হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে শ্রীমঙ্গলে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে শ্রীমঙ্গলে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ জুলাই ২০২৬ : হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অংশীজনদের নিয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা শ্রম আইন অনুসরণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং খাতটির টেকসই উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখানে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মরত রয়েছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি পর্যটন শিল্পও আরও শক্তিশালী হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

Manual2 Ad Code

সভায় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিকদের আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প দেশের পর্যটন ও সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং মানবিক দায়িত্বও। শ্রম আইন ও সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কর্মপরিবেশ আরও স্থিতিশীল হবে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনসম্মত উপায়ে তা সমাধান করা উচিত।

Manual3 Ad Code

সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক পপি রানী দে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি শ্রমিকদের আইনগত অধিকার, মজুরি নির্ধারণের বিধান, নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব, শ্রম আইন অনুযায়ী রেকর্ড সংরক্ষণ, বেতন পরিশোধের নিয়ম এবং আইন অমান্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে শ্রমিকদের চাকরির শর্ত, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুবিধাও শ্রম আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

Manual1 Ad Code

আলোচনা পর্বে বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা শ্রম আইন মেনে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাতটিতে আইনানুগ মজুরি বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ