বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই

প্রকাশিত: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই

Manual7 Ad Code
  • রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া, আজ বাদ আসর জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, ঢাকা-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

Manual2 Ad Code

বুধবার (৩ জুন ২০২৬) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য স্মৃতি, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Manual2 Ad Code

প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার। তিনি জানান, মরহুমের জানাজার নামাজ বুধবার বাদ আসর ঢাকার বেরাইদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রেখে তাকে দাফন করা হবে।

এ কে এম রহমতুল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সাহসী সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করতে অবদান রাখেন।

রাজনীতিতে তাঁর পরিচয় শুধু একজন সংসদ সদস্য বা সংগঠক হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি ছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় অবদান রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

এ কে এম রহমতুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল। এক শোকবার্তায় তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার বিকাশে এ কে এম রহমতুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতা হিসেবে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানও এক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ ছিলেন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিকে জনকল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে আদর্শ তিনি ধারণ করতেন, তা আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

Manual1 Ad Code

প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মরহুম এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর ব্যাপক উপস্থিতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতাকে হারালো।

Manual6 Ad Code