খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ইউএনও জিয়াউর রহমান

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ইউএনও জিয়াউর রহমান

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১২ আগস্ট ২০২৬ : খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তরুণদের মাঠমুখী করতে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ এবং মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মাঠমুখী করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান ও খেলার মাঠে খেলাধুলার সামগ্রী ও ফুটবল বিতরণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের মাকরিছড়া, সাতগাঁও চা বাগান, গান্ধিছড়া চা বাগান ও আমরাইলছড়া চা বাগানে শিশু-কিশোর, তরুণ ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান সরাসরি মাঠে গিয়ে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের খেলাধুলার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং উৎসাহিত করেন। পরে তাদের হাতে ফুটবলসহ খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেন তিনি।

স্থানীয় শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, এটি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে। ফলে তারা নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ অবসর সময় বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ডে ব্যয় করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও ক্রীড়া কার্যক্রম না থাকায় শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠগুলোকে সক্রিয় রাখা এবং শিশু-কিশোরদের মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Manual3 Ad Code

ইউএনও আরও বলেন, তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করলে তরুণদের অবসর সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন তৈরি হয় এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে ওঠে।

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ক্রীড়াচর্চার সুযোগ শুধু শহর বা উপজেলা সদরের শিশু-কিশোরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রত্যন্ত গ্রাম ও চা বাগান এলাকার শিশু-কিশোরদেরও সমানভাবে খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী পেলে এসব এলাকার অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।

Manual6 Ad Code

উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চা বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক শিশু-কিশোরের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ক্রীড়া সামগ্রী ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক সময় তাদের নিয়মিত খেলাধুলা করা সম্ভব হয় না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটবলসহ খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করায় তাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খেলার মাঠগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহার উপযোগী রাখা, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রীড়াচর্চায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু খেলাধুলার প্রসারই নয়, তরুণদের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক জীবনধারাও গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও কর্মচঞ্চল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ ও মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

Manual7 Ad Code

তিনি শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠে ফিরে আসার মাধ্যমে তারা নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার করসহ সংশ্লিষ্টরা।