সিলেট ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬ : মাহবুব জামানের স্মৃতিতে ১৪ আগস্ট ১৯৭৫-এর সেই সন্ধ্যা—
১৪ আগস্ট ১৯৭৫। বৃহস্পতিবার। ঢাকার আকাশে তখনও ১৫ আগস্টের ভোরের কোনো পূর্বাভাস দৃশ্যমান নয়। রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জীবন স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছিল। রাজধানীর রাজপথে মানুষ চলাচল করছে, সরকারি দপ্তরে কাজ চলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। অথচ ইতিহাসের অদৃশ্য ঘড়িতে তখন বেজে চলেছে এক ভয়াবহ সময়ের কাউন্টডাউন।
সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে পৌঁছেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মাহবুব জামান। পরদিন ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা। সেই সফরের প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতেই তাঁদের গণভবনে যাওয়া।
কিন্তু তাঁরা জানতেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেদিন সকাল থেকেই কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বাংলাদেশের ইতিহাস এমন এক মোড় নেবে, যার অভিঘাত থেকে জাতি আজও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি।
সেই সন্ধ্যার সাক্ষাৎকারটি যে বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ সাক্ষাৎগুলোর একটি হয়ে থাকবে, তখন সেখানে উপস্থিত কারও পক্ষেই তা জানা সম্ভব ছিল না।
মাহবুব জামানের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে সেই সন্ধ্যার এক অসাধারণ ছবি—একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পরদিনের কর্মসূচি নিয়ে উচ্ছ্বসিত; একজন নেতা, যিনি ‘নতুন দিনের’ কথা বলছেন; আর তাঁর খুব কাছেই বসে থাকা এমন একজন মানুষ, যিনি ভবিষ্যতের ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন।
সেই মানুষটি ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।
অস্বস্তির সকাল
১৪ আগস্ট সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্বাভাবিকতার কিছু চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল।
মাহবুব জামানের স্মৃতিতে, সকালে উঠে তাঁরা জানতে পারেন সামসুন্নাহার হলের সামনে রাস্তায় পাকিস্তানের পতাকা উড়ছে। সেদিন ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সামনে দুটি পটকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর খবর আসে, সায়েন্স অ্যানেক্স ভবনে একটি বাজারের ব্যাগের মধ্যে বেশ কিছু ককটেল পাওয়া গেছে।
বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো হয়। নিরাপত্তা তৎপরতাও বাড়ানো হয়।
পরদিন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে এসব ঘটনার তাৎপর্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ও মাহবুব জামান সিদ্ধান্ত নিলেন, বঙ্গবন্ধুকে বিষয়গুলো জানাবেন।
তাঁদের ধারণা ছিল, বঙ্গবন্ধু বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন এবং পরদিনের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
কেউ জানতেন না, কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নিজের বাসভবনই হয়ে উঠবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের স্থান।
‘কালকে আমি নতুন দিনের ডাক দিব’
গণভবনে তাঁদের বৈঠকের সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা। কিন্তু তাঁরা পৌঁছানোর পরপরই হানিফ ভাই, তোফায়েল ভাইসহ উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন তাঁদের কাছে ছুটে এলেন। উপাচার্যকে তাঁরা বললেন—
‘উনি আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছেন।’
এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন ফুটে ওঠে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের একটি দিক। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সরকারপ্রধান ও ছাত্রনেতা—এই আনুষ্ঠানিক পরিচয়ের বাইরে ছিল দীর্ঘদিনের এক ব্যক্তিগত যোগাযোগ।
তাঁরা যখন বঙ্গবন্ধুর কক্ষে প্রবেশ করেন, বঙ্গবন্ধু এগিয়ে এসে তাঁদের স্বাগত জানান।
মাহবুব জামানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু উপাচার্যকে বলেছিলেন—
‘কি প্রফেসর স্যার, খুব কষ্ট হইতাছি, খাটনি যাইতাছে না। আমিও এক্সসাইটেড, অনেক দিন পর ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাচ্ছি। অনেক কথা আছে।’
তারপর মাহবুব জামানের দিকে তাকিয়ে তাঁর স্বভাবসুলভ আন্তরিকতায় বলেন—
‘কি ছোট নেতা, মুখ শুকনা ক্যান? ঝামেলা? কালকে আমি নতুন দিনের ডাক দিব।’
কথাগুলো আজ পড়লে হৃদয় ভার হয়ে আসে।
কারণ বঙ্গবন্ধু যে ‘নতুন দিনের’ কথা বলছিলেন, তার পরের দিনই বাংলাদেশের ইতিহাসে নেমে এসেছিল সবচেয়ে দীর্ঘ অন্ধকারগুলোর একটি।
তিনি সব জানতেন
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেদিনের ঘটনাগুলোর কথা বলার আগেই বঙ্গবন্ধু যেন সবকিছু সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।
উপাচার্য যখন বলতে শুরু করেছিলেন, ‘না, মানে আজ সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়…’, বঙ্গবন্ধু তাঁকে থামিয়ে দেন।
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ আমি সব জানি। পাকিস্তানি পতাকা, বোমা, পটকা—এ সব দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কাল থেকে শুরু হবে নতুন জীবন।’
বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যে তাঁর আত্মবিশ্বাস যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি প্রকাশ পায় দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণাও।
স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশ তখন গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, দুর্ভিক্ষের অভিঘাত, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক বিরোধ, সশস্ত্র তৎপরতা—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের সামনে ছিল একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কর্মসূচিকে দেখছিলেন নতুনভাবে শুরু করার একটি সুযোগ হিসেবে।
তিনি বিশ্বাস করতেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলতে হবে, শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, মানুষকে আশাবাদী করতে হবে।
কিন্তু ইতিহাস তাঁর জন্য আর সেই সুযোগ রাখেনি।
‘কার্জন হলে নামব’
পরদিনের কর্মসূচি নিয়ে উপাচার্য ও মাহবুব জামান বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বঙ্গবন্ধু মনোযোগ দিয়ে সব শুনলেন। এরপর নিজের পরিকল্পনার কথাও জানালেন।
তিনি বললেন, তিনি কার্জন হলে নামবেন। ফজলুল হক হলের ক্যান্টিনেও একটু যাবেন। কারণ, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ওই জায়গার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। মধুর ক্যান্টিনেও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, যদিও নিরাপত্তার কারণে তাঁকে সেখানে যেতে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।
এরপর বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিতে ফিরে গেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কাছে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। এখানেই তাঁর ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক বিকাশ, এখানেই তাঁর সংগঠক হয়ে ওঠা, এখানেই তাঁর প্রতিবাদ ও সংগ্রামের বহু স্মৃতি।
তাই ১৫ আগস্টের সফরটি তাঁর কাছে ছিল নিছক একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়; ছিল নিজের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার মতো একটি ঘটনা।
চা-নাস্তার আড্ডা গড়িয়ে গেল স্মৃতিচারণে।
দেয়ালে টাঙানো ছবির সামনে
একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়ালেন। দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলোর কাছে গিয়ে একে একে সেগুলো দেখাতে শুরু করলেন।
ফিদেল কাস্ত্রো, জোসিপ ব্রজ টিটো, ব্রেজনেভ, রাশিয়া, চীন, ইন্দিরা গান্ধী—বিশ্ব রাজনীতির নানা অধ্যায় যেন তাঁর ঘরের দেয়ালে সাজানো ছিল।
ছবিগুলো দেখাতে দেখাতে তিনি তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, স্মৃতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গের কথা বলছিলেন।
এখানে একজন রাষ্ট্রনায়ককে দেখা যায় আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশাল পরিসরে। আবার একই মানুষটি কয়েক মুহূর্ত আগেই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গল্প করছিলেন, পরদিন কোন হলে নামবেন, কোথায় ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলবেন—সেসব নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন।
এই দুই বঙ্গবন্ধুকে আলাদা করা যায় না।
তিনি যেমন ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক, তেমনি ছিলেন স্মৃতিমেদুর মানুষ। যেমন ছিলেন কঠোর রাজনৈতিক নেতা, তেমনি ছিলেন হাসি-ঠাট্টা করা, স্নেহশীল ও আবেগপ্রবণ এক মানুষ।
আর এই মানবিক বঙ্গবন্ধুকেই সবচেয়ে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁর সহকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের তরুণরা।
নীরব মানুষটি
সেই দীর্ঘ সময়টিতে সেখানে আর একজন মাত্র মানুষ ছিলেন—খন্দকার মোশতাক আহমদ।
মাহবুব জামানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, পুরো সময় তিনি প্রায় নিশ্চুপ ছিলেন।
কেউ তখনও জানতেন না, পরদিনের রক্তাক্ত ঘটনাপ্রবাহের পর রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবেন এই মানুষটিই।
ইতিহাসের নির্মমতা এখানেই।
একই কক্ষে বসে আছেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমদ। একজন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছেন; অন্যজন অল্প সময় পরেই এমন এক রাজনৈতিক পালাবদলের অংশ হয়ে উঠবেন, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করবে।
১৪ আগস্টের সেই সন্ধ্যায় অবশ্য ভবিষ্যৎ কারও চোখে দৃশ্যমান ছিল না।
‘আমি কিন্তু কাল যাচ্ছি না’
বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
হঠাৎ খন্দকার মোশতাক বললেন—
‘মুজিব ভাই, আমি কিন্তু কাল যাচ্ছি না। একটু দশপাড়া যামু।’
কথাটি শুনে বঙ্গবন্ধু অবাক হন। তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল রসিকতাপূর্ণ, প্রায় পারিবারিক।
‘চোরা, এইটা আবার তোর কি চোরা বুদ্ধি। কালকে নতুন ডিক্লারেশন দিব। শুরু হবে নতুন দিন।’
মোশতাক ব্যাখ্যা দিলেন, বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর জন্য কিছু দেশি কৈ মাছ ধরে রাখা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আসবেন। সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসবেন। বঙ্গবন্ধুকে চিন্তা করতে নিষেধ করলেন।
বঙ্গবন্ধুর উত্তর—
‘কৈ মাছ আনতে তোর যাইতে হবে? যত সব চোরা বুদ্ধি।’
কথোপকথনটি শুনলে মনে হয়, এটি দুই পুরোনো রাজনৈতিক সহকর্মীর স্বাভাবিক হাসি-ঠাট্টা।
কিন্তু ইতিহাসের পরবর্তী অধ্যায় জানার পর এই সংলাপের প্রতিটি শব্দই অন্য এক অর্থ বহন করে।
এটি ছিল তাঁদের শেষ সাক্ষাৎ।
তারপর ৩২ নম্বর
গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধু চলে গেলেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে।
মাহবুব জামান ও উপাচার্যও ফিরে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বঙ্গবন্ধু তাঁদের জানিয়েছিলেন, কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।
রাত নামল ঢাকায়।
আর কয়েক ঘণ্টা পরেই বদলে যাবে বাংলাদেশের ইতিহাস।
১৫ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয়। ভোরের দিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি নিহত হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেই।
রাষ্ট্রপতির বাসভবন থেকে তাঁর নিজের বাড়ি পর্যন্ত যে মানুষটি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁর জীবন শেষ হলো এক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।
১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় যে মানুষটি বলেছিলেন, ‘কাল থেকে শুরু হবে নতুন জীবন’, তিনি আর সেই নতুন দিনের সূর্য দেখতে পেলেন না।
‘নতুন দিন’ এসেছিল—কিন্তু কাদের জন্য?
মাহবুব জামানের স্মৃতিচারণে একটি গভীর বেদনাবোধ আছে।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পরদিন তিনি ‘নতুন দিনের ডাক’ দেবেন।
পরদিন সত্যিই নতুন একটি রাজনৈতিক যুগ শুরু হয়েছিল।
তবে সেটি বঙ্গবন্ধুর কল্পিত নতুন দিন ছিল না।
ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে শুরু হলো গভীর পরিবর্তন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে মুছে ফেলার চেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রের মৌলিক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর আঘাত, বঙ্গবন্ধুর নাম ও স্মৃতি মুছে দেওয়ার নানা উদ্যোগ—পরবর্তী বছরগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে ওঠে।
অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর মুখে উচ্চারিত ‘নতুন দিন’ এবং ১৫ আগস্ট-পরবর্তী ‘নতুন দিন’—এক ছিল না।
একটি ছিল নির্মাণের স্বপ্ন, অন্যটি ছিল ক্ষমতার পালাবদল।
একজন রাষ্ট্রনায়ক, একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ
মাহবুব জামানের স্মৃতিচারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এখানেই—তিনি বঙ্গবন্ধুকে শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি।
তিনি তাঁকে দেখেছেন একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে।
দেখেছেন তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা, মমতা ও মানবিকতা। দেখেছেন দৃঢ়তা ও কঠোরতা। দেখেছেন রাগ, অভিমান, আনন্দ ও বেদনা।
কখনো তাঁকে দেখেছেন খাবার টেবিলে বসে, হাতে এরিনমোর তামাক ও পাইপ, পরনে সাদা লুঙ্গি-গেঞ্জি। আবার দেখেছেন গণভবনের অফিস কক্ষে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিমগ্ন অবস্থায়।
এই দুটি ছবি পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং একজন মানুষকে পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝার জন্য দুটিই প্রয়োজন।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিশালত্ব নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব, স্বাধীনতার আন্দোলন, ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র পরিচালনা—সবই ইতিহাসের আলোচিত বিষয়।
কিন্তু একজন নেতার জনমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বুঝতে হলে তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ ও মানবিকতার দিকটিও দেখতে হয়।
মাহবুব জামানের স্মৃতি সেই জায়গাটিকে সামনে আনে।
‘গণভবনের দরজা এদের জন্য উন্মুক্ত’
১৯৭২ সালের মে মাসে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন জয়লাভ করে। মাহবুব জামান নির্বাচিত হন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক।
সে সময় দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেও ছাত্র ইউনিয়নের প্রভাব ছিল প্রবল।
রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের মতাদর্শগত দূরত্বের একটি সময়। তবু নির্বাচনে বিজয়ের পর ছাত্রনেতারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন।
মাহবুব জামানের স্মৃতিতে, বঙ্গবন্ধু সবাইকে মিষ্টিমুখ করান। গণভবনের কর্মকর্তাদের ডেকে বলেন—
‘গণভবনের দরজা এদের জন্য উন্মুক্ত।’
আর তাঁদের বলেন—
‘তোরা যেকোনো সময় আমার কাছে চলে আসবি।’
এই বক্তব্যটি পরবর্তীকালে তাঁদের কাছে শুধু সৌজন্যবাক্য হয়ে থাকেনি।
বন্যা, দুর্ভিক্ষ, শিক্ষানীতি প্রণয়নসহ নানা জাতীয় বিষয়ে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছেন। কখনো প্রতিদিন, কখনো দিনে একাধিকবারও।
এখানে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়—তিনি বিরোধী মতের তরুণদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে চাইতেন।
রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের কথা শোনা প্রয়োজন—এই বিশ্বাস তাঁর মধ্যে ছিল।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছাত্রসমাজের সম্পর্ক
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলন থেকে ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি পর্যায়েই ছাত্রসমাজ সক্রিয় ছিল।
বঙ্গবন্ধু নিজেও ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। ফলে ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল কেবল রাষ্ট্রপ্রধান ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নয়।
তাঁদের তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে দেখতেন।
এই কারণেই ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে দূরত্ব, হতাশা ও বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা অতিক্রম করে শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করছিলেন—মাহবুব জামানের স্মৃতিতে সেই প্রত্যাশাই ফুটে ওঠে।
কিন্তু পরদিনের হত্যাকাণ্ড সব পরিকল্পনা থামিয়ে দেয়।
কার্জন হলে তাঁর নামা হলো না।
ফজলুল হক হলের ক্যান্টিনে যাওয়া হলো না।
ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর নতুন করে কথা বলা হলো না।
মধুর ক্যান্টিনের স্মৃতিও আর নতুন কোনো অধ্যায়ে যুক্ত হলো না।
একটি সাক্ষাৎ, অসংখ্য প্রশ্ন
ইতিহাসের বড় ঘটনাগুলো অনেক সময় ছোট ছোট ব্যক্তিগত স্মৃতির মধ্য দিয়ে আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
১৪ আগস্টের এই স্মৃতিচারণও তেমনই একটি দলিল।
সেদিন বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে কথা বলছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ, কোথায় নামবেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন—সবকিছু নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল।
তিনি হাসছিলেন, গল্প করছিলেন, পুরোনো ছবি দেখাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে বাইরে তখন অস্বাভাবিকতার লক্ষণ।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাকিস্তানি পতাকা, বিস্ফোরণ, ককটেল—এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
আর সেই একই সময়ে রাষ্ট্রের ভেতরেই চলছিল এমন এক ষড়যন্ত্র, যার শেষ পরিণতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু অবগত ছিলেন না—অথবা অন্তত সেই সন্ধ্যায় উপস্থিত মানুষের সামনে তার কোনো প্রকাশ ঘটেনি।
আজকের দৃষ্টিতে ফিরে তাকালে প্রশ্ন জাগে—সেদিনের কথাবার্তার মধ্যে কি কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল? কারও আচরণ কি সন্দেহ তৈরি করেছিল? বঙ্গবন্ধু কি কোনো বিপদের আভাস পেয়েছিলেন?
এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর ইতিহাসবিদেরা নথি, সাক্ষ্য ও গবেষণার মাধ্যমে খুঁজেছেন এবং খুঁজে চলেছেন।
কিন্তু একজন প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিতে যে মানবিক দৃশ্যটি রয়ে গেছে, সেটি আরও সরল—একজন নেতা পরদিনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তিনি জানেন না, সেটিই তাঁর শেষ রাত।
ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত
১৫ আগস্টের ভোর বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি তারিখ নয়; এটি একটি গভীর ক্ষত।
একটি স্বাধীন দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপ্রধানকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল ও ভয়াবহ।
বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস বহুবার বদলেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। তাঁর স্মৃতি রাষ্ট্র ও সমাজের নানা পরিসরে ফিরে এসেছে।
কিন্তু ১৪ আগস্টের সেই সন্ধ্যার স্মৃতি আমাদের অন্য একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—
একজন রাষ্ট্রনায়কের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তিনি কী ভাবছিলেন?
উত্তরটি হয়তো পাওয়া যায় তাঁর কথাতেই।
তিনি ভাবছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।
ভাবছিলেন ছাত্রদের কথা।
ভাবছিলেন পরদিনের কর্মসূচির কথা।
বলছিলেন ‘নতুন দিনের’ কথা।
অর্থাৎ মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর মনেও ছিল ভবিষ্যৎ।
স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকা বঙ্গবন্ধু
মাহবুব জামান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি। দেখেছেন একজন ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ হিসেবে।
এই উপলব্ধির মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তার একটি বড় ব্যাখ্যা নিহিত আছে।
ইতিহাসে কিছু নেতা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মের কারণে স্মরণীয় হন। আবার কিছু নেতা মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতির মধ্যেও জায়গা করে নেন।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই দুই অর্থেই উপস্থিত।
তিনি স্বাধীনতার রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক। একই সঙ্গে তিনি বহু মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতির মানুষ—কারও কাছে ‘মুজিব ভাই’, কারও কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’, কারও কাছে ‘খোকা’, কারও কাছে জাতির পিতা।
তাঁর সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি তাই নিছক ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি মূল্যবান অংশ।
মাহবুব জামানের মতো প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিচারণ সেই ইতিহাসকে মানবিক মুখ দেয়।
শেষ সন্ধ্যার তাৎপর্য
১৪ আগস্ট ১৯৭৫-এর সন্ধ্যাকে যদি কেবল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর একটি বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়।
এটি ছিল একটি যুগের শেষ সন্ধ্যা।
একদিকে সদ্য স্বাধীন দেশের স্বপ্ন, পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা; অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ষড়যন্ত্র, অসন্তোষ ও রাষ্ট্রের ভেতরের গভীর সংকট।
এই দুই বাস্তবতা একই সন্ধ্যায় পাশাপাশি অবস্থান করছিল।
বঙ্গবন্ধু জানতেন বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে ছিল প্রত্যয়ের সুর।
‘কালকে আমি নতুন দিনের ডাক দিব।’
এই বাক্যটি তাই আজ আর শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতির অংশ নয়। এটি ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস।
তিনি নতুন দিনের ডাক দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু ১৫ আগস্টের ভোরে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হলো।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই—স্মৃতিতে, ইতিহাসে
মানুষের জীবন শেষ হয়। রাষ্ট্রনায়কের ক্ষমতা শেষ হয়। রাজনৈতিক সময় বদলে যায়। কিন্তু ইতিহাসে কিছু মানুষের উপস্থিতি মৃত্যুর পর আরও গভীর হয়ে ওঠে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে।
তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল একজন মানুষ হিসেবে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এবং কোটি মানুষের স্মৃতিতে তাঁর অবস্থানকে হত্যা করা যায়নি।
১৪ আগস্ট ১৯৭৫-এর সেই সন্ধ্যার সাক্ষাৎ আজও আমাদের সামনে একজন জীবন্ত বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরে—যিনি হাসছেন, কথা বলছেন, পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করছেন, দেয়ালে টাঙানো ছবির গল্প বলছেন, ছাত্রদের নিয়ে ভাবছেন, পরদিনের কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজিত হচ্ছেন।
তিনি জানতেন না, সেটিই তাঁর শেষ সন্ধ্যা।
তাঁর পাশে বসে থাকা মানুষগুলোও জানতেন না।
তাঁর সঙ্গে ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে কথা বলা মানুষগুলোও জানতেন না।
কেবল ইতিহাস জানত—আর কয়েক ঘণ্টা পরেই বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাজনৈতিক অধ্যায়ের অন্যতম নির্মাতা চলে যাবেন এক রক্তাক্ত ভোরে।
তাই ১৪ আগস্টের সেই সন্ধ্যা শুধু একটি স্মৃতি নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মুহূর্ত।
একজন মানুষ তখনও ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন।
আর ইতিহাস তাঁর জন্য অতীতের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছিল।
মাহবুব জামানের ভাষায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেই শেষ সন্ধ্যা ছিল তাঁর ‘পরম সৌভাগ্য’।
বাংলাদেশের ইতিহাসের পাঠকদের জন্যও সেই স্মৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ ইতিহাস শুধু তারিখ, ঘটনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমষ্টি নয়। ইতিহাস মানুষের স্মৃতিতেও বেঁচে থাকে।
আর সেই স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু আজও কথা বলেন—সেই ১৪ আগস্টের সন্ধ্যার মতোই।
তিনি যেন এখনও বলছেন—
‘কালকে আমি নতুন দিনের ডাক দিব।’
পরদিন সত্যিই নতুন দিন এসেছিল।
কিন্তু সেটি ছিল রক্তে লেখা এক নতুন দিন।
আর বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্ন, সংগ্রাম ও মানবিকতার উত্তরাধিকার—সেটিই আজও বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটি।
#
লেখক: মাহবুব জামান
সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস),
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু);
ও
তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা।
নিবন্ধটি মাহবুব জামানের ১৪ আগস্ট ১৯৭৫-এর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ সম্পর্কে প্রকাশিত স্মৃতিচারণের ভিত্তিতে রচিত। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে উল্লিখিত সংলাপ ও ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তৎকালীন ডাকসু জিএস মাহবুব জামানের লেখা:
https://www.facebook.com/share/1FqU3PtgkQ/

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি