শ্রীমঙ্গলে চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

Manual3 Ad Code
‘আলোকিত মানুষ গড়ার আন্দোলন’— জ্ঞানের আলোয় উজ্জ্বল নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার | ১৮ অক্টোবর ২০২৫ : ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ মহৎ অভিযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্ত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জ্ঞানের বার্তা ও সংস্কৃতির উৎসব

বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট এবং সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “ভ্রাম্যমাণ বইমেলা জ্ঞানপিপাসু মানুষের তীর্থক্ষেত্র। শ্রীমঙ্গলের এই মেলাও জ্ঞানসন্ধানী মানুষদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ উদ্যোগ আলোকিত মানুষ গড়ার আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।”

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জলি পাল, সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিকার ও লেখক বিকাশ দাশ বাপ্পন। উপস্থিত ছিলেন চারুকলার শিক্ষক পার্থ দেব এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী।

Manual4 Ad Code

চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিসেবীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদয়ন বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে পাঠ, শিল্প ও সংস্কৃতি একাকার হয়ে যায়।

সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় আয়োজন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা চলে ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত।
প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। মাঠ পর্যায়ে আয়োজনে সহযোগিতা করে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন, আর স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেয় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন।

‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি’— পাঠের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার এক অগ্রযাত্রা

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে সহজলভ্যভাবে বিশ্বসেরা বই পৌঁছে দিতে আমরা ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি’ চালু করেছি। এটি আমাদের ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ মূল কর্মযজ্ঞেরই অংশ।”

মেলায় প্রদর্শিত বইয়ের মধ্যে ছিল গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, অনুবাদ সাহিত্য ও শিশু-কিশোরদের উপযোগী বই। পাঠপ্রেমীদের উৎসাহিত করতে বই বিক্রিতে দেওয়া হয় বিশেষ মূল্যছাড়।

‘জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার উজ্জ্বল যাত্রা’— কমরেড আমিরুজ্জামান

সমাপনী বক্তৃতায় কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি সৌন্দর্যবোধ, অনুসন্ধিৎসা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার এক কর্মশালা। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং রুচিশীল সংস্কৃতি বিকাশই এর মূল উদ্দেশ্য।”

শ্রীমঙ্গলে পাঠপ্রেমীদের মিলনমেলা

মেলা ঘিরে শ্রীমঙ্গলজুড়ে বই ও পাঠের এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় শিক্ষক, সংস্কৃতিসেবী ও তরুণ পাঠকরা দলে দলে মেলায় ভিড় করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে অংশ নেয় পাঠচক্র ও আলোচনায়।

Manual5 Ad Code

শিক্ষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের বইপ্রেমী করে তুলছে, পাঠের চর্চা বাড়াচ্ছে এবং মননশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র : আলোকিত মানবতার অগ্রদূত

Manual7 Ad Code

১৯৭৮ সালে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ দেশের প্রজন্মের মাঝে বইপড়ার অভ্যাস, প্রজ্ঞামূলক চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিস্তারের প্রতীক। এর পাঠচক্র, লাইব্রেরি ও মোবাইল লাইব্রেরি কর্মসূচি বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সফল সমাপ্তি : পাঠের উৎসব থেকে আলোর যাত্রা

চারদিনব্যাপী এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুধু বই বিক্রির আয়োজন নয়— এটি ছিল জ্ঞান, মানবতা ও আলোকিত সমাজ গঠনের এক অনুপ্রেরণার উৎসব।
সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও এর অনুরণন থেকে যাবে পাঠপ্রেমী মানুষের মনে—
যেখানে বই হয়ে ওঠে আলো, আর পাঠ হয়ে ওঠে আলোকিত জীবনের প্রতিজ্ঞা।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ