মেননের মুক্তি দাবি, ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ দিবসে ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

মেননের মুক্তি দাবি, ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ দিবসে ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

Manual5 Ad Code

১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যাচেষ্টায় গুলি ও হামলার শিকার হন। এ ঘটনার ৩৪তম বার্ষিকীতে সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীতে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়।

Manual1 Ad Code

দলের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতির অংশ হিসেবে কমরেড রাশেদ খান মেননকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দের দাবি, ১৯৯২ সালে হত্যা প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পরও ‘সাম্রাজ্যবাদী ও মৌলবাদী শক্তি’ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ৩০ তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমেদ বকুল এসব কথা বলেন।

নুর আহমেদ বকুল বলেন, ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে দক্ষিণপন্থী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে কমরেড রাশেদ খান মেনন গুলিবিদ্ধ হন। ওই হামলার মধ্য দিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাচেষ্টাসহ সে সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালে তাঁকে হত্যা করতে না পারলেও এখন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’ অবিলম্বে সব মামলা প্রত্যাহার করে কমরেড রাশেদ খান মেননকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, ১৯৯২ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির ওপর রাষ্ট্রের ‘বিশেষ মহলের সহযোগিতায়’ ব্যাপক হামলা ও সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মী ও কৃষক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের হত্যা করা হয়।

দলের বক্তব্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলে কৃষক নেতা হায়দার, মোখলেস, উজির ও সোহরাবসহ কয়েকজন এবং কুলবিলা গুচ্ছ গ্রামের আটজন খেতমজুর নিহত হন। এ ছাড়া ঝিনাইদহের মন্টু মাস্টার এবং নাটোরের লালপুরের আখচাষি নেতা আব্দুস সালামসহ আরও কয়েকজন হত্যার শিকার হন বলে দলটি উল্লেখ করে। এসব ঘটনারও বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে সমাবেশে দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, কমরেড রাশেদ খান মেনন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বামপন্থী রাজনীতির বাতিঘর ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তাঁকে সামরিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম সোচ্চার রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি রক্ষার আন্দোলনেও তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন দলের নেতারা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক। সভাপতির বক্তব্যে তিনি কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

Manual1 Ad Code

কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকের নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা এলাকা প্রদক্ষিণ করে তোপখানা রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। তাঁরা ‘সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদবিরোধী’ আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।

Manual6 Ad Code

দলের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্টের হামলার ঘটনার পর থেকে কমরেড রাশেদ খান মেনন বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িকতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর ওপর হামলার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

সমাবেশ থেকে কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার, ১৯৯২ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার বিচার এবং দেশে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।