লক্ষ্মীপুরে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

লক্ষ্মীপুরে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : আসন্ন মা ইলিশ প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে মা ইলিশ সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

Manual6 Ad Code

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাউল আলম ভূঁইয়া, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও জেলেদের সংগঠনের প্রতিনিধি।

Manual5 Ad Code

সভায় জানানো হয়, মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় বরফকল বন্ধ থাকবে এবং জেলেদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে চাল ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে।

Manual8 Ad Code

জেলা প্রশাসকের কড়া নির্দেশনা

সভায় জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, “লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ইলিশ সারাবিশ্বে জনপ্রিয়। এটি শুধু আমাদের জেলার গর্ব নয়, জাতীয় সম্পদ। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোন প্রকার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাছ শিকার, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত দুষ্ট মুনাফাখোর ও চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মোবাইল কোর্টও সক্রিয় থাকবে।

মৎস্য কর্মকর্তার আহ্বান

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “লক্ষ্মীপুরের মেঘনাই ইলিশের বাড়ি। এই ইলিশ শুধু লক্ষ্মীপুরের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অহংকার। মা ইলিশ বাঁচলে ইলিশের প্রজনন বাড়বে, আর উৎপাদন বাড়লে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

তিনি জানান, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু টাস্কফোর্স নয়, সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। রামগতি, সদর, কমলনগর, রায়পুরসহ জেলার সব ঘাটে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।

কঠোর আইন প্রয়োগের ঘোষণা

সভায় বক্তারা বলেন, মা ইলিশ ও ঝাটকা নিধন রোধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে। এ ছাড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বহুমাত্রিক সমন্বয়

সভায় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যজীবী কমিটি, বরফকল মালিক সমিতি, কোস্টগার্ড, জেলা পুলিশ, আনসার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি।

উপসংহার

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণে এ বছর কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ