সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬
মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর, ১২ মার্চ ২০২৬ : লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গরম বাজার সংলগ্ন এলাকায় কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সাইফুল কবিরাজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আইন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১৩ ধারা এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির মাটি কাটলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল কবিরাজ এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ২ নম্বর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজের চাচা বলে জানা গেছে। এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাস্টারের ফুফাতো ভাই এবং হোসেন মাস্টারের বেয়াই বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল কবিরাজ বলেন, “বাংলাদেশের সব আইন সম্পর্কে আমি অবগত।” মাটি কাটার জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট তহসিলদাররা বিষয়টি অবগত এবং তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছেন।
এ বিষয়ে চরবংশী ইউনিয়নের তহসিলদার আব্দুস সাত্তার মুঠোফোনে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং মাটি কাটার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সাইফুল কবিরাজ ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।”
তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রশাসন চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে পারত।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে বা অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা বা অর্থদণ্ড দিতে পারেন। এই আইনে সাধারণত সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে অপরাধটি এতটাই গুরুতর যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত শাস্তি যথেষ্ট নয়, তাহলে তিনি তাৎক্ষণিক দণ্ড না দিয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, “এসিল্যান্ড নিগার সুলতানাকে প্রায়ই ফোনে পাওয়া যায় না। অনেক সময় সাংবাদিকদের কলও তিনি রিসিভ করেন না।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে কি প্রভাবশালীদের কাছে আইনের প্রয়োগ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে? নাকি প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন তারা।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি