সিলেট ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে; ভাষা, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধনে অনন্য যাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬ : বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো—প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে হলে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত—এমন ধারণাও সমাজে কম নয়। তবে সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিলিমা হাকিম মও। মানবিক বিভাগের একটি বিষয় ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে একাডেমিক যাত্রা শুরু করে তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটায় ‘লিঙ্গুইস্টিক ইঞ্জিনিয়ার’ বা ভাষা প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
নিলিমার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং ভাষাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তাঁর শিক্ষাজীবন, গবেষণা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের জ্ঞানও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা
নিলিমা হাকিম মওয়ের একাডেমিক যাত্রার সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে। সেখানে তিনি ভাষাবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন ২০১৬ সালে। পরের বছর, ২০১৭ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
ভাষার গঠন, ব্যবহার, পরিবর্তন এবং মানুষের সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর আগ্রহ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রচলিত ভাষাবিজ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা কীভাবে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—সেই দিকেও তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নিলিমা। সেখানেই তাঁর একাডেমিক আগ্রহ আরও বিস্তৃত হয় এবং ভাষাবিজ্ঞানকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার নতুন দিগন্ত
বর্তমানে নিলিমা হাকিম মও যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটিতে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার পরিধি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সমকালীন বিষয়ে বিস্তৃত।
ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবন, সমাজভাষাবিজ্ঞান, গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান, দ্বিতীয় ভাষা অর্জন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর লেখালেখি তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। অর্থাৎ তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষা এবং মানুষের পাশাপাশি ভাষার সঙ্গে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক।
বিশেষ করে গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ভাষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। মানুষের ভাষা কম্পিউটার কীভাবে বুঝবে, বিশ্লেষণ করবে, তৈরি করবে কিংবা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই শাখার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৃহৎ ভাষা মডেল বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) দ্রুত বিকশিত হওয়ার ফলে গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। নিলিমার গবেষণার ক্ষেত্রগুলো সেই পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ভাষাবিজ্ঞান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে
ভাষা প্রকৌশলী হিসেবে মেটায় যোগদানের মধ্য দিয়ে নিলিমার একাডেমিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিশ্বের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষাবিজ্ঞানীদের কাজ এখন আর কেবল অভিধান, ব্যাকরণ বা ভাষার কাঠামো বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভাষাকে যন্ত্রের উপযোগী করে তোলা, বিভিন্ন ভাষার তথ্য বিশ্লেষণ, ভাষাভিত্তিক ডেটা নিয়ে কাজ, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, কথ্য ভাষা শনাক্তকরণ, বহুভাষিক এআই ব্যবস্থা এবং বৃহৎ ভাষা মডেলের কার্যকারিতা উন্নয়নে ভাষাবিদদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্র্য বোঝা এবং সেই বৈচিত্র্যকে প্রযুক্তিতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ভাষার শব্দভান্ডার, ব্যাকরণ, বাক্যগঠন, উপভাষা, সামাজিক ব্যবহার কিংবা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছাড়া ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা কঠিন।
এই জায়গাতেই ভাষাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিলিমার একাডেমিক ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন একটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে মানবিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পরস্পরের পরিপূরক।
গবেষণার পাশাপাশি নেতৃত্ব
শুধু গবেষণায় নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সক্রিয় নিলিমা হাকিম মও। বর্তমানে তিনি জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অ্যান্ড প্রফেশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (GAPSA)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সংগঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও পেশাগত পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়, অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একজন গবেষক হিসেবে নিজের একাডেমিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন তাঁর বহুমাত্রিক দক্ষতারও পরিচয় বহন করে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ভিজিটরস-এও তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে গবেষণা ও পেশাগত কাজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পরিসরেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বার্তা
নিলিমা হাকিম মওয়ের ক্যারিয়ার পথ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করলে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতকে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ভাষা প্রযুক্তি এবং ডেটা-নির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশ সেই ধারণাকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।
এখন প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে শুধু প্রোগ্রামিং বা সফটওয়্যার প্রকৌশল জানাই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি মানুষের জন্য তৈরি হওয়ায় মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজ ও যোগাযোগ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভাষাভিত্তিক এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট। একটি এআই মডেলকে মানুষের ভাষা বোঝাতে হলে ভাষার সূক্ষ্ম ব্যবহার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, শব্দের অর্থের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ভাষার কাঠামো সম্পর্কে ধারণা প্রয়োজন। ফলে ভাষাবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীসহ মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার গবেষকদের জ্ঞান প্রযুক্তি উন্নয়নে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলা ভাষা ও বহুভাষিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের জন্য ভাষা ও প্রযুক্তির এই সম্পর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলা হলেও বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার উপস্থিতি এখনো ইংরেজির তুলনায় সীমিত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাংলা ভাষার জন্য কার্যকর ভাষা মডেল, অনুবাদব্যবস্থা, স্পিচ রিকগনিশন, টেক্সট-টু-স্পিচ, বানান ও ব্যাকরণ সংশোধন এবং অন্যান্য ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে ভাষাবিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভাষার তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিলিমার গবেষণার মধ্যে ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি থাকায় তাঁর একাডেমিক আগ্রহের সঙ্গে এই বৃহত্তর বাস্তবতারও একটি যোগসূত্র রয়েছে।
‘বিষয়’ নয়, দক্ষতাই হতে পারে ভবিষ্যতের পরিচয়
নিলিমা হাকিম মওয়ের পথচলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ক্যারিয়ার নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একটি বিষয়ই শেষ কথা নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নতুন দক্ষতা শেখা, আন্তঃবিষয়ক জ্ঞান তৈরি করা, গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের বড় সম্পদ হতে পারে।
ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেও একজন শিক্ষার্থী গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা ভাষা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে যেতে পারেন—নিলিমার ক্যারিয়ার তার বাস্তব উদাহরণ।
তাঁর ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে অর্জিত মৌলিক জ্ঞান, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা এবং ভাষা ও প্রযুক্তির আন্তঃবিষয়ক কাজ—সবকিছু মিলেই একটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করেছে।
অনুপ্রেরণার গল্প
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মানবিক বিভাগের শ্রেণিকক্ষ থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ভাষা প্রকৌশলী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব গ্রহণ—নিলিমা হাকিম মওয়ের এই পথচলা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।
তাঁর অর্জন একই সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা এবং মানবিক শিক্ষার বহুমুখী প্রয়োগের দিকটিও সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভাষা প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সময়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের জন্য যে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, নিলিমার পেশাগত যাত্রা তার একটি বাস্তব প্রতিফলন।
তরুণদের জন্য তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—বিশ্বমানের ক্যারিয়ারের দরজা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা নয়। নিজের বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণার মানসিকতা, প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থাকলে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন।
নিলিমা হাকিম মওয়ের সাফল্য তাই কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার একটি নতুন জানালাও খুলে দেয়। তাঁর নতুন কর্মজীবন ও গবেষণার পথচলা আরও বিস্তৃত হোক—এই প্রত্যাশাই এখন তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি