স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের এমওইউ

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের এমওইউ

Manual7 Ad Code
  • জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে স্বাস্থ্য উন্নয়নভিত্তিক উদ্যোগে যৌথ কাজের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, পরিবেশগত স্বাস্থ্য সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য উন্নয়ন (হেলথ প্রমোশন) কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা।

তাদের মতে, একটি সুস্থ, নিরাপদ ও টেকসই সমাজ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) বোর্ডরুমে এসইউবি এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের মধ্যে স্বাস্থ্য উন্নয়ন (হেলথ প্রমোশন) বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অঙ্গীকার করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারার কারণে জনস্বাস্থ্যের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কেবল চিকিৎসা সেবা যথেষ্ট নয়; বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, তামাক ও মাদকমুক্ত জীবনযাপন, নিরাপদ পরিবেশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা—এসব বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ডা. মো. আক্তার হোসেন খান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসইউবির রেজিস্ট্রার ডা. আহমেদ হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিন এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নকে একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজের বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করা, গবেষণা পরিচালনা এবং সমাধানমুখী উদ্যোগ গ্রহণের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করবে।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক গাউস পিয়ারী, প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আক্তার এবং কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মো. শাওন মিয়া এবং এসইউবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

Manual5 Ad Code

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নকে কেবল চিকিৎসা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষা, পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা, নিরাপদ চলাচল, শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং প্রমাণভিত্তিক গবেষণা পরিচালনায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

Manual5 Ad Code

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ভবিষ্যতে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে স্বাস্থ্য উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা পরিচালনা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সংলাপ আয়োজন, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা এবং গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার এ ধরনের অংশীদারিত্ব জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, গবেষণা দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসইউবি ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুস্থ সমাজ গঠনের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

Manual3 Ad Code