শ্রীমঙ্গলের ‘ফ্যামিলি বাজার’ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলের ‘ফ্যামিলি বাজার’ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারস্থ ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম।

একই সঙ্গে তিনি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল পোল্ট্রি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ হারুন।

লিখিত বক্তব্যে মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, নতুন বাজারে তার মালিকানাধীন ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়। গত ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তার প্রতিষ্ঠানকে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও জানান।

তবে তার অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা রোমানা আক্তার শিপাসহ কয়েকজন তার বক্তব্য না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। এতে তার ব্যবসার সুনাম ও আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুমুর রশিদ বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে শ্রীমঙ্গলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিছু ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, ১৩ আগস্টের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে।

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এর আগে গত ২১ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোনো বিষয়বস্তু উল্লেখ না করে তাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে রোমানা আক্তার শিপা নামের এক নারীর ধারণ করা একটি ভিডিও দেখানো হয় বলে জানান তিনি।

মাসুমুর রশিদের দাবি, ওই ভিডিওতে দিনের বেলায় ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে কর্মচারীদের কাছে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে এবং ১২০ টাকায় তিনটি মৃত মুরগি কেনার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়, অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কখনো কখনো দু-একটি মুরগি মারা যেতে পারে। এসব মৃত মুরগি কর্মচারীরা বিক্রিযোগ্য মুরগি থেকে আলাদা করে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি।

Manual8 Ad Code

মাসুমুর রশিদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মানুষ গৃহপালিত কুকুরের খাবার এবং চিড়িয়াখানার পশুদের খাদ্য হিসেবে এসব মৃত মুরগি স্বল্প মূল্যে কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়ে যান। এ ধরনের লেনদেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার অংশ নয় এবং এর অর্থ কর্মচারীরাই গ্রহণ করেন—এমন দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাকে ১৩ আগস্ট পুনরায় হাজির হতে নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত দিনে তিনি সেখানে উপস্থিত হলে ওই ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অবহেলার জন্য তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান।

মাসুমুর রশিদ বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে কর্মচারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত মৃত মুরগি কোনো অসাধু ব্যক্তি হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে তার অভিযোগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, রোমানা আক্তার শিপা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রি হচ্ছে—এমন প্রচার চালিয়েছেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন একই ধরনের তথ্য প্রচার করায় তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে মাসুমুর রশিদ আরও একটি পুরোনো ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সন্ধ্যার সময় এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বস্তায় প্রায় ২০ কেজি কাটা গরুর মাংস নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে এসে বিক্রির প্রস্তাব দেন। তার প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে মাংস কেনে বা বিক্রি করে না জানিয়ে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান তিনি।

তার দাবি, ওই সময় হঠাৎ করে শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোকানে উপস্থিত হন। সেখানে থাকা মাংস দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবারের অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ সময় মাংস নিয়ে আসা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান বলে জানান তিনি। পরে ওই মাংস তার দোকানে রাখার দায়ে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাংস জব্দ করা হয় বলে দাবি করেন।

মাসুমুর রশিদ বলেন, পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্নভাবে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সন্দেহ, কোনো ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিকে পাঠিয়ে থাকতে পারে।

১৩ আগস্টের ঘটনাটিও একই ধরনের কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, কেউ যদি অবৈধভাবে মৃত মুরগির ব্যবসা করত, তাহলে প্রকাশ্য দিনের বেলায় এসে কোনো ব্যক্তি ‘মরা মুরগি আছে কি না’ জানতে চাইতেন না বা প্রকাশ্যে তা কেনার প্রস্তাব দিতেন না।

রোমানা আক্তার শিপার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ তুলে মাসুমুর রশিদ বলেন, এর আগে ওই ব্যক্তি তার দোকানে মুরগি কিনতে এসে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাম কম নিতে অস্বীকৃতি জানালে সাংবাদিক হিসেবে দেখে নেওয়ার ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুমুর রশিদ বলেন, “সার্বিকভাবে আমি মনে করি, রোমানা আক্তার শিপা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার এবং আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য যাচাই না করে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর প্রচার না চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক ১৩ আগস্ট আরোপিত ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পৃথকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে অভিযুক্ত রোমানা আক্তার শিপার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ