সিলেট ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬
অধিকার, ভূমি, ভাষা-সংস্কৃতি ও স্বীকৃতির দাবিতে নানা কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৯ আগস্ট ২০২৬ : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।
রাজধানী ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, গণসমাবেশ, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
আন্তর্জাতিক এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবন-জীবিকা, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা। একই সঙ্গে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোও দিবসটির আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being’। প্রতিপাদ্যে আদিবাসী ধাত্রীদের অবদান এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যজ্ঞান, মাতৃসেবা ও প্রসবকালীন পরিচর্যায় তাদের ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা
আদিবাসীদের অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সূত্রপাত। ১৯৮২ সালের ৯ আগস্ট জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘ ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ’ ঘোষণা করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমস্যা, অধিকার ও উন্নয়নের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরাই ছিল এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশে দিবসটির আলাদা গুরুত্ব
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস কেবল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের একটি উপলক্ষ নয়; বরং দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর অধিকার, ভূমি সমস্যা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, মাতৃভাষায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিকার, উচ্ছেদ, বৈষম্য, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে। তাদের মতে, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও তাদের নিজস্ব বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে আদিবাসী নেতারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র আদিবাসীবিষয়ক কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর সমস্যা এক নয়। অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীভেদে তাদের ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির সংকটও ভিন্ন। ফলে এসব সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
উত্তরাঞ্চলে বহু জাতিগোষ্ঠীর বসবাস
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা—রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, মাহাতো, রাজোয়ার, কর্মকার, তেলী, তুরী, ভুইমালী, কোল, কড়া, রাজবংশী, মাল পাহাড়িয়া, মাহালীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
এসব জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, লোকজ সংস্কৃতি, উৎসব, গান, নৃত্য ও সামাজিক রীতিনীতি রয়েছে। কিন্তু আধুনিকায়ন, অর্থনৈতিক চাপ, ভূমি হারানো এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির চর্চা কমে যাওয়ার কারণে অনেক ঐতিহ্যই হুমকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, বম, খুমি, চাকসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, জীবিকা, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন আদিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠন বলছে, কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে দিবস পালন করলেই হবে না; আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তাদের মতে, ভূমি অধিকার ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর জনগণকে উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
‘আদিবাসী’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক দিবসটির নাম ও ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দের পরিবর্তে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ বা ‘নৃগোষ্ঠী’ শব্দ ব্যবহারের অবস্থান জানানো হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক পরিভাষা ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করার বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও বসতি স্থাপনের প্রশ্নে পৃথক ঐতিহাসিক বাস্তবতা রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অভিবাসন ও বসতির ইতিহাস নিয়ে সরকারের বক্তব্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আদিবাসী অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বক্তব্য ভিন্ন। তারা নিজেদের এ দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ফলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বাংলাদেশে একই সঙ্গে অধিকার, পরিচয়, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় পরিভাষা নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে নিয়ে আসে।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান
বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতি দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অনেক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে আসছে। ফলে এসব ভাষা, লোকজ জ্ঞান, গান, নৃত্য, লোককথা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আদিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি বাস্তব জীবন ও জীবিকার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
তাদের ভাষ্য, ভূমি ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত, অংশগ্রহণ ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
শুধু উৎসব নয়, অধিকার আদায়ের দিন
প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার ও দাবিদাওয়া নিয়ে সোচ্চার হন। কোথাও আলোচনা, কোথাও সমাবেশ, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশেও দিনটি এখন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের পাশাপাশি অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর জনগণকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকারের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস তাই একদিকে যেমন বিশ্বের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানানোর দিন, অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।
সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শুভেচ্ছা
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিশ্বের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশেও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি, জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীও উন্নয়নের সমান অংশীদার হবে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়, অধিকারবঞ্চিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার প্রয়োজন।”
দিবসটির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূল বার্তাও শেষ পর্যন্ত এক—বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, বৈষম্যের অবসান এবং প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি