শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জের বিদায়ী হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জের বিদায়ী হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০২ জুন ২০২৬ : প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিবর্তন সরকারি চাকরিজীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও কিছু বিদায় স্থানীয় জনগণের মনে বিশেষ আবেগের জন্ম দেয়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্নার বিদায়ও তেমনই একটি ঘটনা, যা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং এবং মানবিক আচরণের কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি শ্রীমঙ্গল থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো শ্রীমঙ্গলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছিল প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন।

Manual5 Ad Code

বিদায়ী বক্তব্যে ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর খুব দ্রুতই তিনি উপলব্ধি করেন যে শ্রীমঙ্গলের মানুষ তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং থানার পুলিশ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমই তার কাজের প্রধান শক্তি ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির একক সাফল্যের চেয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের যে ধারণাকে সামনে এনেছে, শ্রীমঙ্গলে তার কিছু বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জহিরুল ইসলাম মুন্নার বিদায়ী বার্তাতেও সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন পাওয়া যায়।

Manual6 Ad Code

বিদায়ের মুহূর্তে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল বা আচরণগত ত্রুটির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন আত্মসমালোচনামূলক ও বিনয়ী অবস্থান প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা ও শ্রদ্ধাবোধেরও প্রকাশ।

শ্রীমঙ্গল শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়; এটি দেশের পর্যটন, চা-শিল্প ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম কেন্দ্র। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে তিনি স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেছেন বলে তার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়। একই সঙ্গে তিনি শ্রীমঙ্গলবাসীর নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিদায় নিয়েছেন।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এখন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। নতুন কর্মস্থলেও তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় অনেক সচেতন নাগরিক।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাফল্য শুধু অপরাধ দমন বা মামলা নিষ্পত্তির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে না; জনগণের আস্থা অর্জন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলাও তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শ্রীমঙ্গলে জহিরুল ইসলাম মুন্নার দায়িত্ব পালনকাল সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

Manual2 Ad Code

দায়িত্ব বদল হয়, কর্মস্থল পরিবর্তিত হয়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সেবার স্মৃতি দীর্ঘদিন অমলিন থাকে। শ্রীমঙ্গল থেকে কুলাউড়ায় ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্নার এই যাত্রা তাই কেবল একজন কর্মকর্তার বদলি নয়, বরং জনসেবার ধারাবাহিকতার আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ