গর্ভবতী নারীদের জন্য আলিফ-মীম হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগ

প্রকাশিত: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

গর্ভবতী নারীদের জন্য আলিফ-মীম হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগ

Manual1 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষীপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : লক্ষীপুর জেলার উপশহরে অবস্থিত আলিফ-মীম হাসপাতাল গর্ভবতী নারীদের জন্য এক বিশেষ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর আলহাজ্ব আমীর হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন— প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার, যেটি স্থানীয়ভাবে “গরিবের হজের দিন” নামে পরিচিত, সেদিন গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন ও স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।

Manual4 Ad Code

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে বহন করতে হবে কেবল ফার্মেসি বিল ও ডেলিভারির পূর্বের ল্যাব টেস্টের খরচ। তবে হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে বহন করবে হাসপাতাল বিল, কেবিন চার্জ, চিকিৎসক ও সার্জারির খরচ, অ্যানেস্থেসিয়া বিলসহ অন্যান্য সার্ভিস চার্জ। আগ্রহী রোগীদের প্রতি মাসের শেষ শুক্রবারের আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে হাসপাতালে এসে নিবন্ধন করতে হবে।

মানবিক উদ্যোগের পেছনের কারণ

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলহাজ্ব আমীর হোসেন বলেন, “অনেক সময় মাসের শেষ দিকে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা থাকে না। কিন্তু অসুস্থতা তো অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বোঝে না। অর্থের অভাবে অনেকেই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা গরিবের হজের দিনে গর্ভবতী নারীদের জন্য এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।”

Manual1 Ad Code

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগে যদি কারও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে প্রয়োজনে তিনি মাসে দুই শুক্রবার বা প্রয়োজনে প্রতি শুক্রবার এ সেবা চালু করবেন।
“আমি শুধু টাকার জন্য হাসপাতাল দেইনি। আমার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবা করা,” যোগ করেন তিনি।

মানুষের প্রশংসা ও প্রতিক্রিয়া

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ইতোমধ্যেই লক্ষীপুরের মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অসহায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যদি অন্য হাসপাতালের মালিকরাও এভাবে এগিয়ে আসতেন, তাহলে অনেক দরিদ্র পরিবার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতো না।”

ডেলিভারি হওয়া এক রোগীর অভিভাবক জানান, “অন্য হাসপাতালে নিলে প্রথমেই সিজার করার চেষ্টা করে। কিন্তু আলিফ-মীম হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার সিজার করতে দেননি। অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করেছেন। আমরা সত্যিই সন্তুষ্ট।”

আলিফ-মীম হাসপাতালের বিশেষত্ব

হাসপাতালের চেয়ারম্যান জানান, আলিফ-মীম হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করা এবং অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় ভিন্নধর্মী সেবা প্রদানই তাদের লক্ষ্য। হাসপাতালের ছাদে হেলিপ্যাডের সুবিধা রয়েছে, যা লক্ষীপুর জেলায় অন্য কোথাও নেই।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি প্রতিটি হাসপাতাল মাসে একদিন হলেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে অসহায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।

Manual7 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ