কবি, প্রাবন্ধিক আবুল হাসনাতের জন্মবার্ষিকীতে সাহিত্য-আলোচনা শুক্রবার

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

কবি, প্রাবন্ধিক আবুল হাসনাতের জন্মবার্ষিকীতে সাহিত্য-আলোচনা শুক্রবার

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২৬ : কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও প্রথিতযশা সম্পাদক আবুল হাসনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের অন্যতম সাহিত্য সাময়িকী কালি ও কলম আয়োজন করেছে একটি বিশেষ সাহিত্য-আলোচনা অনুষ্ঠান।

আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়-এ অনুষ্ঠিত হবে ‘নবীনের সাহিত্য : স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা।

Manual1 Ad Code

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাহিত্যচর্চায় নবীন লেখকদের সম্ভাবনা, তাদের সৃজনশীল বিকাশ, সাহিত্য সাময়িকীর ভূমিকা, সম্পাদকদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান সময়ে নতুন লেখকদের সামনে থাকা সুযোগ ও সংকট—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই এবারের আয়োজন। অনুষ্ঠানে বক্তারা সমকালীন বাংলা সাহিত্যে নবীনদের অবস্থান, তাদের সৃষ্টিশীল সম্ভাবনা এবং সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠার পথে নানা বাস্তবতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন।

Manual3 Ad Code

আলোচনা সভায় অংশ নেবেন দেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, দৈনিক সংবাদ-এর সাহিত্য সম্পাদক ওবায়েদ আকাশ এবং ‘এবং বই’-এর সম্পাদক ফয়সল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, কবি, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।

নবীন সাহিত্য ও সম্পাদকের ভূমিকা

কালি ও কলমের মতে, সাহিত্যাঙ্গনে নবীনদের আগমন সব সময়ই নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করে। প্রতিটি প্রজন্মের নতুন লেখকই বাংলা সাহিত্যকে নতুন ভাষা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেন। তবে সেই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে বিকশিত করার ক্ষেত্রে সম্পাদক, সাহিত্যপত্র এবং সাহিত্য-সাময়িকীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সম্পাদক কেবল লেখা নির্বাচন করেন না; তিনি নতুন প্রতিভা আবিষ্কার, তাদের উৎসাহিত করা এবং সাহিত্য-চর্চার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সৃষ্টিশীল যাত্রায় প্রশ্ন থেকেই যায়—সব নবীন লেখকের মধ্যেই কি সম্পাদকরা সম্ভাবনার উজ্জ্বল আলো দেখতে পান, নাকি নানা সীমাবদ্ধতা, বাস্তবতা কিংবা সাহিত্যিক মানের প্রশ্নে কোথাও সৃষ্টি হয় স্বপ্নভঙ্গ? এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান এবং সমকালীন সাহিত্য বাস্তবতা নিয়ে চিন্তার খোরাক জোগাতেই এবারের আলোচনা সভার আয়োজন।

আবুল হাসনাত: সম্পাদকীয় দূরদর্শিতার এক অনন্য নাম

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে আবুল হাসনাত ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী আবুল হাসনাত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সাহিত্য সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা সাহিত্যচর্চায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্য সাময়িকী কালি ও কলম-এর সম্পাদক হিসেবে নতুন ও প্রতিষ্ঠিত—উভয় প্রজন্মের লেখকদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য-পরিসর নির্মাণ করেন। তাঁর সম্পাদনায় কালি ও কলম বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাসিক সাময়িকীতে পরিণত হয়।

এর আগে তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় দৈনিক সংবাদ-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি শিল্পবিষয়ক সাময়িকী শিল্প ও শিল্পী সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ তাঁকে একটি বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

সাহিত্য, গবেষণা ও শিশুসাহিত্যে অবদান

Manual3 Ad Code

আবুল হাসনাতের সাহিত্যকর্ম বৈচিত্র্যময়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক’, ‘কোনো একদিন ভুবনডাঙায়’, ‘ভুবনডাঙার মেঘ’ এবং ‘নধর কালো বেড়াল’।

প্রবন্ধকার হিসেবেও তিনি ছিলেন সমাদৃত। বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত শিল্পী জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসান-এর জীবন ও শিল্পকর্ম নিয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী লেখাগুলো বিশেষভাবে প্রশংসিত।

শিশুসাহিত্যেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত ‘ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়’, ‘টুকু ও সমুদ্রের গল্প’, ‘যুদ্ধদিনের ধূসর দুপুরে’, **‘রানুর দুঃখ-ভালোবাসা’**সহ একাধিক গ্রন্থ শিশু-কিশোর পাঠকদের কাছে সমাদৃত। ‘টুকু ও সমুদ্রের গল্প’ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৮২ সালে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

সাহিত্যজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ‘মাহমুদ আল জামান’ ছদ্মনামেও লেখালেখি করেছেন।

সংস্কৃতি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা

লেখালেখি ও সম্পাদনার পাশাপাশি আবুল হাসনাত দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট-এর সাবেক সহ-সভাপতি এবং বেঙ্গল পাবলিকেশন্স-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

সফলতা কামনা

কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাতের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ সাহিত্য-আলোচনা অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, আবুল হাসনাত ছিলেন এমন একজন সম্পাদক, যিনি নবীন ও প্রবীণ—উভয় প্রজন্মের সাহিত্যিকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। তাঁর সম্পাদনা-দর্শন ছিল মুক্তচিন্তা, সাহিত্যমান এবং সৃজনশীলতার বিকাশকে উৎসাহিত করা। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত ‘নবীনের সাহিত্য : স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা বর্তমান প্রজন্মের লেখকদের জন্য নতুন ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে নবীন লেখকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মানসম্মত সম্পাদনা ও সাহিত্যচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আবুল হাসনাতের জীবন ও কর্ম সেই আদর্শেরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানসূচি

– আয়োজন: কালি ও কলম (মাসিক সাহিত্যপত্র)
– বিষয়: নবীনের সাহিত্য : স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ
– তারিখ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
– সময়: বিকেল ৫টা
– স্থান: বেঙ্গল শিল্পালয়, লেভেল–৩, বাড়ি–৪২, সড়ক–২৭, ধানমন্ডি, ঢাকা
– আলোচক: ইমদাদুল হক মিলন, ওবায়েদ আকাশ ও ফয়সল আহমেদ

বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় আবুল হাসনাতের অবদান স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যচর্চা নিয়ে সমকালীন ভাবনার বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে এই আয়োজন—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন আয়োজক ও সাহিত্যসংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ