সিলেট ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৫ : দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক বিরল প্রতিভা ও অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অর্গেনাইজার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সিলেটের শ্রম আদালতের লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির সদস্য মাহবুব রেজা’র দাদা।
রাজনৈতিক অঙ্গনের এক বিরল প্রতিভা ও অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সিলেটের শ্রম আদালতের লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির সদস্য মাহবুব রেজা বলেন, “একজন বিদগ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ ও বলিষ্ঠ বক্তা ছিলেন তিনি। এই রাজনৈতিক নেতার স্মৃতি দেশের রাজনীতি সচেতন জনগোষ্ঠীর কাছে চিরদিন দূরাকাশের প্রদীপ্ত ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল হয়ে আছেন তিনি। নিপীড়িত ও শোষিত জনগোষ্ঠীর একান্ত কাছের এই মানুষটি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। প্রাঞ্জল ও মর্মস্পর্শী ভাষায় ঘণ্টার পর ঘন্টা বাংলা ও উর্দুতে বক্তৃতা দানে পারঙ্গম ছিলেন তিনি। তার ভাষা ও কণ্ঠস্বর শ্রোতা সাধারণকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। একজন রাজনৈতিক নেতার অন্যতম হাতিয়ার হল বাক্পটুতা-এ গুণে তিনি গুণান্বিত ছিলেন। তাঁর চরিত্রে নানাবিধ সদগুণের সমাবেশ ঘটেছিল। তাঁর মাঝে অন্যতম হল, শিষ্টাচার। তাঁর সুন্দর, শোভন ও মার্জিত আচরণ পরম শত্রুকেও মিত্র বন্ধনে বেঁধে ফেলার ক্ষমতা রাখতেন। প্রচন্ড স্মৃতিশক্তির অধিকারী এই জননেতার বক্তব্যে অনেক পত্র পত্রিকা এবং পুস্তকের মূল্যবান উদ্ধৃতি শ্রোতা-সাধারণকে বিস্ময় সৃষ্টি করতো।”
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত ও বর্তমান পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমন করে তার জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ ও পরিপুষ্ট করে তুলেছিলেন। খেলাফত আন্দোলন থেকে শুরু করে মুসলিম লীগ পর্যন্ত সব কটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময়ে জড়িত ছিলেন। ইংরেজ আমলে বেশ কয়েকবার তিনি কারাবরণ করেন। নীতি ও আদর্শে তিনি ছিলেন অবিচল।
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদদের সাহচর্যা লাভ-
হবিগঞ্জের বানিয়াচং নিবাসী মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ উপমহাদেশের অনেক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদদের সাহচর্যা লাভ করেছিলেন। কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, মৌলানা শওকত আলী, মৌলানা মোহাম্মদ আলী, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিম উদ্দিন, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রমুখদের নাম উল্লেখযোগ্য।
জ্ঞানান্বেষণের পাশাপাশি সাংবাদিকতা-
জ্ঞানান্বেষনে সদা তৎপর ও উৎসাহী মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকায় সব সময় ডুবে থাকতে পছন্দ করতেন। সে যুগের বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবেও তিনি তার যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দুঃখী মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ এই জননেতা অনেক সেবামূলক সংস্থার সাথে জড়িত থেকে আজীবন নির্যাতিত ও মেহনতী জনগণের সুখদুঃখের সাথে একাত্ম ছিলেন। মেহনতী মানুষের মুক্তিই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত। রাজনৈতিক অঙ্গনের এই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাধারণ। তাঁর জীবন যাপন ছিল অত্যন্ত সাদা মাটা অনাড়ম্বর। তিনি ছিলেন সদা হাস্যময় প্রাণোচ্ছল।
নীতি-আদর্শে ছিলেন অটল –
যে মানুষ নিজের কর্মের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করতে পারে মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ননেতার অনুসারী ছিলেন বলেই মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভারত ও পাকিস্তানের অগণিত স্থান পরিভ্রমন করেছিলেন। খেলাফত আন্দোলন থেকে শুরু করে মুসলিম লীগের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময়ে জড়িত ছিলেন। ইংরেজ আমলে তিনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন, তিনি তাঁর নীতিতে হিমালয় সম অটল ছিলেন, কখনও নীতিহীন হননি।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ খাঁন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী ও চৌধুরী মোহাম্মদ আলী প্রমুখের সান্নিধ্য পেয়েছেন।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সে যুগের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার রিপোর্টার ছিলেন। তিনি দেশের দুঃখী মানুষের হিতের জন্য বিভিন্ন জনকল্যানমূলক সংস্থার সাঙ্গ সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। দেশের দুঃস্থ নিপীড়িতের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তিনি ছিলেন তাদের অতি কাছের মানুষ, আদের আত্মার আত্মীয় ভাব জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল-দেশের মেহনতী মানুষের মুক্তি। জীবনে লোভ লালসা বা স্বার্থ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। নিজের জন্যে তিনি জীবনে কিছুই করেননি। তিনি বিত্তশালীদের কাছে নত হননি কখনও। শোষকের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। বানিয়াচঙ্গের তদানীন্তন প্রভাবশালী জমিদারদের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র প্রতিবাদী ছিলেন।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি ইসলামের সাম্যনীতি প্রচার করেছেন। পরধর্মের প্রতি অত্যন্ত উদার মানসিকতার প্রমাণ তাঁর জীবনে দেখিয়েছেন। গরীব দুঃখীর স্বার্থটাকেই তিনি সব সময় বড় করে দেখতেন।
মৌলভী মোহাম্মদ তাঁর জীবনে বহু নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। মাঝে মাঝে জয়ী হয়েছেন এবং পরাজয়কেও বরণ করে নিয়েছেন হাসিমুখে। জনগণের রায়কে তিনি সবসময়েই গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, গণতন্ত্রের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
১৯৭৩ ইংরেজী সনের ১৩ই জুলাই ৭২ বছর বয়সে মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।
বানিয়াচং বড়বাজার সন্নিকটবর্তী ৩নং মসজিদের পাশে তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর সমাধি দেখে কাজী নজরুল ইসলামের একটি গানের কলি মনে পড়ে যায়- ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই।
সাহিতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে-
ষাট দশকে একদল সবুজ ও সতেজ মনের অধিকারী তরুণ বৃহত্তর সিলেট জেলার সাহিতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রেখেছিলেন। আলোর পিয়াসী ও অনাবিল সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার কাফেলার মোহাম্মদ আতাউর রহমানও ছিলেন একজন অন্যতম শব্দসৈনিক।
এটা যে কোন দেশে, জাতি ও প্রজন্মের পক্ষে আদৌ শুভ লক্ষণ নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। বৃহত্তর সিলেট জেলায় শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা, সমাজ সেবা, রাজনীতি, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলেন, খেলাফত আন্দেলন ১৯৪৭এর রেফারেন্ডাম তথা পাকিস্তান আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলার কীর্তিমান পুরুষরা অনন্য অবদান রাখলেও প্রয়োজনীয় সংগ্রহ ও সংরক্ষনের অভাবে দেশ জাতি ও মানব কল্যাণে তাদের অবদান বিস্মৃতির অতল সলিলে তলিয়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ একজন দেশ, সমাজ ও স্বজাতির একনিষ্ঠ ত্যাগী ও কর্মী পুরুষ হিসেবেই সর্বত্র পরিচিত ছিলেন। মানব কল্যাণে এইসব গুনীজনদের জীবনী লিপিবদ্ধ না হওয়ায় স্থানীয় ইতিহাসে এরা উপেক্ষিতই রয়ে গেলেন।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিভা, অসাধারন বাগভঙ্গী ও তীক্ষ্ণ দূরদর্শিকতার জন্য তার সময়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাকে অত্যন্ত সমীহ করতেন।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে জনগনের আত্মীয় তথা ‘জনাত্মীয় বললে একটি হৃদয়ানুভুতির সৃষ্টি হয়। তিনি জনগনের পরমাত্মীয় ছিলেন বলেই আজো তাঁর ঈর্ষনীয় প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হয়। তাঁর ঐশ্বর্যময় জীবন চিত্র সুন্দরের বাহন হয়ে আজো জনমনে শোভা পাচ্ছে। তাঁর সার্বিক অবয়বে, চিন্তা চেতনায়, ধ্যান ধারণায় মানুষের আত্মীয় দাবী ফুটে উঠতো। তিনি তাঁর হৃদয় মন দিয়ে মানুষের একান্ত ইচ্ছাকে, সুখ-দুঃখ কে উপলব্ধি করতে পারতেন বলে মানুষের কল্যানকে খুজতে গিয়ে পথ থেকে প্রান্তরে, দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়েছেন। নিজের জীবনে কোন বিত্তসুখ তৈরী করেননি। মানুষের সুখের ভেতরই তাঁর চিত্তসুখ বিরাজিত ছিল।
আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অর্গেনাইজার-
১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার মুসলিম লীগের জন্ম হয়। প্রথম দিকে মুসলিম লীগ ছিল নবাব নাইটদের প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এর কোন যোগাযোগ ছিল না। ১৯৩৭ সাল থেকে মুসলীম লীগের নীতিতে পরিবর্তন আসে। মুসলিম জন সাধারণের প্রতিষ্ঠান হিসাবে মুসলিম লীগের নব যাত্রা শুরু হয়। মৌলভী আব্দুল মতিন চৌধুরীর উদ্যোগে আসাম প্রদেশে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৮ সালে প্রাদেশিক মুসলিম লীগ অর্গেনাইজিং কমিটি গঠিত হয়।
কমিটির সদস্যবৃন্দ:- স্যার সৈয়দ মোহাম্মদ সাদউল্লাহ, খান বাহাদুর সৈয়দুর রহমান এম. এল.এ, মৌলভী আব্দুল মতিন চৌধুরী, মকবুল হোসেন চৌধুরী এম. এল. এ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (বানিয়াচঙ্গী), মাওলানা আব্দুল হামিদ খাঁ এম. এল. এ, মৌলভী আব্দুস সামাদ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন ভূঞা, মৌলভী মমতাজ আহমদ, আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী এম. এল.এ।
আব্দুল্লাহ্ বানিয়াচঙ্গীকে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অর্গেনাইজার মনোনীত করা হয়। তিনি ১৯৩৮ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের কাউন্সিলর ছিলেন। ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক লাহের অধিবেশনে আব্দুল্লাহ্ বানিয়াচঙ্গী যোগ দেন। এই অধিবেশনে বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব পাশ হয় যার ফলে ভারতের মুসলিম প্রধান অঞ্চলে পাকিস্তান ও হিন্দু প্রধান অঞ্চলে হিন্দুস্তান কায়েম হয়।
সিলেট রেফারেন্ডামে আব্দুল্লাহ বানিয়াচঙ্গী অমানুষিক পরিশ্রম করেন। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি মুসলিম লীগের সদস্য ছিলেন।
নিজামে ইসলাম পার্টিতে যোগদান-
মুসলিম লীগের ভ্রান্ত নীতির দরুন ঐ বছর অক্টোবর মাসে তিনি মুসলিম লীগ ত্যাগ করে নিজামে ইসলাম পার্টিতে যোগদেন।
মানুষ আব্দুল্লাহ
মানুষ হিসাবে আবুল্লাহ্ বানিয়াচঙ্গী ছিলেন এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। দেখতে ছোট খাট হলেও তার তেজ ছিল গগণচুম্বী। বক্তা হিসাবে তিনি ছিলেন সরস ও মিষ্টভাষী। তিনি অনাড়ম্বর সহজ সরল জীবন যাপন করছেন। সর্বদা তিনি নিজকে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখতেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, “গতিই জীবন মম, যতিই মরণ” তার মত খাঁটি ইসলাম দরদী মানুষ বর্তমান সমাজে বিরল।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর জীবনপঞ্জী-
জন্ম: ২৬ শে ফেব্রুয়ারী ১৯০১ সাল।
মৃত্যু: ১৩ই জুলাই, ১৯৭৩ সাল।
খেলাফত আন্দোলনে যোগদান: ১৯২১ সাল
গ্রেফতার ও কারাবরণ: ১৯২২ সাল
কারাগার থেকে মুক্তিলাভ: ১৯২৩ সাল
বানিয়াচঙ্গে পল্লী সমিতি গঠন: ১৯২৩ সাল
সিলেট জেলা কৃষক সমিতি ও সুরমা উপত্যকা সম্মেলনে অংশগ্রহণ: ১৯২৭ সাল।
বানিয়াচঙ্গের জাতীয় স্কুলের শাখা গঠন: ১৯২৯ সাল। নিখিল বঙ্গপ্রজা সমিতির গঠন: ১৯২৯ সাল
বানিয়াচঙ্গ সিনিওর আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম সদস্য-১৯৩০ সাল।
আসামে লাইন প্রথা আন্দোলনে অংশগ্রহন ১৯৩০ সাল।
তাবলীগ ও তানযীম কমিটির শাখা গঠন: ১৯৩০। সুনামগঞ্জ শহরে প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন: ১৯৩২ সাল।
বৃহত্তর পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ শহরে কৃষক প্রজা সম্মেলনে অংশগ্রহণ-১৯৩২ সাল।
ঐতিহাসিক লখনৌ শহরে মুসলিম লীগের ২৫তম অধিবেশনে যোগদান-১৯৩৬ সাল।
নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নির্বাহী কাউন্সিলার নির্বাচিত-১৯৩৭ সাল। Π
আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অর্গানাইজার পদে মনোনয়ন: ১৯৩৮ সাল
আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রথশ বার্ষিক অধিবেশন কাগমারী সম্মেলনে যোগদান-১৯৩৯ সাল। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ২৭তম লাহোর অধিবেশনে আসাম প্রদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান ১৯৪০ সাল।
আসাম প্রদেশিক মুসলিম লীগের দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশনে (হবিগঞ্জ) যোগদান ১৯৪১ সাল।
হবিগঞ্জ (মহকুমা) জেলার সায়েস্তাগঞ্জ রেলষ্টেশন সংলগ্ন ডাকবাংলা প্রাঙ্গনে মুসলিম লীগের জনসভায় যোগদান ১৯৪১ সাল।
হবিগঞ্জ মুসলিম লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখস্থ প্রাঙ্গনে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন: ১৯৪৮ সাল।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের এক জনসভায় যোগদান করেন।
সিলেট রেফারেন্ডামে প্রধান ভূমিকা ও সক্রিয় আন্দোলন: ১৯৪৭ সাল।
পাকিস্তান সংগ্রাম দিবস উদযাপনে ২৫ হাজার মুসলিম জনতার মিছিলের নেতৃত্ব প্রদান ১৯৪৭ সাল।
নিখিল ভারত মুসলিম লীগের আমন্ত্রণ ক্রমে দিল্লী, করাচী ও লাহোর অধিবেশনে যোগদান।
বানিয়াচঙ্গ ভূখা মিছিলের নেতৃত্ব প্রদান: ১৯৩৯ সাল। বানিয়াচঙ্গে ১৯৫৫ ইং সালের দূর্ভিক্ষ ও বন্যাজনিত কারণে রিলিফকমিটি গঠন: ১৯৫৫ সাল।
সিলেটের গোবিন্দ পার্কে (বর্তমানে হাসান মার্কেট) কংগ্রেস সভায় বিরোধী ভূমিকা পালনে নেতৃত্ব প্রদান ১৯৩৯ সাল।
সিলেট কীনব্রীজে মুসলিম লীগের পিকেটিং এর নেতৃত্ব প্রদান: ১৯৩৮ সাল
নিখিল ভারত মুসলিম লীগের পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ কনফারেন্সে যোগদান: ১৯৪২ সাল। বানিয়াচঙ্গে ভিলেজ ইমপ্রুভমেন্ট কনফারেন্সের উদ্যোক্তা-৭ই এপ্রিল ৪২ সাল।
বানিয়াচঙ্গে সিভিল ডিফেন্স কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ১৯৪২ সাল।
ন্যাশনাল ওয়ারফ্রন্টের জেলা অর্গানাইজার ১৯৪৪ সাল। Π
বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার কসবা নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম লীগের জনসভায় যোগদান ১৯৪৬ সাল
বানিয়াচঙ্গে পল্লী উন্নয়ন কাউন্সিল গঠনের উদ্যোক্তা: ১৯৪৮ সাল।
মুসলিম লীগের আমন্ত্রণে ঢাকায় কার্জন হলের মুসলিম লীগ অধিবেশনে যোগদান ১৯৪৯ সাল।
বানিয়াচঙ্গে ৪র্থ পল্লী উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক। ১৯৫৩ সাল।
বানিয়াচঙ্গে ভিলেজ এড একাডেমী স্থাপনে সক্রিয় সহযোগিতা: ১৯৫৭ সাল।
মুসলিম লীগের সদস্যপদ প্রত্যাহার: ১৯৫৪ সাল। বানিয়াচঙ্গের ১৩৫০ বাংলার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ১৯৪৪ সাল। Π
চট্টগ্রাম মিরসরাই পল্লী উন্নয়ন একাডেমী পরিদর্শন টিমের দলনেতা, ১৯৬০ সাল।
পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বানিয়াচঙ্গ নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-১৯৬০ সাল। মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরোধিতা: ১৯৬০ সাল। Π বৃহত্তর ময়মনসিংহের আটার বাড়ী, ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরিপুর পল্লী উন্নয়ন পরিদর্শন কমিটির দলনেতা -১৯৬০ সাল।
বি, ডি, মেম্বার ১৯৬১-৬৯
বানিয়াচঙ্গে ইসলামী সেমিনার এর উদ্যোগক্তা, ১৯৬২ সাল।
পাক-ভারত ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের তহবিল গঠনের লক্ষ্যে চাঁদা সংগ্রহ অভিযানের সভাপতি: ১৯৬৫ সাল। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের ঐক্যফ্রন্টের চেয়ারম্যান, ১৯৬৯ সাল।
হবিগঞ্জ বানিয়াচঙ্গ রাস্তার মাটি ভরাটের কাজে অংশ গ্রহণ ১৯৫০ সাল।
হবিগঞ্জ বানিয়াচঙ্গ রাস্তা পুনঃ সংস্কারে কমিটি গঠনের আহবায়কদের অন্যতম ১৯৬০ সাল।।
সাংবাদিকতা ১৯৩৬-১৯৫০ সাল পর্যন্ত।
ওফাত
আব্দুল্লাহ্ বানিয়াচঙ্গী ১৯৭১ সালে অসুস্থ হয়ে প্রায় দুই বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ১৩ জুলাই তিনি পরলোক গমন করেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি