সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৫
আমেরিকার অর্থনীতি আজ কঠিন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে, পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কোভিড–১৯ মহামারি শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নয়, পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোকেই নড়ে দিয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—মহামারির পরবর্তী সময়ের প্রণোদনা ও অনুদান কর্মসূচিগুলো অনেক জায়গায় উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজে লাগলেও, একটি বড় অংশ প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে লুট হয়ে গেছে।
মেধাহীন ও যোগ্যতাহীন কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির ফাঁকফোকর গলিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে। সত্যিকার অর্থে যারা অনুদানের প্রয়োজন ছিল, অনেক ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হয়েছে। শুধু কোভিড–অনুদান নয়; নতুন ব্যবসা, কর সুবিধা বা সরকারি প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই প্রতারণার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব চক্র শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বিশ্বের নানা দেশ থেকে দুর্নীতিবাজ কিছু মানুষ আমেরিকায় এসে একই ধরনের উপায় অবলম্বন করছে। এদের যৌথ কর্মকাণ্ড আমেরিকার অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
রাষ্ট্র পরিচালনা অনেকটা নিজের ঘর সামলানোর মতো। নিজের ঘরে কাউকে দাওয়াত দিলে তাকে সম্মান দেওয়া হয়, নিরাপত্তা দেওয়া হয়, কিন্তু তাকে সবকিছু লুটে নেওয়ার অনুমতি কেউ দেয় না। সেভাবে একটি দেশও তার উদারতা ও সুযোগের সদ্ব্যবহার চায়—দুর্ব্যবহার নয়। দুর্নীতি ও প্রতারণা আমেরিকার মতো বৃহৎ অর্থনীতির জন্য গভীর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
এই জায়গায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। অনেকের মতের সঙ্গে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রশাসনের কিছু কঠোর নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে অবস্থান অনেক আমেরিকানের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। আমেরিকার স্বার্থরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রয়োজন আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
ট্রাম্প দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বে থাকলে মার্কিন অর্থনীতি ভিন্ন পথে এগোতো—এই বিশ্বাস বহু মানুষের। কারণ তিনি অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, প্রতারণা ও ব্যবস্থাগত দুর্বলতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা ছিলেন না। আজ যখন আমেরিকা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন অনেকেই আবারও শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তবান নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
আমেরিকার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে সুশাসন, স্বচ্ছতা, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতার নীতির ওপর। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যা স্পষ্ট, সাহসী, এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখে।
#
তানিয়া মিলি
ওয়াশিংটন ডিসি
ইউএসএ

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি