পশু-পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমী শীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই, ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

পশু-পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমী শীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই, ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

Manual3 Ad Code
  • আহত ও অসুস্থ অসংখ্য বন্যপ্রাণীকে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের পথিকৃৎ; ৮১ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু, শ্রীমঙ্গলে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ জুলাই ২০২৬ : বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অগ্রদূত, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট পশু-পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমী শীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় শ্রীমঙ্গলের রামকৃষ্ণ মিশন রোডস্থ নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, চার পুত্রবধূ, চার কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী এবং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভালোবাসা রেখে গেছেন।

শীতেশ রঞ্জন দেব ছিলেন দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি আহত, অসুস্থ, পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া কিংবা মানুষের হাতে ধরা পড়া হাজার হাজার বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর অধিকাংশ প্রাণীকেই তিনি তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করেন। শুধু প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না; নিজ হাতে অসংখ্য পশু-পাখির পরিচর্যা ও সেবা-শুশ্রূষা করেছেন। তাঁর এই নিরলস মানবিক উদ্যোগ দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে তিনি একটি কার্যকর উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশবিদ এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের কাছে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি পরিচিতি লাভ করে তাঁর নেতৃত্ব ও নিষ্ঠার কারণেই।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে জনসচেতনতা সৃষ্টি, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। প্রকৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং জীবজগতের প্রতি অসীম মমত্ববোধ তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Manual4 Ad Code

তাঁর মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক শোকবার্তায় শীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শীতেশ রঞ্জন দেব শুধু একজন বন্যপ্রাণীপ্রেমীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রকৃতি সংরক্ষণের এক নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা। তাঁর মৃত্যু দেশের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এছাড়া শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক শোকবার্তায় বলেন, শীতেশ রঞ্জন দেবের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষ বিরল। তাঁর কর্ম, দর্শন এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি অসীম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রকৃতি, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আজীবন নিবেদিত এই মানুষটির মৃত্যুতে শুধু শ্রীমঙ্গল নয়, সমগ্র দেশের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, শ্রম ও মানবিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, প্রতিষ্ঠান এবং সেবামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ