পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিনিধিদের কথা শুনতে হবে

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৫

পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিনিধিদের কথা শুনতে হবে

Manual4 Ad Code

কাজী ওয়াহিদুল আলম |

পর্যটন খাতের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। তবে মাস্টারপ্ল্যান না থাকলে কাজ করা যাবে না—এমন কোনো কথা নেই। ১৯৯৩ সালে পর্যটন করপোরেশন থেকেও একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। সেই প্ল্যান আমলে নিয়ে কেউ কাজ করেনি।

কাজ করার ইচ্ছা না থাকলে মাস্টারপ্ল্যান কাজে আসবে না। উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
বাজেট সহয়তা না থাকলে বা বাজেটের অর্থ খরচ করার সক্ষমতা যদি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের না থাকে, তাহলে কাজ এগোবে না।

Manual1 Ad Code

২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে এবারের বাজেটে বরাদ্দ অর্ধেক কমানো হয়েছে। ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার কথা শুনছি। এটার কাজ কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা চালিয়ে যেতে হবে। যথাযথভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে কোনোভাবেই পর্যটন খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে আগে যেসব অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তা ভেঙে নতুন করে সাজানোর সুযোগ নেই। তবে মাস্টারপ্ল্যান থাকলে পরিকল্পনা করে এগোনো যায়। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সিলেট—সব জায়গায়ই পর্যটকদের জন্য অবকাঠামো তৈরি করা আছে।

তবে এগুলো বিশৃঙ্খলভাবে তৈরি। মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
আমাদের ওভারট্যুরিজমেরও সমস্যা আছে। পুরো বিশ্বেই এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। ওভারট্যুরিজমের ফলে পরিবেশের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। তাই যা করতে হবে, পরিকল্পনামাফিক করা ভালো। বিদেশিরা দেশে আসতে চায় না। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ট্রাভেল অ্যালার্ট জারি করেছে। ফলে যারা আসতে আগ্রহী, তারাও আসতে পারছে না। কী করে ট্রাভেল অ্যালার্ট তোলা যায়, সেটা নিয়ে সরকার ও ট্যুরিজম বোর্ডের আলোচনা করা উচিত। আমাদের দেশে বিদেশি ট্যুরিস্টদের কখনোই ক্ষতি হয়নি। এই তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রচার করা উচিত।

Manual6 Ad Code

এই উদ্যোগ ট্যুরিজম বোর্ডকে নিতে হবে। এই তথ্য প্রচার করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, তা নয়। রাজনৈতিক বা সামাজিক যে কারণেই ট্রাভেল অ্যালার্ট জারি করা হোক না কেন, সেটাকে অ্যাড্রেস করে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশ বিদেশি ট্যুরিস্টদের জন্য নিরাপদ, সেটা প্রচার করতে ট্যুরিজম বোর্ডকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু তাত্ত্বিক বিষয়ে কথা বলে কোনো ফল আসবে না। যা আছে, সেটা আগে কাজে লাগাতে হবে।

Manual7 Ad Code

ট্রাভেল অ্যালার্ট তুলে নিলে কিছুসংখ্যক টুরিস্ট আমরা পেতাম। এটা তুলে নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে না। এই খাত নিয়ে নতুন সরকারকেও কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন এখন পর্যন্ত পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি বলে একটা কথা আছে। কিন্তু এখানে প্রাইভেট পার্টনারদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন না।

আমলারা মনে করেন, তাঁরাই সবকিছু ভালোভাবে বোঝেন। যাঁরা প্রাইভেট সেক্টরে আছেন, তাঁদের কথা শুনতে হবে। কোনটা করলে ভালো হবে, কোনটা করলে খারাপ হবে, সেটা না শুনলে যে সরকারই থাকুক না কেন, লাভ হবে না। পর্যটন খাত নিয়ে সরকারের আগ্রহ থাকলে তারা সেই বার্তা দিত। আগের তুলনায় বাজেট এবার অর্ধেক কমে গেছে। সরকারের কোনো সদিচ্ছা দৃশ্যমান নয়। প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।

সরকারকেই নীতি নির্ধারণ করতে হবে, তা না হলে এই সেক্টর এগোবে না। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কার ট্যুরিজম অনেক এগিয়ে গেছে। গত এক মাসে ১০ লাখ পর্যটক এনেছে দেশটি। তারা পারছে, কারণ সেখানকার ট্যুরিজম চলছে পেশাদার মানুষ দিয়ে। তাদের বোর্ডে ১১ জন আছে। ১১ জনই প্রাইভেট সেক্টরের। আমাদের এখানে ৭৫-৮০ শতাংশ সরকারি আমলা। বাকি দু-তিনজন প্রাইভেট সেক্টরের। যাঁরা পর্যটন খাতকে ধারণ করেন, এটা নিয়ে চিন্তা করেন, তাঁদের ট্যুরিজম বোর্ডে দেখা যায় না। এই বোর্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হলে প্রাইভেট সেক্টরের মানুষদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তাঁদের কথা শুনে পলিসি নির্ধারণ করতে হবে।

ট্যুরিজম সেক্টরে যে বিদেশি মুদ্রা আয় হয়, তা দেশেই থাকে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকে যে আয় হয়, সেটার অনেকটাই চলে যায় এলসি খুলে পণ্য আমদানি করতে। পর্যটন হলো কমিউনিটিভিত্তিক মাল্টি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর। এর সঙ্গে এভিয়েশন, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট, স্যুভেনির শপ ও লোকাল ট্যুর অপারেটরের ব্যবসা জড়িত। একটা ট্যুরিস্ট এলে ২৭ থেকে ৩০টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারে। ফলে সামাজিক উন্নয়নে ট্যুরিজম সেক্টর বড় ভূমিকা পালন করে। এই গুরুত্বটা অনুধাবন করতে হবে।
#
লেখক : পর্যটন ও এভিয়েশন বিশ্লেষক, দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক

অনুলিখন : মাসুদ রুমী।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ