ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ছয় মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ছয় মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬ : ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে প্রায় ছয় মাস আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কথিত মিছিল ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ওই মামলা করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) ও সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। গতকাল শনিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

আজ রোববার তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Manual3 Ad Code

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছয় মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো

Manual7 Ad Code

আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারবিরোধী মিছিল করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন। সকাল সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানোর জন্য তাঁরা সেখানে সমবেত হয়ে মিছিল করছিলেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। সেই মামলাতেই গতকাল আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে আজ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

তবে মামলার এজাহারে এই দুই তরুণীর নাম ছিল না বলে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

এজাহারে নাম না থাকার কথা জানালেন আইনজীবী

আজ আদালতে জান্নাতুল ফেরদৌসের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর আইনজীবী লিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ছয় মাস আগের একটি মামলায় গতকাল আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলার এজাহারে তাঁদের নাম ছিল না।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয় এবং পরে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

পুলিশের আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার দিকে ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্যরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।

মামলার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে মিছিল করার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আজ আদালতে দুই তরুণীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার পর আটক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার পর জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আগের মামলার সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে গতকাল তাঁদের আটকের সময় কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, কতক্ষণ পর তাঁদের পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ওই মামলার তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, যে মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তার এজাহারে নাম না থাকা এবং ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি আদালতে জামিন শুনানিতে তাঁদের আইনজীবীরা তুলে ধরেন।

আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

কোনো মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তের সময় প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে ওই মামলায় আসামি করা বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তদন্তে দুই তরুণীর বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা আদালতে পুলিশের আবেদনে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে—তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুই তরুণীর পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিন চাইলেও আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আটক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই তরুণীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ