোডম্যাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

সভায় জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, কংগ্রেসকেন্দ্রিক প্রস্তুতি, সদস্যপদ নবায়ন এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা মনে করেন, কংগ্রেসকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কংগ্রেসের প্রস্তুতি আরও কার্যকর হবে। সেই লক্ষ্যেই চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সভায় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জনগণের স্বার্থে দলীয় ভূমিকা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ