সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান

Manual2 Ad Code
  • চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে ডিআরইউর মতবিনিময় সভা; এআই প্রশিক্ষণ, কল্যাণ তহবিল, পেশাগত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬ : সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় দক্ষতা বৃদ্ধি, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-কে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিআরইউকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তারা।

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৭) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ডিআরইউ।

Manual8 Ad Code

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে আমার দেশ-এর চিফ রিপোর্টার এম আবদুল্লাহ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের জন্যও নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর সাংবাদিকদের বেতন কাঠামোয় কার্যকর কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং নবম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়িত হয়নি। এ দাবিতে ডিআরইউসহ সব সাংবাদিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে সাংবাদিকদের অবসরভাতা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ডিআরইউকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সিদ্দিক ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিক গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব গণমাধ্যম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে দেশের সাংবাদিকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

সংবাদ-এর প্রধান প্রতিবেদক সালাম জুবায়ের বলেন, ডিআরইউ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের অন্যতম আস্থার সংগঠন হিসেবে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে হবে।

Manual1 Ad Code

দৈনিক ইত্তেফাক-এর শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকতা কেবল অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, এটি পেশাগত দক্ষতারও বিষয়।

ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল-এর বিশেষ প্রতিনিধি মসিউর রহমান খান বলেন, ডিআরইউকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে পরিচালনা করতে হবে। একটি পেশাজীবী সংগঠনের মূল শক্তি তার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা।

দ্য ডেইলি স্টার-এর পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা, হয়রানি এবং পেশাগত ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আরও কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য এআইভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

দৈনিক সংগ্রাম-এর নাসির উদ্দিন শোয়েব বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব যদি সাংবাদিকদের ‘সেকেন্ড হোম’ হয়, তাহলে ডিআরইউ তাদের ‘ফার্স্ট হোম’।

তিনি সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে দুই বছর করার প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর দিদারুল আলম বলেন, তরুণ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে বাসস (ইংরেজি)-এর রাজিব হোসেন ডিআরইউর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মানবজমিন-এর লুৎফর রহমান বলেন, সংবাদ পরিবেশনের গুণগত মান উন্নয়নে ধারাবাহিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।

কালের কণ্ঠ-এর শরিফুল আলম সুমন প্রতি বছর চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

আজকের পত্রিকা-এর শহীদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি বাস্তবায়নের দাবিতে ডিআরইউকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-এর আবুল কাশেম সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় ডিআরইউকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংগঠনের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

সময়ের আলো-এর মামুন হোসেন সদস্যদের জন্য ফেলোশিপ চালু এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

রাইজিংবিডি-এর নইমুদ্দিন প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এছাড়া বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ইসমাইল হোসেন ডিআরইউর কার্যক্রমের মাল্টিমিডিয়া প্রচার জোরদারের, আমাদের সময়-এর সাজ্জাদ মাহমুদ খান ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের, দেশ রূপান্তর-এর উৎপল রায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে ব্যাংকের বুথ স্থাপনের এবং টাইমস অব বাংলাদেশ-এর সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে ভুয়া সাংবাদিকদের প্রবেশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে অতীতের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও ডিআরইউ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পেশাগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, নিম্ন বেতন, হামলা-মামলা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব সাংবাদিকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে ডিআরইউ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।

Manual2 Ad Code

সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বর্তমান কমিটি শুধু নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না; ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও কাজ করছে।

Manual5 Ad Code

তিনি জানান, ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, সদস্যদের জন্য হেলথ কর্নার, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ এবং সংগঠনের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের সন্তানদের জন্যও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা জার্নালিজম, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং, ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সময়োপযোগী বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল জানান, খুব শিগগিরই ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ চালু করা হবে। সেখানে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্যও ইংরেজি ভাষা, অ্যাবাকাস, চীনা ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, সুমন চৌধুরীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ